চুরি প্রতিরোধে নিরাপত্তা কর্মীর
করণীয়।
লেখকঃ মোঃ ইজাবুল আলম
ফ্যাক্টরিতে চুরি প্রতিরোধে একজন নিরাপত্তা
কর্মীর (Security Guard) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চুরি রুখতে নিরাপত্তা কর্মীকে কঠোর নজরদারি, প্রবেশাধিকার
নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখতে হয়।
নিচে নিরাপত্তা কর্মীর প্রধান করণীয়গুলো ধাপে
ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ
১. প্রবেশ ও প্রস্থান পথ নিয়ন্ত্রণ (Access Control)
(ক) পরিচয়পত্র যাচাই: ফ্যাক্টরিতে
প্রবেশকারী প্রতিটি কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শ্রমিকের আইডি কার্ড বা পরিচয়পত্র সঠিকভাবে
পরীক্ষা করতে হবে।
(খ) দর্শনার্থী ও গাড়ি তল্লাশি: কোনো
বহিরাগত বা দর্শনার্থী আসলে তাদের নাম, ঠিকানা ও আসার কারণ রেজিস্টার খাতায় লিপিবদ্ধ
করতে হবে। ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় প্রতিটা গাড়ির (যেমন: কাঁচামাল বা পণ্যবাহী
ট্রাক) ভেতরে এবং চালকের কেবিনে ভালো করে তল্লাশি চালাতে হবে।
(গ) মালামাল গেট পাস (Gate Pass): ফ্যাক্টরি থেকে কোনো মালামাল বাইরে যাওয়ার
সময় অনুমোদিত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরযুক্ত গেট পাস আছে কিনা তা কঠোরভাবে যাচাই করতে
হবে এবং মালামালের পরিমাণের সাথে গেট পাসের মিল মিলিয়ে দেখতে হবে।
২. নিয়মিত টহল এবং নজরদারি (Patrolling
& Surveillance)
(ক) সন্দেহজনক স্থানে টহল: ফ্যাক্টরির চারপাশ, বাউন্ডারি দেয়াল, অন্ধকার কোণ, ছাদ
এবং মালামাল রাখার গুদাম বা স্টোর রুমে নিয়মিত বিরতিতে টহল (Patrolling) দিতে হবে।
(খ) সিসিটিভি মনিটরিং: সিসিটিভি
(CCTV) ক্যামেরার ফুটেজের দিকে সার্বক্ষণিক কড়া নজর রাখতে হবে। কোনো এলাকায় সন্দেহজনক
চলাফেরা দেখলে সাথে সাথে সেখানে গিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে।
(গ) তালা ও সিল পরীক্ষা: ডিউটি
পরিবর্তনের সময় বা রাতে ফ্যাক্টরি বন্ধের পর সব গুদাম, লকার এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘরের
তালা ও সিকিউরিটি সিল ঠিক আছে কিনা তা হাত দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে।
৩. সন্দেহজনক আচরণ ও তল্লাশি (Body
Search)
(ক) বডি সার্চ বা দেহ তল্লাশি: ছুটির
সময় বা শিফট পরিবর্তনের সময় শ্রমিক ও কর্মচারীরা যখন ফ্যাক্টরি থেকে বের হন, তখন মেটাল
ডিটেক্টর বা নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ বডি সার্চ করতে হবে, যাতে কেউ লুকিয়ে কোনো পার্টস বা
কাঁচামাল বাইরে নিয়ে যেতে না পারে।
(খ) পকেট ও ব্যাগ পরীক্ষা: কর্মীদের
সাথে থাকা ব্যাগ, টিফিন ক্যারিয়ার বা অন্যান্য জিনিসপত্র গেটে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চেক
করতে হবে।
৪. জরুরি পরিস্থিতি ও যোগাযোগ
(Communication & Reporting)
(ক) তাৎক্ষণিক রিপোর্ট: কোনো
চুরি বা চুরির চেষ্টা ধরা পড়লে সাথে সাথে ফ্যাক্টরির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ (যেমন: সিকিউরিটি
ইনচার্জ বা অ্যাডমিন) এবং প্রয়োজনে স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করতে হবে।
(খ) লগবুক সংরক্ষণ: প্রতিদিনের ডিউটির বিবরণ, কোনো অস্বাভাবিক
ঘটনা বা সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তির তথ্য বিস্তারিতভাবে সিকিউরিটি লগবুকে লিখে রাখতে হবে।
৫. সততা ও সতর্কতা (Integrity &
Alertness)
(ক) অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ রোধ: অনেক
সময় চুরির ঘটনায় ভেতরের কর্মীদের হাত থাকে। তাই কোনো কর্মীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে
তার ওপর গোপন নজরদারি বাড়াতে হবে।
(খ) ঘুষ বা প্রলোভন প্রত্যাখ্যান: চোর বা অসাধু চক্রের কোনো ধরনের প্রলোভন বা
ঘুষের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। নিজের দায়িত্ব সততার সাথে পালন করতে হবে।
শ্রম আইন অনুযায়ী চুরির শাস্তি
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে
চুরি বা চুরির মতো অপরাধসমূহ 'অসদাচরণ' হিসেবে গণ্য হয় । এই ধরনের অপরাধের জন্য মালিক
পক্ষ অভিযুক্ত শ্রমিকের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত সাপেক্ষে বরখাস্ত বা ছাঁটাইয়ের মতো
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়া চুরির ঘটনার গুরুত্ব ও প্রকৃতির ওপর ভিত্তি
করে মালিক চাইলে যথাযথ প্রমাণসহ ফৌজদারি আদালতের মাধ্যমে আইনগত পদক্ষেপও নিতে পারেন
।
শ্রম আইনের প্রেক্ষাপটে কিছু গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়:
অসদাচরণ হিসেবে গণ্য:
প্রতিষ্ঠানের কোনো মালামাল বা সম্পদের চুরি,
প্রতারণা বা জালিয়াতি শ্রমিকের অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা:
অসদাচরণের দায়ে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী
শ্রমিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে বরখাস্ত করা যেতে পারে।
ফৌজদারি আইন:
চুরি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ, যার জন্য দণ্ডবিধির
অধীনে শাস্তির বিধান রয়েছে [৬, ৭]। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি
অপরাধ হিসেবে চুরির দায়ে সাধারণ আইনের অধীনে মামলা করা সম্ভব।
প্রক্রিয়া:
যে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আগে অভিযুক্ত
শ্রমিককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয় এবং যথাযথ তদন্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আইনত
আবশ্যক।
প্রতিষ্ঠানভেদে নিজস্ব আচরণবিধি বা সার্ভিস
রুলস থাকতে পারে, যেখানে চুরির মতো অপরাধের জন্য সুনির্দিষ্ট শাস্তির উল্লেখ থাকে।
এক্ষেত্রে আপনার প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস রুলস বা এমপ্লয়ি হ্যান্ডবুকটিও যাচাই করে দেখা
প্রয়োজন।
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬
দ্বিতীয় অধ্যায়
অসদাচরণ এবং দণ্ড-প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শাস্তি
২৩। (১) এই আইনে লে-অফ, ছাঁটাই, ডিসচার্জ এবং
চাকুরীর অবসান সম্পর্কে অন্যত্র যাহা কিছুই বলা হউক না কেন, কোন শ্রমিককে বিনা নোটিশে
বা নোটিশের পরিবর্তে বিনা মজুরীতে চাকুরী হইতে বরখাস্ত করা যাইবে, যদি তিনি-
(ক) কোন ফৌজদারী অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত
হন; অথবা
(খ) ধারা ২৪ এর অধীন অসদাচরণের অপরাধে দোষী
সাব্যস্ত হন।
(২) অসদাচরণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কোন শ্রমিককে
উপ-ধারা (১) এর অধীন চাকুরী হইতে বরখাস্তের পরিবর্তে, বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে,
নিম্নলিখিত যে কোন শাস্তি প্রদান করা যাইবে, যথাঃ-
(ক) অপসারণ;
(খ) নীচের পদে, গ্রেডে বা বেতন স্কেলে অনধিক
এক বৎসর পর্যন্ত আনয়ন;
(গ) অনধিক এক বৎসরের জন্য পদোন্নতি বন্ধ;
(ঘ) অনধিক এক বৎসরের জন্য মজুরী বৃদ্ধি বন্ধ;
(ঙ) জরিমানা;
(চ) অনধিক সাত দিন পর্যন্ত বিনা মজুরীতে বা
বিনা খোরাকীতে সাময়িক বরখাস্ত;
(ছ) ভর্ৎসনা ও সতর্কীকরণ।
1[(৩) উপ-ধারা (২) (ক) এর অধীন 2[বরখাস্তকৃত
বা] অপসারিত কোন শ্রমিককে, যদি তাহার অবিচ্ছিন্ন চাকুরীর মেয়াদ অন্যুন এক বৎসর হয়,
মালিক ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রত্যেক সম্পুর্ণ চাকুরী বৎসরের জন্য ১৫ দিনের মজুরী প্রদান
করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন শ্রমিককে উপ-ধারা (৪)
(খ) ও (ছ) এর অধীন অসদাচরণের জন্য বরখাস্ত করা হইলে তিনি কোন ক্ষতিপূরণ পাইবেন না।
তবে এইরূপ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক তাহার অন্যান্য আইনানুগ পাওনাদি যথা নিয়মে পাইবেন।]
(৪) নিম্নলিখিত কাজ করা অসদাচরণ বলিয়া গণ্য
হইবে, যথাঃ-
(ক) উপরস্থের কোন আইনসংগত বা যুক্তিসংগত আদেশ
মানার ক্ষেত্রে এককভাবে বা অন্যের সঙ্গে সংঘবদ্ধ হইয়া ইচ্ছাকৃতভাবে অবাধ্যতা;
(খ) মালিকের ব্যবসা বা সম্পত্তি সম্পর্কে চুরি,
3 [আত্মসাৎ,] প্রতারণা বা অসাধুতা;
(গ) মালিকের অধীন তাঁহার বা অন্য কোন শ্রমিকের
চাকুরী সংক্রান্ত ব্যাপারে ঘুষ গ্রহণ বা প্রদান;
(ঘ) বিনা ছুটিতে অভ্যাসগত অনুপস্থিতি অথবা
ছুটি না নিয়া এক সঙ্গে দশ দিনের অধিক সময় অনুপস্থিতি;
(ঙ) অভ্যাসগত বিলম্বে উপস্থিতি;
(চ) প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য কোন আইন, বিধি বা
প্রবিধানের অভ্যাসগত লঙ্ঘন;
4[(ছ) প্রতিষ্ঠানে উচ্ছৃংখলতা, দাংগা-হাংগামা,
অগ্নিসংযোগ বা ভাংচুর;]
(জ) কাজে-কর্মে অভ্যাসগত গাফিলতি;
(ঝ) প্রধান পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত চাকুরী
সংক্রান্ত, শৃঙ্খলা বা আচরণসহ, যে কোন বিধির অভ্যাসগত লঙ্ঘন;
(ঞ) মালিকের অফিসিয়াল রেকর্ডের রদবদল, জালকরণ,
অন্যায় পরিবর্তন, উহার ক্ষতিকরণ বা উহা হারাইয়া ফেলা।
(৫) উপ-ধারা (১) (ক) এর অধীন বরখাস্তকৃত কোন
শ্রমিক যদি আপীলে খালাস পান, তাহা হইলে তাহাকে তাহার পূর্বতন পদে বহাল করিতে হইবে,
অথবা নূতন কোন উপযুক্ত পদে তাহাকে নিয়োগ করিতে হইবে, এবং যদি ইহার কোনটিই সম্ভব না
হয়, তাহা হইলে তাহাকে ডিসচার্জকৃত কোন শ্রমিককে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের সমান হারে ক্ষতিপূরণ
প্রদান করিতে হইবে, তবে বরখাস্ত হওয়ার কারণে ইতিমধ্যে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের টাকা ইহা
হইতে বাদ যাইবে।
জরুরি পরিস্থিতিতে একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর গাইডলাইন
একটি ফ্যাক্টরির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
করতে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করতে একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর
গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো। এটিকে আপনার ফ্যাক্টরির ধরন অনুযায়ী কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন।
১. দৈনিক ও সাপ্তাহিক সিকিউরিটি চেকলিস্ট (Security Checklist)
ফ্যাক্টরির সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে সিকিউরিটি
টিমকে প্রতিদিন এবং প্রতি সপ্তাহে এই বিষয়গুলো পরীক্ষা করতে হবেঃ
প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ (Access Control)
(ক)
আইডি কার্ড পরীক্ষা: ফ্যাক্টরির প্রবেশপথে প্রতিটি কর্মকর্তা,
কর্মচারী ও শ্রমিকের আইডি কার্ড ও ইউনিফর্ম চেক করা হচ্ছে কিনা।
(খ)
ভিজিটর রেজিস্টার: বহিরাগত বা দর্শনার্থীদের নাম, মোবাইল নম্বর,
আসার কারণ, কার সাথে দেখা করবেন এবং প্রবেশের/বাহিরের সময় রেজিস্টার খাতায় লিপিবদ্ধ
করা।
(গ)
যানবাহন তল্লাশি: পণ্যবাহী বা অন্য যেকোনো গাড়ি ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণে
প্রবেশের সময় আন্ডার-ভেহিকল মিরর (Vehicle Mirror) দিয়ে তল্লাশি করা।
(ঘ)
লক ও সিল: কাজের শিফট শেষে মূল গুদাম (Warehouse), ক্যাশ রুম এবং
গুরুত্বপূর্ণ সেকশনের তালা ও সিল সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কিনা তা যাচাই করা।
নজরদারি ও প্রযুক্তি (Surveillance & Tech)
(ক)
সিসিটিভি ক্যামেরা: সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা সচল আছে কিনা
এবং কোনো ব্লাইন্ড স্পট (Blind Spot) তৈরি হয়েছে কিনা তা প্রতিদিন চেক করা।
(খ)
কন্ট্রোল রুম: মনিটরিং স্ক্রিন ২৪/৭ সচল রাখা এবং ব্যাকআপ
স্টোরেজে পর্যাপ্ত মেমোরি আছে কিনা নিশ্চিত করা।
(গ)
লাইটিং সিস্টেম: সীমানা প্রাচীর (Boundary Wall), প্রবেশপথ
এবং ফ্যাক্টরির ভেতরের অন্ধকার গলিগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা (বিশেষ করে রাতের
শিফটের জন্য)।
২. অগ্নিনিরাপত্তা চেকলিস্ট (Fire Safety Checklist)
(ক)
অগ্নিসংকেত (Fire Alarm): প্রতি সপ্তাহে ফায়ার অ্যালার্ম এবং স্মোক
ডিটেক্টরগুলো (Smoke Detector) কাজ করছে কিনা তা টেস্ট করা।
(খ)
অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (Fire Extinguisher): প্রতিটি ফায়ার এক্সটিংগুইশারের
প্রেসার গেজ ঠিক আছে কিনা এবং সেগুলোর এক্সপায়ারি ডেট (মেয়াদ) পার হয়ে গেছে কিনা তা
প্রতি মাসে পরীক্ষা করা।
(গ)
অগ্নি নির্বাপণ পথ (Fire Exit): ফ্যাক্টরির ভেতরের ফায়ার
এক্সিট বা জরুরি বের হওয়ার রাস্তাগুলো সবসময় সম্পূর্ণ উন্মুক্ত (কোনো মালামাল বা বাধা
ছাড়া) রাখা।
(ঘ)
পানির উৎস: ফায়ার হাইড্রেন্ট (Fire Hydrant) বা পানির রিজার্ভ ট্যাঙ্কে
পর্যাপ্ত পানি ও প্রেসার আছে কিনা তা নিশ্চিত করা।
৩. জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার গাইডলাইন (Emergency Response Plan)
যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ফ্যাক্টরির
কর্মীদের করণীয় নির্ধারণ করে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের (SOP) সংক্ষিপ্ত রূপ
নিচে দেওয়া হলোঃ
ক. অগ্নিকাণ্ড ঘটলে (In Case of Fire)
(১)
অ্যালার্ম বাজানো: আগুন দেখামাত্রই নিকটস্থ ফায়ার অ্যালার্মের
গ্লাস ভেঙে বা বোতাম চেপে সবাইকে সতর্ক করুন।
(২)
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন: তাৎক্ষণিকভাবে ফ্যাক্টরির মেইন সুইচ
বা সাব-স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিন।
(৩)
উদ্ধার ও স্থানান্তর: পূর্বনির্ধারিত "Emergency Assembly
Point" বা নিরাপদ স্থানে সকল কর্মীকে শান্তভাবে সারিবদ্ধভাবে নিয়ে যান। কোনো অবস্থাতেই
তাড়াহুড়ো বা লিফট ব্যবহার করবেন না (যদি থাকে)।
(৪)
ফায়ার সার্ভিসকে কল: সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের স্থানীয় স্টেশন
এবং জাতীয় জরুরি সেবা (যেমন: ১০২ বা ৯৯৯) নম্বরে ফোন করে সঠিক ঠিকানা জানান।
(৫)
প্রাথমিক নেভানো: আগুন ছোট হলে এবং নিয়ন্ত্রণে থাকার মতো হলে
প্রশিক্ষিত ফায়ার ফাইটিং টিম দিয়ে এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করে নেভানোর চেষ্টা করুন।
খ. শ্রমিক অসন্তোষ বা বহিরাগত আক্রমণ (Labor Unrest / Intrusion)
(১)
গেট লকডাউন: ফ্যাক্টরির সমস্ত প্রবেশদ্বার এবং পকেট গেট
সাথে সাথে বন্ধ ও লক করে দিন।
(২)
কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ: ফ্যাক্টরি ম্যানেজমেন্ট, এইচআর (HR) এবং সিকিউরিটি
ইন-চার্জকে দ্রুত অ্যালার্ট করুন।
(৩)
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী: পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে
দেরি না করে স্থানীয় থানা বা পুলিশকে খবর দিন।
(৪)
গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষা: ক্যাশ রুম, আইটি সার্ভার রুম এবং গুরুত্বপূর্ণ
নথিপত্রের রুমগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করুন।
(৫)
শান্ত থাকা: উসকানিমূলক আচরণ এড়িয়ে চলুন এবং সিসিটিভি
ফুটেজ বা ভিডিও রেকর্ডিং সচল রাখুন যাতে পরবর্তীতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
গ. বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা মেডিকেল ইমার্জেন্সি (Medical Emergency)
(১)
ফার্স্ট এইড: তাৎক্ষণিকভাবে ফ্যাক্টরির ফার্স্ট এইড টিম
বা অন-ডিউটি ডাক্তার/নার্সকে দুর্ঘটনাস্থলে ডাকুন।
(২)
অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত: গুরুতর ক্ষেত্রে কারখানার নিজস্ব গাড়ি
বা অ্যাম্বুলেন্সকে প্রস্তুত রাখুন।
(৩)
নিকটস্থ হাসপাতাল: আগে থেকেই চুক্তিবদ্ধ বা নিকটস্থ হাসপাতালের
ইমার্জেন্সি বিভাগের নম্বর দৃশ্যমান স্থানে রাখুন এবং রোগীকে দ্রুত সেখানে স্থানান্তরের
ব্যবস্থা করুন।
৪. টেকসই নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত কিছু পরামর্শ
(ক)
মক ড্রিল (Mock Drill): প্রতি ৩ বা ৬ মাস পর পর কারখানায় অগ্নি
নির্বাপণ এবং জরুরি বহির্গমনের ওপর বাস্তবসম্মত 'মক ড্রিল' বা মহড়ার আয়োজন করুন।
(খ)
যোগাযোগের তালিকা (Emergency Contacts): ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স,
স্থানীয় হাসপাতাল এবং ফ্যাক্টরির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর বড় অক্ষরে নোটিশ বোর্ডে
এবং সিকিউরিটি গেটে ঝুলিয়ে রাখুন।
(গ)
প্রশিক্ষণ: নিরাপত্তা কর্মীদের নিয়মিত ফায়ার ফাইটিং, ফার্স্ট এইডসহ নিরাপত্তামূলক অন্যান্য
বিষয়ে বেসিক ট্রেনিং প্রদান করা।
(সমাপ্ত)
আরও পড়ুন- অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ গাইড


No comments:
Post a Comment