Monday, December 1, 2025

ভূমিকম্প নিরাপত্তায় করণীয়। লেখক মোঃ ইজাবুল আলম

ভূমিকম্প নিরাপত্তায় করণীয়

মোঃ ইজাবুল আলম

ভূমিকাঃ  বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভূমিকম্প একটি আতঙ্কের নাম হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নগর জীবনে ভূমিকম্প ভীত সত্যিই বেশি। ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কিছু অঞ্চল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। কারণ ঢাকার বেশিরভাগ ভবনই ভূমিকম্প নিরোধক নয়। এমতাবস্থায় বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে দুর্যোগ নেমে আসবে।

এছাড়া বিজ্ঞানীরা বহু দিন ধরে বলে আসছে যে, বড় ধরনের ভুমিকম্পের ঝুঁকির মুখে আছে বাংলাদেশ। কবে সেই ভূমিকম্প আঘাত হানবে তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও সতর্কতার বিকল্প নেই।

ভূমিকম্প কী

ভূমিকম্প হচ্ছে ভূমির কম্পন। ভূ অভ্যন্তরে যখন একটি শিলা অন্য একটি শিলার উপরে উঠে আসে তখন ভূমি কম্পন হয়। পৃথিবীপৃষ্ঠের অংশবিশেষের হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন বা আন্দোলনই ভূমিকম্পন। হঠাৎ যদি ঘরের কোনো জিনিস দুলতে শুরু করে—যেমন, দেয়ালঘড়ি, টাঙানো ছবি বা খাটসহ অন্য যেকোন আসবাব—বুঝতে হবে ভূমিকম্প হচ্ছে। সহজ কথায় পৃথিবীর কেঁপে ওঠাই ভূমিকম্প।

সারা পৃথিবীতে বছরে গড়ে ছয় হাজার ভূমিকম্প হয়। এগুলোর বেশিরভাগই মৃদু, যেগুলো আমরা টের পাই না। সাধারণত তিন ধরনের ভূমিকম্প হয়ে থাকে—প্রচণ্ড, মাঝারি ও মৃদু। আবার উৎসের গভীরতা অনুসারে ভূমিকম্পকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়—অগভীর, মধ্যবর্তী ও গভীর ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ভূ-পৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে অগভীর, ৭০ থেকে ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে মধ্যবর্তী এবং ৩০০ কিলোমিটারের নিচে হলে তাকে গভীর ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ভূমিকম্প কেন হয়

ভূ-অভ্যন্তরে স্থিত গ্যাস যখন ভূ-পৃষ্ঠের ফাটল বা আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে তখন সেই গ্যাসের অবস্থানটি ফাঁকা হয়ে পড়ে আর পৃথিবীর উপরের তলের চাপ ওই ফাঁকা স্থানে দেবে গিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে। তখনই ভূ-পৃষ্ঠে প্রবল কম্পনের অনুভব হয় যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত। সাধারণত তিনটি প্রধান কারণে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়ে থাকে—ভূ-পৃষ্ঠের হঠাৎ পরিবর্তন জনিত কারণে, আগ্নেয়গিরি সংঘটিত হওয়ার কারণে ও শিলাচ্যুতি জনিত কারণে।

ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব

ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব সাধারণত কয়েক সেকেন্ড হয়ে থাকে। কিন্তু এই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হয়ে যেতে পারে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। ভূমিকম্পের মাত্রা অনুযায়ী ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহৃত হয় তার নাম রিখটার স্কেল। রিখটার স্কেলে এককের সীমা ১ থেকে ১০ পর্যন্ত। এই স্কেলে মাত্রা ৫-এর বেশি হওয়া মানেই ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা। ভূমিকম্প এক ডিগ্রি বৃদ্ধি পেলে এর মাত্রা ১০ থেকে ৩২ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা—৫ – ৫.৯৯ মাঝারি, ৬ – ৬.৯৯ তীব্র, ৭ – ৭.৯৯ ভয়াবহ এবং ৮-এর উপর অত্যন্ত ভয়াবহ।


ভুমিকম্পের সময় আমাদের করণীয়

বন্যা, জলোচ্ছাস, সুনামী বা আবহওয়ার পূর্বাভাস দেয়ার যন্ত্র বের হলেও অদ্যবধি ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়ার যন্ত্র আবিস্কৃত হয় নি। তবে ভূমিকম্প শুরু হলে তার স্থায়িত্ব কাল নির্ণয়ের রিক্টার স্কেল নামক একটি যন্ত্র আছে।যেহেতু ভূমিকম্পের আগাম তথ্য বা পূর্বাভাস জানার কোনো উপায় নাই এবং ভূমিকম্প কোন দিন কখন শুরু হবে সেটাও জানার কোনো উপায় নাই তাই আমাদেরকে প্রশিক্ষণ গ্রহনের মাধ্যমে সর্বদা সচেতন ও সতর্কাবস্থায় বসবাস করতে হবে।

প্রশিক্ষণে আমরা তিনটি করণীয় সম্পর্কে জানবো। তা হলোঃ

১। ভূমিকম্পের পূর্বে করণীয়।

২। ভূমিকম্পের সময় করণীয়।

৩। ভূমিকম্পের পর করণীয়।

ভূমিকম্পের পূর্বে করণীয়

ভূমিকম্প কখন শুরু হবে, কি হবে না সে চিন্তাভাবনা না করে আমরাঃ-

১। বিপদ চিহ্নিতকরণঃ যে বাড়িতে বা প্রতিষ্ঠানে বসবাস করছি বা কাজ করছি সেখানে বিপদ চিহ্নিত করতে হবে।

২। প্রস্থানের রাস্তা উন্মুক্তকরণঃ বাসা, বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালীন ভূমিকম্প শুরু হলে যাতে দ্রুত বের হওয়া যায় এমন সব দরজা উন্মুক্ত রাখতে হবে।সিঁড়ি বা দরজার সামনে কখনো কোনো মালপত্র রেখে যাতায়াতের রাস্তা সংকীর্ণ বা চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।

৩। উঁচু ও শক্ত আসবাব পত্রঃ রুমের মধ্যে নিরাপদ স্থানে উঁচু ও শক্ত আসবাব পত্র রাখতে হবে। যাতে ভূমিকম্প শুরু হলে এই সব আসবাব পত্রের নীচে বা পার্শ্বে লুকানো যায়।

৪। দূর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনাঃ একটি দূর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এবং পরিকণ্পনাগুলো পরিবার বা অফিস স্টাফদের সাথে আলোচনা করতে হবে।

৫। প্রাথমিক চিকিৎসাঃ ভুমিকম্পের সময় অনেকের হাত, পা বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গের ক্ষয় ক্ষতি হতে পারে। সে জন্য আমাদেরকে পূর্ব থেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

৬। প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংরক্ষণকরণঃ বড় ধরণের ভূমিকম্প হলে বিল্ডিং ধ্বসে পড়তে পারে। সে সময় অনেকে ধ্বংস স্তুপের নীচে আটকা পড়ে। অথবা হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। সে জন্য পূর্ব থেকেই খাবার পানি, প্রাথমিক চিকিৎসার ঔষধ, টর্চ লাইট, টিন জাত খাবার বা শুকনো খাবার, বাঁশি ইত্যাদি মজুত রাখতে হবে।

ভূমিকম্পের সময় করণীয়

(ক)  ভূমিকম্পের সময় ঘরের ভেতরে বা অফিসে থাকলে করণীয়ঃ

১. ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সাথে সাথে মাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে বসে পড়তে হবে, শক্ত-মজবুত কোনো আসবাবের নিচে ঢুকে যেতে হবে এবং সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের দেহের মধ্যে মাথা হলো সবচেয়ে নমনীয় অঙ্গ, আসবাবের আশ্রয় না পেলে হাত দিয়ে মাথা রক্ষা করতে হবে। ধ্বংসস্তুপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মাথা ও গলা হাত দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এ পদ্ধতিকে ড্রপ, কভার এবং হোল্ড অন বলে।




২. নিরাপদ আসবাবপত্র না পেলে ঘরের ভেতরের দিকের দেয়ালের নিচে বসে আশ্রয় নিতে হবে। বাইরের দিকের দেয়াল বিপজ্জনক।

৩. জানালার কাঁচ, আয়না, আলমারি, দেয়ালে ঝুলানো বস্তু থেকে দূরে থাকতে হবে। এগুলো ভেঙে মাথায় পড়তে পারে, তাই সতর্ক থাকতে হবে।

৪. কম্পন না থামা পর্যন্ত যেকোনো শক্ত জিনিস ধরে রাখতে হবে। যদি বিছানায় থাকেন সেখানেই শুয়ে থাকতে হবে। মাথা ও গলা বালিশ দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।

৫. বহুতল ভবনের ওপরের দিকে অবস্থান করলে ঘরের ভেতরে থাকাই ভাল। কারণ, নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর পূর্বেই ভূমিকম্পের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া নামতে নামতেও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

৬. ভূকম্পন থেমে গেলে বের হয়ে আসতে হবে।

৭. নিচে নামতে চাইলে কোনোভাবেই লিফট ব্যবহার করা যাবে না। সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে নামতে হবে। নামার সময় মোবাইল ফোন আর ঘরের চাবিটা সম্ভব হলে হাতে নিতে হবে।

৮। ঘরে হেলমেট  জাতীয় কিছু থাকলে দ্রুত নিজের মাথায় পরতে হবে ও অন্যদের পরতে বলতে হবে।

৯। রাতে ঘুমানোর সময় ভুমিকম্প হলে কোন হুড়াহুড়ি না করে গড়িয়ে মেঝেতে কুন্ডলি পাকিয়ে শুয়ে পড়তে হবে বিছানাকে ঢাল বানিয়ে। খেয়াল রাখতে হবে যেন বিচানার নীচে চলে না যান, বিছানার পাশে আশ্রয় নিতে হবে।

১০। বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়ার সময় সিলিং কোন অবজেক্টের ওপর পড়ে একে গুঁড়িয়ে দেয়, ঠিক তার পাশেই ছোট্ট একটি খালি জায়গা থাকে। একে বলা হয় ‘সেফটি জোন’ বা ‘ট্রায়াঙ্গল অফ লাইফ’। তাই ভূমিকম্পের সময় বড় কোন সোফা বা বড় কোন অবজেক্ট যেটা কম কম্প্রেস করবে- এ রকম কিছুর পাশে আশ্রয় নিলে বাঁচার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

১১। ভূমিকম্পের সময় জানালা বা বারান্দা দিয়ে লাফ দেয়া যাবে না।

১২। বাসা বাড়ি বা অফিস কিংবা কারখানায় থাকলে দ্রুত বৈদ্যুতিক সুইচ ও গ্যাস লাইন বন্ধ করে দিতে হবে।

১৩। টাকা-পয়সা, সোনা-দানা কোন কিছু সংগে নেওয়ার লোভে অযথা সময় নষ্ট করা যাবে না।

 (খ)  অফিস বা বাড়ির বাইরে থাকলে করণীয়:

১. খোলা জায়গা খুঁজে আশ্রয় নিতে হবে। বহুতল ভবনের প্রান্তভাগের নিচে কোনোভাবেই দাঁড়ানো যাবে না। উপর থেকে খণ্ড পড়ে আহত হতে পারেন।

২. লাইট পোস্ট, বিল্ডিং, ভারি গাছ অথবা বৈদ্যুতিক তার ও পোলের নিচে দাঁড়ানো যাবে না।

৩. রাস্তায় ছোটাছুটি করা যাবে না। মাথার উপর কাচের টুকরা, ল্যাম্প পোস্ট অথবা বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

(গ)  চলমান গাড়িতে থাকলে করণীয়ঃ

১. তৎক্ষণাৎ গাড়ি থামিয়ে খোলা জায়গায় পার্ক করে গাড়ির ভেতরেই আশ্রয় নিতে হবে।

২. কখনই ব্রিজ, ফ্লাইওভারে থামা যাবে না।

৩. বহুতল ভবন কিংবা বিপজ্জনক স্থাপনা থেকে দূরে গাড়ি থামাতে হবে।

৪. ভূমিকম্প না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরেই অপেক্ষা করতে হবে।

ভূমিকম্পের পরে করণীয়

১। ভূমিকম্প শেষ হলেও আবারও কম্পন হতে পারে সে জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রায়ই দেখা যায় পরপর কয়েকবার কম্পন হয়। আবার এক ঘণ্টার মধ্যে দুই বারও কম্পন হয়ে যায়। কখনও এক মাসের মধ্যেও ভূমিকম্প হতে পারে। তাই একবার ভূমিকম্প হওয়ার পর আবারও হতে পারে সে ব্যাপারে সাবধান ও সতর্ক থাকতে হবে।

২। যথা সম্ভব শান্ত থাকতে হবে।

৩। উপর থেকে ঝুলন্ত জিনিসপত্র কিছুক্ষণ পরেও পড়তে পারে। তাই নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে।

৪। নিজে আহত কিনা পরীক্ষা করতে হবে, তারপর অপরকে সাহায্য করতে হবে। বাড়ি ঘরের ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। নিরাপদ না হলে সবাইকে নিয়ে বের হয়ে যেতে হবে।

৫। গ্যাসের সামান্যতম গন্ধ পেলে জানালা খুলে বের হয়ে যেতে হবে এবং দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে।

৬। কোথাও বৈদ্যুতিক স্পার্ক চোখে পড়লে মেইন সুইচ বা ফিউজ বন্ধ করে দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বিল্ডিং থেকে সাবধান থাকতে হবে। অগ্নিকাণ্ড হতে পারে।তাই সতর্ক থাকতে হবে।

৭। আহতদের খুঁজে বের করতে হবে।এবং তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। মারাত্মক জখম হলে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৮। অগ্নি, গ্যাস লিক, ক্ষতি গ্রস্ত তার ও পতনশীল বস্তু চেক করতে হবে।

৯। যতক্ষণ পর্যন্ত অফিস বা বাসা বাড়ির নিরাপদ নিশ্চিত না হওয়া যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত কক্ষে প্রবেশ করা যাবে না।

ধ্বংসস্তুপে আটকা পড়লে করণীয়


১. আগুন জ্বালানো যাবে না। বাড়িটিতে গ্যাসের লাইন লিক থাকলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

২. ধুলোবালির মধ্যে পড়লে হাত অথবা রুমাল দিয়ে নাক মুখ ঢেকে নিতে হবে।

৩.ধীরে নড়াচড়া করতে হবে এবং উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকতে হবে।কাছে টর্চ লাইট বা মোবাইল থাকলে ধ্বংসস্তুপের ফাঁক দিয়ে আলো জ্বালিয়ে বাহিরে আলোর সংকেত প্রেরণ করে নিজের অবস্থান জানানোর চেষ্টা করতে হবে।হাতের কাছে বাঁশি থাকলে তা বাজিয়েও নিজের অবস্থান জানানো যেতে পারে। এছাড়া উদ্ধার কাজের সময় নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে পাইপ অথবা দেয়ালে আস্তে আস্তে টোকা দিয়ে শব্দ করা যেতে পারে। চিৎকার না করাটাই শ্রেয়, এতে প্রচুর পরিমাণে ধূলা নিঃশ্বাসের সাথে ঢুকে যেতে পারে।

উপসংহারঃ ভূমিকম্প হলে অনেককেই দিশেহারা হয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এটা মোটেও উচিৎ নয়। কারণ, এই অহেতুক ছোটাছুটি অনেক সময় আরও বেশি বিপদ হয়ে দেখা দেয়। তাই ভূমিকম্পকালে দিশেহারা ছোটাছুটি না করে মাথা ঠান্ডা রেখে নিজেকে বাঁচানোর সঠিক করণীয়গুলো পালন করতে হবে।তিনটি জিনিস মনে রাখতে হবে। ঝুঁকে পড়া, ঢেকে রাখা ও ধরে রাখা।

 

প্রশ্নোত্তর পর্ব

?

ধন্যবাদ

..............................................................

ভূমিকম্প সংক্রান্ত প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর

1. পৃথিবীর সর্বাধিক ভূমিকম্প ও সুনামিপ্রধান দেশ: জাপান

2. বিজ্ঞানের শাখা যা ভূমিকম্প আলোচনা করে: ভূতত্ত্ব (Seismology)

3. ভূমিকম্পের তীব্রতমাপক স্কেল: ম্যাগনিচুড স্কেল (Richter scale)

4. ভূমিকম্প তরঙ্গের তীব্রতা ও গতিবিধির রেখাচিত্র অঙ্কন: সিসমোগ্রাফ (Seismograph)

5. আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্র: প্যাসিফিক সিসমিক নেটওয়ার্ক, যুক্তরাষ্ট্র (Pacific Seismic Network, USA) বা অনেক সময় জাপানের সেন্দাই (Sendai) উল্লেখ করা হয়

6. পৃথিবীতে সংঘটিত ভূমিকম্পের কত শতাংশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় বলয়ে সৃষ্টি হয়: প্রায় 90%

7. কোন ভূমিরূপে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বেশি: সীমানা অঞ্চল বা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল যেমন পর্বতমালা অঞ্চলে

8. মহারাষ্ট্রের কয়নাতে কৃত্রিম ভূমিকম্পের কারণ: জীবাশ্ম ইন্ধন উত্তোলন বা খনিজ অনুসন্ধানের জন্য বিভিন্ন কৃত্রিম পরীক্ষার জন্য (যেমন স্পেক্ট্রাল সীসমিক পরীক্ষা)

9. ভূমিকপ পরিলেখ মন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করা হয়: সিসমোগ্রাফ (Seismometer) দ্বারা

10. ভারতের ভূমিকম্পের দিক থেকে নিরাপদ শহর: চেন্নাই বা শিলিগুড়ি (কম ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায়)

11. আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প সমীক্ষা কেন্দ্র: আন্তর্জাতিক সিসমোলজিক্যাল সেন্টার, নিউইয়র্ক (International Seismological Centre, UK)

12. ভূমিলিখ যন্ত্রের আবিস্কারক: চার্লস রিচটার (Charles Richter)

13. ভূমিকপের ফলে ক্ষয়ক্ষতি সর্বাধিক হয়: জনবহুল ও অপরিকল্পিত নগর এলাকায়

14. ভূমিকপের উৎপত্তিস্থলের ঠিক উপরে ভূপৃষ্ঠে অবস্থিত স্থান: এপিসেন্টার (Epicenter)

15. শব্দ তরঙ্গের ন্যায় গতি: প্রাথমিক তরঙ্গ বা 'P' তরঙ্গের মতো কুশল (Compressional) তরঙ্গ

16. তরল ও কঠিন উভয় মাধ্যমে অভিক্লস (Propagation) করে: প্রাথমিক তরঙ্গ (P-waves)

17. দ্রুততম টুকন্দ্রীয় তরঙ্গ: প্রাথমিক তরঙ্গ (P-wave)

18. প্রাথমিক তরঙ্গ: সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে চলাচলকারী কম্প্রেশনাল তরঙ্গ, যা দ্রুতগতিতে সঞ্চার হয়

19. আলোক তরঙ্গের ন্যায় গতি: প্রাথমিক তরঙ্গের গতি কারণ উভয়ই তরঙ্গগতির দ্রুততম ধরনের

20. পৃষ্ট তরঙ্গ: সেকেন্ডারি তরঙ্গ (S-wave) বা শিয়ার তরঙ্গ যা ভূ-পৃষ্ঠ বরাবর চলে

21. স্বীংসাত্মক ভূশম্মীয় তরঙ্গ: পৃষ্ঠতল তরঙ্গ (Surface waves), বিশেষত রেলে তরঙ্গ (Rayleigh waves)

22. ভূপৃষ্ঠ বরাবর অনুভূমিকভাবে সমকোণে ধাবিত হয়: শিয়ার তরঙ্গ (S-waves)

23. আইসোসিসমন লাইন: সমতাপলাইন, অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট তীব্রতার ভূমিকম্প এরেখা যা একটি মানচিত্রে যুক্ত করা হয়

24. ভূমিকম্পের 1-10 পর্যন্তাত্মক সূচক: রিখটার স্কেল (Richter Scale)

25. প্রাথমিক তরঙ্গ হল: সবচেয়ে দ্রুতগামী কম্প্রেশনাল তরঙ্গ যা ভূ-স্তর মাধ্যমে চলাচল করে।

 


 লেখক

মোঃ ইজাবুল আলম

চিফ ট্রেনিং অফিসার (CTO)

01534143644 (WhatsApp)

Monday, November 3, 2025

কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ করার উপায়। লেখক মোঃ ইজাবুল আলম

কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ করার উপায়


যোগাযোগ কি?

যোগাযোগ হলো তথ্যের আদান-প্রদান, যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি বা যন্ত্র থেকে অন্য ব্যক্তি বা যন্ত্রে সংবাদ, অনুভূতি, চিন্তা, ভাব বা মনোভাব পাঠানো হয়। এটি মানুষে-মানুষে বা যন্ত্রে-যন্ত্রে হতে পারে এবং কার্যকরভাবে বোঝাপড়া তৈরি করার জন্য এটি অপরিহার্য। যোগাযোগের মূল উপাদানগুলো হলো প্রেরক, প্রাপক, বার্তা, মাধ্যম ও ফলাবর্তন (feedback)। 

যোগাযোগের ধারণা

তথ্য আদান-প্রদান:

যোগাযোগ বলতে মূলত তথ্যের আদান-প্রদানকে বোঝায়, যা কথা বলার মাধ্যমে, লেখার মাধ্যমে, শব্দ, স্পর্শ, বা গন্ধের মাধ্যমে হতে পারে।

উদ্দেশ্য:

বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য বা মনের ভাব প্রকাশের জন্য যোগাযোগ করা হয়।

সাফল্য:

যখন প্রেরকের বার্তা প্রাপক সঠিকভাবে বুঝতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় প্রত্যুত্তর দিতে পারেন, তখন যোগাযোগ সফল হয়।

প্রক্রিয়া:

এটি একটি প্রক্রিয়া যার মধ্যে একটি উৎস (প্রেরক) একটি বার্তা তৈরি করে একটি মাধ্যম ব্যবহার করে প্রাপকের কাছে পাঠায়।

যোগাযোগের মাধ্যম

যোগাযোগের মাধ্যম হলো লিখিত, যান্ত্রিক, ভিজ্যুয়াল, মৌখিক এবং অ-মৌখিক (যেমন: স্পর্শ, গন্ধ, অঙ্গভঙ্গি) বিভিন্ন উপায়, যার মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। লিখিত মাধ্যমের মধ্যে রয়েছে চিঠি, বই, পত্রিকা এবং ইমেল। যান্ত্রিক মাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে মোবাইল, কম্পিউটার, রেডিও, টেলিভিশন, এবং সোশ্যাল মিডিয়া।

যোগাযোগের মাধ্যমসমূহ

লিখিত মাধ্যম: এই মাধ্যমে লিখিত শব্দ ব্যবহার করে তথ্য দেওয়া-নেওয়া হয়, যেমন: চিঠি, ইমেল, বই, পত্রিকা, প্রতিবেদন এবং সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট।

যান্ত্রিক মাধ্যম:

এই মাধ্যমগুলোতে যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। যেমন: মোবাইল, কম্পিউটার, রেডিও, টেলিভিশন, মাইক্রোফোন, ওয়াকিটকি এবং ইন্টারনেট।

ভিজ্যুয়াল মাধ্যম:

এই মাধ্যমে ছবি, চার্ট, গ্রাফ এবং অন্যান্য ভিজ্যুয়াল সাহায্য ব্যবহার করে যোগাযোগ করা হয়।

মৌখিক মাধ্যম:

কথা বলে বা শুনে যোগাযোগ করা, যেমন: বক্তৃতা, কথোপকথন এবং ফোন কল।

অ-মৌখিক মাধ্যম:

এই মাধ্যমে শব্দ ব্যবহার না করে যোগাযোগ করা হয়। যেমন: স্পর্শ, গন্ধ, অঙ্গভঙ্গি এবং মুখের অভিব্যক্তি।

টেলিফোন বা মোবাইলে কথা বলার শিষ্টাচার


আপনি যখন অফিসে থাকবেন তখন টেলিফোনে কেহ কল দিলে রিসিভার কানে নিয়েই বলতে হবে, আসসালামু আলাইকুম স্যার, কে বলছেন প্লিজ । কোনো অফিসার হলে স্যার সম্বোধন করে কথা বলতে হবে। মোবাইলেও অপরিচিত কেহ কল দিলে তাকেও সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে।

ওয়াকিটকি এর ব্যবহার

ওয়াকিটকি হলো একটি হাতে-ব্যবহার্য দ্বিমুখী বেতার যন্ত্র যা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে তারবিহীন যোগাযোগ স্থাপন করে। এটি একই সময়ে উভয় দিকে কথা বলার সুবিধা দেয় না, কারণ এটি একটি "হাফ-ডুপ্লেক্স" যন্ত্র, অর্থাৎ একই সময়ে শুধু একবার কথা বলা বা শোনা যায়। বাংলাদেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা বাহিনী, সামরিক বাহিনী এবং বিটিআরসি-এর লাইসেন্স নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (যেমন, নির্মাণ সাইট, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন সিকিউরিটি কোম্পানি) এটি ব্যবহার করে থাকে।

ওয়াকি-টকির রেঞ্জ

একটি সাধারণ কনজিউমার ওয়াকি-টকির রেঞ্জ সাধারণত ২ থেকে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়, যা খোলা জায়গায় বেশি এবং শহরাঞ্চলে বা বাধা থাকলে কমে যায়। তবে, বিশেষ ধরনের ওয়াকি-টকি বা অনুকূল পরিস্থিতিতে পরিসর আরও বেশি হতে পারে, যেমন ৫০ মাইল (৮০ কিমি) পর্যন্ত।

চ্যানেল সংখ্যা

একটি ওয়াকিটকিতে কতগুলো চ্যানেল থাকে তা নির্ভর করে মডেলের উপর। বেশিরভাগ সাধারণ ওয়াকিটকিতে সাধারণত ২২টি চ্যানেল থাকে। তবে, পেশাদার বা নির্দিষ্ট কাজের জন্য ব্যবহৃত ওয়াকিটকিগুলোতে চ্যানেলের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

ওয়াকিটকিতে কথা বলার নিয়ম

ওয়াকিটকিতে যারা কথা বলেন তারা একটি গ্রুপ হয়ে কাজ করেন। কেহ কোনো ম্যাসেজ দিতে চাইলে আর সেই ম্যাসেজ সকলে জানার প্রয়োজন হলে সকলকে ওয়াকিটকির একই চ্যানেলে আসতে হবে। আবার প্রত্যেকের একটি করে নাম আছে। যেমন, আলফা ১, ২, ৩ বা ব্রাভো ১, ২. ৩ ইত্যাদি। কথা বলার সময় ওয়াকিটকির প্রেস বাটনে চাপ দিয়ে কথা বলতে হয়।

এখন আলফা-১ থেকে  আলফা-২ তে কল দিলে বলতে আলফা-১ থেকে আলফা-২ ওভার। এসময় আলফা-২ প্রেস বাটনে চাপ দিয়ে বলবে আলফা-১ সেন্ড ওভার স্যার। এরপর প্রতিবারে প্রেস বাটনে চাপ দিয়ে কথা বলতে হবে। কথা বুঝে থাকলে আলফা-২ বলবে রজার স্যার। সকলে একই চ্যানেলে থাকলে এই দুইজনের কথা সকলে শুনতে পাবে।

ওয়াকিটকিতে কথা বললে আশেপাশের সকলে শুনতে পায় তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা বাহিনী ও সামরিক বাহিনী সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করে কথা বলে যাতে অন্য কেহ বুঝতে না পারে। যেমন আকবর নামের এক সন্ত্রাসী এখানে উপস্থিত হয়েছে। এই বাক্যটি ওয়াকিটকিতে বললে আকবর শুনতে পাবে এবং সে পালিয়ে যাবে। এই ম্যাসেজটি জানাতে হলে ওয়াকিটকিতে বলতে হবে, আলফা কিলো ব্রাভো রোমিও ।

সাংকেতিক শব্দগুলোকে ন্যাটো ফোনেটিক বর্ণমালা বলে।

A- Alfa,

B- Bravo,

C-Charlie,

D-Delta,

E-Echo,

F-Foxtrot,

G-Golf,

H-Hotel,

I- India,

J-Juliett,

K-Kilo,

L-Lima,

M-Mike,

N- November,

O-Oscar,

P-Papa,

Q-Quebec,

R-Romeo,

S-Sierra,

T-Tango,

U-Uniform,

V-Victor,

W-Whiskey,

X-X-ray,

Y- Yankeea

Z- Zulu

Sunday, October 5, 2025

কমপ্লায়েন্স অনুসারে একজন নিরাপত্তা কর্মীর শর্ত ও সুযোগ সুবিধাসমূহ। লেখক মোঃ ইজাবুল আলম

 

কমপ্লায়েন্স অনুসারে একজন নিরাপত্তা কর্মীর শর্ত ও সুযোগ সুবিধাসমূহ

যখন কোনো কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরিতে বা অফিসে সিকিউরিটি গার্ড বা সুপারভাইজার বা ইনচার্জ তথা নিরাপত্তা কর্মী সরবরাহ করা হয় তখন সেই ফ্যাক্টরি বা অফিসের শ্রমিক/কর্মচারী কমপ্লায়েন্স অনুসারে যেসব সুযোগ সুবিধা ভোগ করে অনুরুপ সুযোগ সুবিধা নিরাপত্তা কর্মীদেরও দিতে হয়। এজন্যে কমপ্লায়েন্স অনুসারে সকল ডকুমেন্টস প্রস্তুত করতে হয়। কিন্তু দেখা যায়, নিরাপত্তা কর্মী সরবরাহকারী সিকিউরিটি কোম্পানির নিয়োগকৃত সুপারভাইজার/ইনচার্জ বা জোন কমান্ডার বা ফিল্ড সুপারভাইজার বা জোন ইনচার্জ বা সংশিষ্ট এইচআর ডিপার্টমেন্ট তাদের  কমপ্লায়েন্স সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় মান সম্মত সার্ভিস দিতে পারে না এবং পরিশেষে পোস্ট উঠে যায়।

এজন্যে সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের পূর্বে তারাও পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মী খোঁজে। কিন্তু পূর্ব অভিজ্ঞা না থাকায় অনেকের চাকরি হয় না। বিশেষ করে সুপাভাইজার/ইনচার্জ ও জোন কমান্ডারদের সিকিউরিটি রিলেটেড কমপ্লায়েন্স সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকাটা ১০০% জরুরী। এই লেখাটি তাদের জন্য যারা  সিকিউরিটি রিলেটেড কমপ্লায়েন্স সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।

কমপ্লায়েন্স কি?

কমপ্লায়েন্স (Compliance) মানে হলো আইন, বিধিমালা, নীতি এবং নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলা। এটি নিশ্চিত করে যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সময় সকল প্রচলিত নিয়মকানুন (যেমন- শ্রম আইন, কর আইন) এবং অভ্যন্তরীণ নীতি অনুসরণ করছে। কমপ্লায়েন্স মূলত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও আইনি ঝুঁকি কমানো এবং নৈতিক মান বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।

কমপ্লায়েন্স কেন গুরুত্বপূর্ণ?

• আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি হ্রাস:

নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো জরিমানা, মামলা এবং অন্যান্য আইনি জটিলতা এড়াতে পারে।

• নৈতিক মান বজায় রাখা:

এটি নিশ্চিত করে যে প্রতিষ্ঠানটি নৈতিকভাবে কাজ করছে এবং সমাজের প্রতি তার দায়িত্ব পালন করছে।

• প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি:

নিয়ম মেনে চলা একটি প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বস্ত করে তোলে এবং বাজারে এর সুনাম বাড়ায়।

• কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা:

কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করাও কমপ্লায়েন্সের একটি অংশ।

কমপ্লায়েন্স কত প্রকার ও কি কি?

উত্তর : কমপ্লায়েন্স প্রধানত ৫ প্রকার, যথা-

১) সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স

২) টেকনিক্যাল কমপ্লায়েন্স

৩) সি-টিপ্যাট কমপ্লায়েন্স

৪) কান্ট্রি অব অরিজিন এবং

৫) বায়ার্স সিওসি

কমপ্লায়েন্স অডিট এর প্রকারভেদঃ

(Compliance Audit) এর প্রকারভেদ হলো যথাক্রমেঃ

১। সোস্যাল কমপ্লায়েন্স অডিট (Social Compliance Audit);

২। কোয়ালিটি ম্যনেজমেন্টঅডিট বা টেকনিক্যাল অডিট (QMS or Technical Audit);

৩। নিরাপত্তা অডিট (Security Audit)।

সিকিউরিটি কমপ্লায়েন্স কিঃ

একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কর্মী বাংলাদেশ শ্রম আইন, বেপজা আইন ও প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শর্তাবলী মেনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হচ্ছে সিকিউরিটি কমপ্লায়েন্স।

সাধারণত একটি কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরিতে জুনিয়র সিকিউরিটি গার্ড, সিকিউরিটি গার্ড, সিনিয়র সিকিউরিটি গার্ড, সুপারভাইজার ও ইনচার্জ এই পদবীর নিরাপত্তা কর্মীদের নিয়োগ দেয়া হয়।

নিরাপত্তা কর্মীর শিক্ষানবিশকাল

একজন নিরাপত্তা কর্মীর চাকরির প্রথম ০৩ (তিন) মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে ধরা হয় এবং তার কাজ সন্তোষজনক না হলে উক্ত সময়কাল আরও ০৩ (তিন) মাস বর্ধিত হতে পারে। বর্ধিত ০৩ (তিন) মাসে নিরাপত্তা কর্মী যদি দক্ষতা দেখাতে না পারে, তাহলে কোনো প্রকার কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। (এই শর্তাবলী তার নিয়োগ পত্রে উল্লেখ করা হয়)

এখানে উল্লেখ্য যে, ইপিজেড এর মধ্যে যেসকল সিকিউরিটি পোস্ট থাকে সেখানে কর্মরত নিরাপত্তা কর্মীদের শিক্ষানবিশকাল ০৩ মাস ধরা হয়। আর ইপিজেড এর বাহিরে যেসকল পোস্ট থাকে সেখানে শিক্ষানবিশকাল ০৬ মাস ধরা হয়। আবার কোনো কোনো সিকিউরিটি কোম্পানি ইপিজেড এর মধ্যে হলেও শিক্ষানবিশকাল ০৬ মাস ধরা হয়। যেমন, নারায়ণগঞ্জ ইপিজেড এ অবস্থিত R-pac ফ্যাক্টরিতে কর্মরত নিরাপত্তা কর্মীদের শিক্ষানবিশকাল ০৬ মাস ধরা হয়েছে।

নিরাপত্তা কর্মীর বেতন

একজন নিরাপত্তা কর্মী (জুনিয়র সিকিউরিটি গার্ড এর জন্য)  নিম্নলিখিত হারে বেতন প্রদান করা হয়-

ক)       মূল মজুরী       =          ৬,৯০০/-

খ)        বাড়ি ভাড়া       =         ৩,৪৫০/-

গ)        চিকিৎসা ভাতা =             ৭৫০/-

ঘ)        যাতায়াত ভাতা =             ৪৫০/-

ঙ)        খাদ্য ভাতা       =         ১,২৫০/-

--------------------------------------------

      সর্বমোট মজুরী     =         ১২,৮০০/-

বাড়ি ভাড়া ও মূল বেতন বের করার নিয়মঃ মোট বেতন থেকে (চিকিৎসা ভাতা ৭৫০ টাকা + যাতায়াত ভাতা ৪৫০ টাকা +খাদ্য ভাতা ১,২৫০ টাকা) =২৪৫০ টাকা বাদ দিলে যা থাকে তাকে ০৩ দিয়ে ভাগ করলে যা আসে তাই বাড়ি ভাড়া। এই বাড়ি ভাড়াকে ০২ দিয়ে গুণ করলে মূল বেতন বের হবে।

কর্মঘন্টা

একজন নিরাপত্তা কর্মীর প্রতিদিন কর্মঘন্টা হবে ০৮ ঘন্টা। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে একজন নিরাপত্তা কর্মীকে অতিরিক্ত কাজের জন্য অনুরোধ করতে পারবে এবং এজন্য আপনি শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী ঘন্টা প্রতি ওভারটাইম পাবেন-(বেসিক X ২ ÷ ২০৮)=ওটি রেট। দিনে ০৮ ঘন্টা বেশী (০১ ঘন্টা বিরতি ব্যতীত) কাজ করলে তা অতিরিক্ত সময় হিসেবে গণ্য হবে।

৯% হারে বেতন বৃদ্ধি

চাকুরী ১ বছর সম্পন্ন হলে প্রতি সম্পূর্ণ বছরের জন্য ন্যূনতম ৯% হারে মূল মজুরী বৃদ্ধি করা হবে।

(বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০২২ সালের সংশোধনী অনুসারে), প্রতি বছর পোশাক শ্রমিকদের মূল মজুরির কমপক্ষে ৫% বৃদ্ধি করতে হয়। তবে, সরকার বা নিম্নতম মজুরি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত মজুরি বৃদ্ধির হার ৯% হতে পারে। শ্রমিক, মালিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর সরকার বা নিম্নতম মজুরি বোর্ড এই বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়। ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।)

উৎসব বোনাস

চাকুরী ১ বছর সম্পন্ন হওয়ার পর শ্রম আইন অনুযায়ী একজন শ্রমিক বা নিরাপত্তা কর্মী বছরে ২টি উৎসব বোনাস পাবে।

(বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯ এর  ২ নং আইন, ধারা ৫৩। (৪) অনুযায়ী

মালিক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তাহার প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত প্রত্যেক স্থায়ী শ্রমিককে প্রত্যেক পঞ্জিকা বৎসরে তাহাদের স্ব স্ব ধর্মীয় উৎসবের প্রাক্কালে ২ (দুই) মাসের মূল মজুরির সমপরিমাণ উৎসব বোনাস প্রদান করিতে হইবে)।

প্রাপ্য ছুটিসমূহ

শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী একজন শ্রমিকের প্রাপ্য নির্ধারিত ছুটিসমূহ নিম্নরুপঃ

(১) নৈমিত্তিক ছুটি (Casual Leave)  ১০ দিন।

(২) অসুস্থতাজনিত ছুটি ১৪ দিন।

(৩)  উৎসব ছুটি ১১। উৎসব ছুটি দুই ঈদে (৩+৩)=৬ দিন ও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য ৫ দিন মোট ১১ দিন হবে।

বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯ এর  ২ নং আইন, ধারা ৫৩। (১) অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিককে প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে নির্ধারিত পদ্ধতিতে পূর্ণ মজুরিতে ১১ (এগারো) দিনের উৎসব ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে। (২) মালিক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্ত ছুটির দিন ও তারিখ স্থির করিবেন। (৩) কোনো শ্রমিককে কোনো উৎসব ছুটির দিনে কাজ করিতে বলা যাইবে, তবে ইহার জন্য তাহাকে উক্ত দিনের অব্যবহিত ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে ২ (দুই) দিনের মজুরিসহ ক্ষতিপূরণ ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ সনের ৪২ নং আইন , ধারা ১১৮ (৩) অনুযায়ী কোনো শ্রমিককে কোনো উৎসব-ছুটির দিনে কাজ করিতে বলা যাইতে পারিবে, তবে ইহার জন্য তাহাকে এক দিনের বিকল্প ছুটি এবং দুই দিনের ক্ষতিপূরণমূলক মজুরি প্রদান করিতে হইবে।

ব্যাখ্যা

(ক) ১ দিন উৎসব ছুটিতে কাজ  করলে ১ দিনের বিকল্প ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি পাবেন।

(খ) ১ দিন উৎসব  ছুটিতে কাজ  করলে ২ দিনের ক্ষতিপূরণমূলক মজুরি পাবেন।

(গ) শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী উক্ত দিনের অব্যবহিত ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে ছুটি প্রদান করতে হবে।

(ঘ) ২০২২ সালের শ্রম  বিধিমালার সংশোধনী অনুযায়ী উৎসব ছুটি জন্য ক্ষতিপূরণ মজুরি  প্রদান করা হবে নিম্নভাবে,

উৎসব ছুটির ক্ষতিপূরণ= (কর্মীর মূল মজুরি ÷ ৩০) X ২

তবে অনেক কারখানায় উৎসব ছুটিতে কাজ করলে ৩০ দিনের মধ্যে একদিনের জন্য একদিন ও ক্ষতিপূরণমূলক আরেক দিন ছুটি দেয়া হয়। সেহিসেবে একজন শ্রমিক উৎসব ছুটি ১১ দিনের স্থলে ২২ দিন ছুটি ভোগ করে। আবার অনেকে একদিনের জন্য একদিন ছুটি প্রদান করে ও ২ দিনের ক্ষতিপূরণমূলক মজুরি দিয়ে থাকে।

(৪) বাৎসরিক ছুটি (Annual Leave)  (এক বছর সম্পন্ন হওয়ার পর) প্রতি ১৮ দিনে ১ দিন হিসাবে প্রাপ্য হবেন।

বাৎসরিক ছুটি বের করার নিয়মঃ প্রতি সপ্তাহে ০১ দিন সাপ্তাহিক বন্ধ পেলে বছরে বন্ধ পাবে ৫২ দিন + উৎসব ছুটি ১১ দিন-৬৩ দিন, এখন ৩৬৫ দিন থেকে ৬৩ দিন বাদ দিলে ৩০২ দিন থাকে। এই ৩০২ দিনকে ১৮ দিয়ে ভাগ দিলে ১৬.৭৭ হয় তথা ১৭ দিন ছুটি প্রাপ্য হবে। তবে অনেকে ১৬ দিন ছুটি প্রদান করে থাকে।

(৫) সাপ্তাহিক ছুটি ০১ (এক) দিন প্রাপ্য হবে।

চাকরি হতে অব্যাহতির নিয়ম

চাকরি স্থায়ী হওয়ার পর যদি অব্যহতির প্রয়োজন হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে ৩০ (ত্রিশ) দিন পূর্বে লিখিত নোটিশ দিতে হবে অথবা নোটিশের পরিবর্তে নোটিশের মেয়াদের জন্য সমপরিমাণ অর্থ নিজ সিকিউরিটি কোম্পানিকে প্রদান করতে হবে। তদ্রুপ স্থায়ী শ্রমিক হিসাবে গন্য হওয়ার পর কোম্পানী কর্তৃক নিরাপত্তা কর্মীর চাকরির অবসান এর ক্ষেত্রে ১২০ দিনের লিখিত নোটিশ বা নোটিশের পরিবর্তে নোটিশের মেয়াদের জন্য মজুরী প্রদান করে চাকরি অবসান করা যাবে।

এখানে উল্লেখ্য যে, ইপিজেড এর মধ্যে যেসকল সিকিউরিটি পোস্ট থাকে সেখানে কর্মরত নিরাপত্তা কর্মীগণ চাকরি হতে অব্যাহতি নিতে চাইলে ০৩ দিন পূর্বে লিখিতভাবে জানাবে আর ইপিজেড এর বাহিরে হলে ৬০ দিন পূর্বে লিখিতভাবে জানাবে। চাকরি হতে অব্যাহতি নেয়ার ৩০ দিন বা ৬০ দিন পূর্বে লিখিতভাবে না জানালে সেই নিরাপত্তা কর্মীকে ৩০ দিন বা ৬০ দিনের সমপরিমাণ অর্থ নিজ সিকিউরিটি কোম্পানিকে প্রদান করতে হবে।

(এই শর্তাবলী তার নিয়োগ পত্রে উল্লেখ করা হয়)

অন্যান্য শর্তসমূহ

একজন নিরাপত্তা কর্মীকে নিয়োগ পত্র দেয়ার সময় তার নিয়োগ পত্রে নিম্নলিখিত শর্তসমূহ লিখে দেয়া হয়।

(১) কোম্পানি কর্তৃক প্রদেয় ইউনিফর্ম সঠিকভাবে পরিধান করে পোস্টে উপস্থিত হয়ে রিপোর্ট করতে হবে।

(২) কোম্পানীর স্বার্থ, মর্যাদা সুনাম অক্ষুন্ন রাখার নিমিত্তে নিরাপত্তা কর্মীকে সার্বক্ষনিক একাগ্রতা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন ও পরিচালনা করতে হবে। নিরাপত্তা কর্মী কোম্পানীর ব্যবস্থাপনার স্বার্থ বিরোধী কোনো কাজ কোনো সময় করতে পারবে না এবং কোম্পানীর কোনো কর্মচারীর বিপরীত কোনো কিছু কিংবা কোনো আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না।

(৩) নিরাপত্তা কর্মী কোনরূপ “অসদাচরণ” করলে কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে শ্রম আইনের বিধান অনুসারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

(৪) যেহেতু কোম্পানী নিরাপত্তা সেবা ব্যবসায় নিযুক্ত, যার জন্য যথেষ্ট আস্থা নিয়ে  নিরাপত্তা কর্মীকে উক্ত পদে নিয়োগ দেয়া হয়। কোম্পানীর সম্পূর্ণ সন্তুষ্টি অর্জনে নিরাপত্তা কর্মীকে বিশ্বস্ততার সাথে এবং নিরলসভাবে নিরাপত্তা কর্মীকে কর্তব্য পালন করতে হবে।

(৫) প্রযোজ্য হলে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা কর্মীকে অভিজ্ঞতা ভাতা প্রদান করা হবে।

(৬) নিরাপত্তা কর্মীকে কোম্পানীর বিধি ও বিধিমালা মেনে চলতে হবে এবং কোম্পানির্ লক্ষ্যে পৌছতে একজন টিম মেম্বার হিসেবে কাজ করতে হবে।

(৭) ক্লায়েন্ট বা গ্রাহকের সম্পত্তির বিষয়ে সম্পূর্ণ সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।

(৮) নির্ধারিত ও নির্দেশিত উপায়ে গ্রাহকের আদেশ পরিচালনা করতে হবে।

(৯) কর্তব্যরত অবস্থায় ঘুমানো যাবেনা অথবা কারো প্ররোচনায় প্রভাবিত হওয়া যাবে না।

(১০) কোম্পানীর নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো স্থান, বিভাগ বা ইউনিটে সমপদে বদলী করার অধিকার রাখে। কোম্পানী কর্তৃক প্রদত্ত অন্য যেকোন আদেশ  নিরাপত্তা কর্মী মেনে চলতে বাধ্য।

(১১) যেখানে নিরাপত্তা কর্মীকে বদলী দেয়া হয় অথবা যে স্থানে নিরাপত্তা কর্মীকে নিয়োগ দেয়া হয় সেখানে সার্বক্ষনিক সাহসিকতা ও বিশ্বস্ততার সাথে কোম্পানীকে সেবা প্রদান করতে হবে এবং কোম্পানীর ব্যবসায়িক স্বার্থে নিরাপত্তা কর্মীকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে এবং কর্মস্থলে দায়িত্বরত থাকাকালীন সময়ে নিরাপত্তা কর্মীকে নিষ্ঠা ও মনোযোগ, দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্য কোন পেশা, গবেষণা, ব্যবসা অথবা সার্ভিস এ যোগদান বা সংশ্লিষ্ট থাকা যাবে না। নিরাপত্তা কর্মীর সামর্থ্য অনুসারে মক্কেলের প্রয়োজনে যেকোনো দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা কর্মীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

(১২) চাকুরীকালীন সময়ে কাজে অনুপস্থিত থাকলে বা ত্যাগ করতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মীকে কোম্পানীর পোশাক পরিচ্ছেদ/জিনিসপত্র কোম্পানীর কাছে ফেরত দিতে হবে, ব্যর্থতায় কোম্পানী উক্ত পোষাক সামগ্রী এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি পুলিশ অথবা দেশের প্রচলিত আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উদ্ধার করার অধিকার সংরক্ষণ করবে এবং তার সমুদয় আইনী ও অন্যান্য ব্যয়ভার আপনাকে কোম্পানীর কাছে পরিশোধ করতে হবে।

(১৩) উপরোক্ত ঘোষিত বিভিন্ন ব্যবস্থা এবং উপ-ব্যবস্থা সংশোধনযোগ্য। যদি কোনো ব্যবস্থা অথবা উপ-ভাগ অথবা সনাক্তযোগ্য অংশ অকার্যকর হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে অন্যান্য ব্যবস্থা অথবা উপ-ব্যবস্থার কার্যকারিতা সনাক্তযোগ্য অংশের দ্বারা ক্ষুন্ন হবেনা।

(১৪) কোম্পানীবিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী ও শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের ক্ষেত্রে বিধি মোতাবেক আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(১৫) চাকুরীর অন্যান্য শর্তাবলী প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

ভর্তির সময় প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রসমূহ

কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরির জন্য একজন নিরাপত্তা কর্মী ভর্তির সময় নিম্নলিখিত কাগজ পত্রসমূহ প্রয়োজন হয়।

(১) সিকিউরিটি কোম্পানি কর্তৃক নির্ধারিত ভর্তি ফরম। (সিকিউরিটি কোম্পানি কর্তৃক সরবরাহ করা হয়)

(২) নিরাপত্তা কর্মীর নিজেস্ব জীবন বৃত্তান্ত একটি।

(৩) সিকিউরিটি কোম্পানি কর্তৃক প্রদেয় কার্যবিবরণী। (সিকিউরিটি কোম্পানি কর্তৃক সরবরাহ করা হয়)

(৪) চাকরিতে যোগদান পত্র। (সিকিউরিটি কোম্পানি কর্তৃক সরবরাহ করা হয়)

(৫) শ্রমিক/কর্মচারীদের পূর্বেকার তথ্য যাচাই ফরম। (সিকিউরিটি কোম্পানি কর্তৃক সরবরাহ করা হয়)

(৬) মেডিকেল ফরম। (সিকিউরিটি কোম্পানি কর্তৃক সরবরাহ করা হয়)

(৭) নমিনী ফরম-৪১। (সিকিউরিটি কোম্পানি কর্তৃক সরবরাহ করা হয়)

(৮) বয়স ও সক্ষমতার প্রত্যয়ন পত্র। (সিকিউরিটি কোম্পানি কর্তৃক সরবরাহ করা হয়)

(৯) নিরাপত্তা কর্মীর নাগরিক ও চারিত্রিক সনদপত্র। (চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট)

(১০) নিরাপত্তা কর্মীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র।

(১১) নিরাপত্তা কর্মীর ভোটার আইডি কার্ড বা অনলাইন জন্মসনদ পত্র।

(১২) নমিনীর ভোটার আইডি কার্ড ও স্ট্যাম্প সাইজের এক কপি  ছবি।

(১৩) নিরাপত্তা কর্মীর দুই কপি পাসপোর্ট ও দুই কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি।

(১৪) একটি সচল রকেট নম্বর।

(১৫) একটি সার্ভিস বুক। (সিকিউরিটি কোম্পানি কর্তৃক সরবরাহ করা হয়)

(১৬) নিরাপত্তা কর্মীর নিযোগ পত্র। যা পারসোনাল ফাইলের প্রথমে রাখতে হয়।

(ক্লায়েন্টের চাহিদা মোতাবেক সকল ডকুমেন্টস এর ডুপ্লিকেট একটি পারসোনাল ফাইল তৈরী করে ক্লাযেন্ট এর নিকট জমা দিতে হয়)

বেতন প্রদানের পূর্বে ও পরে করণীয়

(১) বেতনের পূর্বে নিরাপত্তা কর্মীদের হাজিরা শিট বা রোস্টার ভালভাবে চেক করে অফিসে প্রেরণ করতে হয়। সাধারণত মাসে দুইবার হাজিরা শিট প্রেরণ করতে হয়।

(২) বেতন প্রদানের পূর্বে ও পরে অনুপস্থিত নিরাপত্তা কর্মীর তালিকা প্রেরণ করতে হয়।

(৩) কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরিতে প্রত্যেকের টাইম কার্ড তৈরী করে দিতে হয়।

(৪) বেতন প্রদান করা হলে বেতন শিটে প্রত্যেকের যেনো স্বাক্ষর থাকে তা নিশ্চিত করতে হয়।

(৫) প্রত্যেকের পে-স্লিপ তৈরী করতে হয়।

(৬) বেতন প্রদানের পরে স্যালারি প্রুভ বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হয়।

(৭) কোনো নিরাপত্তা কর্মীর জরিমানা বা কর্তন থাকলে তা বেতন প্রদানের পূর্বে অফিসকে অবগত করতে হয়।

 

লেখক

মোঃ ইজাবুল আলম

চিফ ট্রেনিং অফিসার (CTO)

01534143644 (Whatsapp)

ভূমিকম্প নিরাপত্তায় করণীয়। লেখক মোঃ ইজাবুল আলম

ভূমিকম্প নিরাপত্তায় করণীয় মোঃ ইজাবুল আলম ভূমিকাঃ  বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভূমিকম্প একটি আতঙ্কের নাম হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নগর...