Thursday, January 15, 2026

C-TPAT প্রশিক্ষণ গাইড - লেখক মোঃ ইজাবুল আলম

C-TPAT প্রশিক্ষণ গাইড

লেখক মোঃ ইজাবুল আলম


বাংলাদেশের প্রতিটি শিল্প কারখানায় সিটিপ্যাট অনুসারে নিরাপত্তা কর্মীরা যেমন তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে তেমনি মালামাল আমদানী রপ্তানী কাজেও সিটিপ্যাট অনুসারে লোডিং আনলোডিং করা হয়। লোডিং আনলোডিং এর ক্ষেত্রে ৫ পয়েন্ট, ৭ পয়েন্ট , ১০ পয়েন্ট ১৮ ও ১৯ পয়েন্ট চেক করা হয়।

কোনো কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টোরিতে চাকরি করতে চাইলে এমনি কি সিকিউরিটি গার্ড পদে হলেও তার সিটিপ্যাট সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

CTPAT (Customs Trade Partnership Against Terrorism) হলো মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা (CBP) কর্তৃক পরিচালিত একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রোগ্রাম, যা আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনকে সন্ত্রাসী হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে; এর লক্ষ্য হলো নিরাপত্তা জোরদার করা এবং বৈধ বাণিজ্যের প্রবাহকে দ্রুত ও মসৃণ করা, যার ফলে অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো শুল্ক পরিদর্শনে কম সময় পায় এবং দ্রুত পণ্য ছাড় পায়।

মূল বিষয়:

উদ্দেশ্য: ৯/১১ হামলার পর সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের নিরাপত্তা জোরদার করা।

পরিচালনা: U.S. Customs and Border Protection (CBP) এটি পরিচালনা করে।

অংশগ্রহণকারী: আমদানিকারক, বাহক, ব্রোকার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদাররা এতে যোগ দিতে পারে।

কার্যপদ্ধতি: অংশগ্রহণকারীরা তাদের সরবরাহ চেইনে কঠোর নিরাপত্তা মান মেনে চলে এবং তাদের অংশীদারদের নিরাপত্তা যাচাই করে।

সুবিধা: কম শুল্ক পরিদর্শন, দ্রুত শুল্ক ছাড়, এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি বিশ্বস্ত ও নিরাপদ অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করা।

সংক্ষেপে, CTPAT একটি সহযোগিতা-ভিত্তিক উদ্যোগ যা বাণিজ্য ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।

সিটিপ্যাট সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ বই

১.০-ভূমিকা-

নিরাপত্তা বা সিকিউরিটি একটি ফ্যাক্টরীর জন্য, বিশেষ করে পোষাক ফ্যাক্টরীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পোষাক শিল্প ফ্যাক্টরীর নিরাপত্তা বলতে শ্রমিক-কর্মচারী, ভিজিটর বা পরিদর্শক আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ভিত্তি করে বিধি নিষেধ পালন করা।

১.০১-  C-TPAT কি?

সেপ্টেম্বর ২০০১ সালের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার কর্তৃক কতিপয় সন্ত্রাস বিরোধী কার্যক্রম।

২.০০-  উদ্দেশ্যঃ

C-TPAT (Customs Trade Partnership Against Terrorism)  নিরাপত্তা নীতিমালার লক্ষ্য হলো নিরাপত্তা সম্পদ প্রয়োগের মাধ্যমে সকল সেকশনে উক্ত পর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এর অভিপ্রায় হলো নিরাপত্তার বিভিন্ন দিককে অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে চুরি, ধ্বংস এবং অন্তর্ঘাত হতে লোকবল, সম্পদ এবং তথ্যাদি সংরক্ষণের শ্রেষ্ঠতর এবং কার্যকর কর্মপন্থা প্রতিষ্ঠিত করা।

৩.০০- শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রবেশের সময় নিরাপত্তাঃ

৩.০১-  শ্রমিক-কর্মচারীদের তাদের নিজ নিজ আইডি কার্ড প্রধান গেইটে জমা / প্রদর্শন করছে কিনা তা দেখা। আইডি কার্ড ছাড়া কেউ যদি ফ্যাক্টরীতে প্রবেশ করতে চায়, তবে তাদের কার্ড নং বা সেকশন উল্লেখ করে লিখিতভাবে অফিসারকে অবহিত করা।

৩.০২- কোন প্রকার অবৈধ জিনিস নিয়ে প্রবেশ করছে কিনা তা চেক করা।

৩.০৩- জুতা খুলে প্রবেশ করছে কিনা তা চেক করা।

৩.০৪-  নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রবেশ করছে কিনা তা চেক করা।

৩.০৫- নির্দিষ্ট সময়ের পরে প্রবেশ করতে চাইলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া আছে কিনা তা চেক করা।

৩.০৬- ফ্যাক্টরীতে প্রবেশের সময় নিজের ব্যবহৃত জিনিস ছাড়া তার কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট না এমন কিছু নিয়ে প্রবেশ করছে কিনা তা চেক করা।

৩.০৭-  ব্যক্তিগত প্রয়োজন শেষে গেটপাশে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে প্রবেশ করেছে কিনা তা চেক করা।

৩.০৮- ব্যক্তিগত ব্যবহৃত দ্রব্যাদি, ঔষধ, হাতব্যাগ, লাঞ্চ ক্যারিয়ার, ব্রিফকেস ইত্যাদি খুলে পরীক্ষা করে দেখা যাতে কেউ অবৈধ, অপ্রয়োজনীয় বা ফ্যাক্টরীর সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন কিছু নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে।

৩.০৯- শ্রমিক বা কর্মচারী কোন কিছু সাথে আনলে বা সাথে নিয়ে ফ্যাক্টরীতে প্রবেশ করতে চাইলে তা গেইটে দেখিয়ে, চেক করে এবং প্রয়োজনবোধে গেইটে এন্ট্রি করিয়ে ফ্যাক্টরীতে প্রবেশ করবে এবং কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে।

৩.১০-  কোম্পানী প্রদত্ত আইডি কার্ড ফ্যাক্টরীতে প্রবেশের পর থেকে বের হওয়া পর্যন্ত সর্বদা প্রদর্শিত অবস্থায় রাখতে হবে।

৪.০০-  শ্রমিক-কর্মচারীদের বের হওয়ার সময় নিরাপত্তাঃ

৪.০১-   ঘন্টা দিয়ে লাঞ্চের সময় জানিয়ে দেওয়া

৪.০২-  লাঞ্চের সময় নিজের টিফিন বক্স এবং নিজের পরিধেয় বস্ত্র ও জুতা ছাড়া অন্য কোন কিছু হাতে নিয়েছে কিনা তা দেখা।

৪.০৩-  কোন শ্রমিক-কর্মচারী ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার সময় কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি / গেটপাশ নিয়ে যাচ্ছে কিনা তা চেক করা।

৪.০৪-  ছুটির সময় হলে তা ঘন্টা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া।

৪.০৫-  ছুটির সময় টিফিন বক্স ও অন্যান্য ব্যক্তিগত ব্যাগ চেক করা।

৪.০৬- ছুটির পরে শ্রমিক-কর্মচারীদের সারিবদ্ধভাবে বের হতে সহায়তা করা।

৫.০০- রপ্তানীযোগ্য ও সাধারণ মালপত্র লোডিং এর সময় নিরাপত্তাঃ

৫.০১-  এক্সপোর্টের মালামাল / কার্টন লোডিং এর সময় সঠিকভাবে গুণে দেখা এবং স্টোরকে অবহিত করা।

৫.০২- মালামাল / কার্টন লোডিং এর পর গেটপাশ বুঝিয়ে দেওয়া।

৫.০৩- সাধারণ জিনিসপত্র যেমন, মেশিন, কাপড় ও আনুসাঙ্গিক দ্রব্যাদি লোডিং এর সময় ভালোভাবে পরীক্ষা করে গেটপাশে উল্লেখিত পরিমাণে নিয়ে যাচ্ছে কিনা তা দেখা।

৫.০৪-  এক্সপোর্ট কার্টন খোলা, ভাঙ্গা বা ছেড়া আছে কিনা তা দেখা এবং কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।

৫.০৫- এক্সপোর্ট কার্টনে কেউ কিছু রাখছে কিনা তা দেখা এবং কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।

৫.০৬- কি কি মালামাল বাইরে যাবে জেনে নেওয়া এবং গেটপাশ বা চালান হাতে নেওয়া, যাতে করে সেগুলো ছাড়া অন্য কিছু বাইরে না যায় সে দিকে লক্ষ্য রাখা এবং কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।

৫.০৭-  এক্সপোর্ট কার্টন লোডিং এর সময় লেবারদের অস্বাভাবিক আচরণ ও গতিবিধি নজরে পড়লে তা দেখা এবং প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।

৫.০৮- এক্সপোর্ট কার্টন লোডিং এর সময় সংশ্লিষ্ট নয় এমন কেউ বা যাতে লোডিং এরিয়াতে প্রবেশ না করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখা এবং কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।

৫.০৯- এক্সপোর্ট বা সাধারণ মালামাল লোডিং করার পর চালান বা গেটপাশে স্বাক্ষরসহ সীলমোহর লিখিত করা।

৬.০০- ইমপোর্ট বা সাধারণ মালামাল আনলোডিং এর সময় নিরাপত্তাঃ

৬.০১-  আমদানীকৃত মালপত্র আসলে ট্রাক থেকে সুন্দরভাবে মালপত্র নামছে কিনা তা দেখা।

৬.০২- মালগুলো চালানের সাথে মিলিয়ে দেখা।

৬.০৩- মালপত্রগুলো যথাস্থানে সুন্দর করে রাখা হয়েছে কিনা তা দেখা।

৬.০৪- সাধারণ জিনিসপত্রের ক্ষেত্রে চালানপত্র অনুসারে মাল বুঝে নেওয়া।

৬.০৫- চালান বা বিলে স্বাক্ষরসহ এঙঙউঝ ওঘ সীলমোহর নিশ্চিত করা।

৬.০৬- বিভিন্ন দ্রব্য বা জিনিস আনা নেওয়ার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যে পণ্যটি অবৈধ কিনা বা পণ্যটি কেমিক্যাল কিনা, কেমিক্যাল হলে দাহ্য (ঋষধসসধনষব) কিনা।

৬.০৭- সাধারণ জিনিসপত্রের ক্ষেত্রে তা ক্ষতিকারক কিনা তা পরীক্ষা করা।

৭.০০-  বহিরাগত / ভিজিটর (পরিদর্শক) প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত নিরাপত্তাঃ

৭.০১- গেইটে ভিজিটর (বিদেশী / স্থানীয়) আসলে, কর্তব্যরত সিকিউরিটি গার্ড তাকে সরাসরি ফ্যাক্টরীতে প্রবেশ করতে  দিবে না।

৭.০২-  সিকিউরিটি গার্ড ভদ্রভাবে ভিজিটরের পরিচয় জানতে চাইবে ও তিনি কার সাথে দেখা করতে চান তা জানতে চাইবেন। সন্তোষজনক উত্তর পেলে সিকিউরিটি গার্ড ভিজিটরকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতির জন্য জি.এম / ফ্যাক্টরী ম্যানেজারের কাছে খবর পাঠাবেন।

৭.০৩-  জি.এম / ফ্যাক্টরী ম্যানেজার অনুমতি দিলে সিকিউরিটি গার্ড সংশ্লিষ্ট রেজিষ্টারে ভিজিটরের তথ্যাবলী অর্থাৎ তারিখ, আগমনের সময়, নাম, ঠিকানা / অফিসের নাম, সাক্ষাৎকারী ব্যক্তি, ভিজিটরের কার্ড নম্বর ও ভিজিটরের স্বাক্ষর লিপিবদ্ধ করবেন ও ভিজিটর কার্ড দিবেন।

৭.০৪-  যদি একই প্রতিষ্ঠান থেকে বা একসাথে একাধিক ভিজিটর আসে, তবে তাদের প্রত্যেকের নাম ভিজিটর রেজিষ্টারে আলাদা ঘরে লিখতে হবে এবং প্রত্যেককেই ভিজিটর কার্ড প্রদান করতে হবে।

৭.০৫-  ভিজিটর কার্ড সামনের পকেটে বা অনুরুপ স্থানে এমনভাবে পরিধান হবে, যাতে পরিষ্কারভাবে দৃষ্টিগোচর হয়।

৭.০৬- পরিদর্শনকালীন সম্পূর্ণ সময় ভিজিটর কার্ড পরিধান করে রাখতে হবে।

৭.০৭-  সিকিউরিটি গার্ড ভদ্রভাবে ভিজিটরের ব্যাগ ও দেহ তল্লাশী করার কথা বলবেন এবং তল্লাশী করবেন।

৭.০৮-  অতঃপর একজন সিকিউরিটি গার্ড ভিজিটরদের সাথে করে সাক্ষাৎকারীর নিকট নিয়ে যাবেন।

৭.০৯-  ভিজিটর যে ব্যক্তির সাথে দেখা করতে চান, সম্ভব হলে তিনি ওয়েটিং রুমে গিয়ে ভিজিটরের সাথে দেখা করবেন। যদি একান্তই ভিজিটরকে ফ্যাক্টরীর ভিতরে নিয়ে আসতে হয়, সেক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারী ব্যক্তি সর্বদা ভিজিটরের সাথে থাকবেন।

৭.১০-   ভিজিটরকে কখনই একা একা ফ্যাক্টরী বা অফিসের ভিতরে ঘোরাফেরা করতে দেওয়া যাবে না।

৭.১১-   সাক্ষাৎ শেষে সাক্ষাৎকারী ব্যক্তি ভিজিটরকে ফ্যাক্টরীর গেইট পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে আসবে।

৭.১২-  সাক্ষাৎ শেষে বের হওয়ার সময় ভিজিটর কার্ড সিকিউরিটি গার্ডের কাছে হস্তান্তর করবে। সিকিউরিটি গার্ড কার্ডটি গ্রহণ করে ভিজিটর রেজিষ্টারে ভিজিটরের বের হওয়ার সময় লিখবেন এবং সিকিউরিটি গার্ড স্বাক্ষর করবেন।

৭.১৩-  উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত ভিজিটরকে অফিসে বা ডিসপ্লেকৃত, গার্মেন্টসের, ডকুমেন্টের, ফ্যাক্টরীর বা অন্য কোন কিছুর ছবি তুলতে দেওয়া যাবে না।

৭.১৪-   গেটপাশ ব্যতিত ভিজিটরকে কোনকিছু গেটের বাইরে নিতে দেওয়া যাবে না।

৭.১৫-  সিকিউরিটি গার্ডের শিফ্ট বদলীর সময় নতুন গার্ডকে সঠিকভাবে দায়িত্ব স্থানান্তর ও ব্রিফিং করতে হবে।

৭.১৬-  সিকিউরিটি অফিসারগণ প্রতিদিনের শিফ্ট শেষে ভিজিটর রেজিষ্টার চেক করবেন এবং তাতে মন্তব্যসহ স্বাক্ষর করবেন।

৭.১৭-   সিকিউরিটি ইনচার্জ প্রতি সপ্তাহে জি.এম. / এস. এম মহোদয়ের চেক ও উহাতে মন্তব্যসহ স্বাক্ষর করবেন।

৭.১৮-  ভিজিটর কার্ড নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়, সুতরাং ভিজিটর কার্ড হারানো একটি অপরাধ। যদি কোনভাবে ভিজিটর কার্ড হারিয়ে যায়, তাহলে ভিজিটর একটি লিখিত জবানবন্দী দেবেন। সিকিউরিটি ইনচার্জ হারানো ঘটনা তদন্তপূর্বক হারিয়ে যাওয়া কার্ড পুনরুদ্ধার ও নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা করবেন।

৮.০০- বাহিরে সংঘটিত দূর্ঘটনার সময় করণীয়ঃ

৮.০১-  হাঙ্গামা বা দূর্ঘটনা হওয়ার সাথে সাথে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।

৮.০২- ফ্যাক্টরীর বাইরে কোন দূর্ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে ফ্যাক্টরীর মেইন গেট বন্ধ করা। তবে কোন অবস্থাতেই তালা দেওয়া যাবে না এবং সিকিউরিটি গার্ড সার্বক্ষণিক গেটের সামনে অবস্থান করবেন।

৮.০৩- হাঙ্গামা বা দূর্ঘটনা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছালে তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ পুলিশ ষ্টেশনে খবর দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

৯.০০- অভ্যন্তরীন দূর্ঘটনার সময় করণীয়ঃ

৯.০১-  অভ্যন্তরীন যে কোন দূর্ঘটনা, যেমন আগুন লাগলে সাথে সাথে শ্রমিকদের বের হতে সহায়তা করা।

৯.০২-  আগুন লাগলে সাথে সাথে নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া।

৯.০৩- যে কোন দূর্ঘটনা বা আগুন লাগলে সাথে সাথে ফায়ার এলার্ম ও বেল বাজিয়ে সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া।

৯.০৪-  মেইন গেট সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখে সর্বাত্মক সতর্ক থাকা।

১০.০০- ফ্যাক্টরী বন্ধের সময় করণীয়ঃ

১০.০১- ফ্যাক্টরী বন্ধের সময় সমস্ত গেইট ও দরজা-জানালা বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা।

১০.০২-সব সিকিউরিটি লাইট জ্বালানোর ব্যবস্থা করা।

১০.০৩-সব গেইট বন্ধ করার ব্যবস্থা করা।

১০.০৪-তালা সীল গালা করার ব্যবস্থা করা।

১০.০৫-কর্তৃপক্ষের দস্তখত নেওয়ার ব্যবস্থা করা।

১০.০৬-সকল রেজিষ্টার নিরাপদ স্থানে রাখা।

১০.০৭-ফ্যাক্টরীর ভিতরে কোন শ্রমিক বা কর্মচারী রয়ে গেছে কিনা তা দেখা।

১০.০৮-ফ্যাক্টরী বন্ধের সময় বাথরুমে কেউ আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া।

১০.০৯-যাবতীয় চাবি ঠিক আছে কিনা তা দেখা।

১০.১০- চাবিগুলো যথাসময় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা করা।

১১.০০-রাত্রীকালীন ডিউটির সময় করণীয়ঃ

১১.০১- রাত্রীকালীন ডিউটির সময় ফ্যাক্টরীর চারদিকে প্রতি ঘন্টা ঘন্টায় টহল দেওয়া।

১১.০২- টর্চ লাইটের ব্যবস্থা রাখা।

১১.০৩-বাঁশি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস সাথে রাখা।

১১.০৪- জরুরী টেলিফোন সম্বলিত রেজিষ্টার কাছে রাখা।

১১.০৫-রাত্রীকালীন দূর্ঘটনার সময় কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া।

১১.০৬-তালা কাটার যন্ত্র কাছে রাখার ব্যবস্থা করা।

১১.০৭- কোন ভিজিটর আসলে তার নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করে রাখা এবং পরবর্তীতে ফ্যাক্টরীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত হলে তাকে তা জানানো।

১১.০৮-অপরিচিত কাউকে ফ্যাক্টরীতে ঢুকতে না দেওয়া।

১১.০৯- মোমমবাতি ও দিয়াশলাই সাথে রাখা।

১১.১০- বারান্দা, সিঁড়ি ইত্যাদি স্থানের বাতি জ্বালিয়ে রাখা।

১২.০০-দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় করণীয়ঃ

১২.০১- সিকিউরিটি গার্ডের শিফ্ট শেষ হলে পরবর্তী সিকিউরিটি গার্ডকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া।

১২.০২-দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সময়, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন- রেজিষ্টার, বাঁশি, টর্চ লাইট ইত্যাদি যা কিছু আছে তা বুঝে নেওয়া।

১৩.০০-ফ্যাক্টরী খোলার সময় করণীয়ঃ

১৩.০১-যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফ্যাক্টরী খোলার ব্যবস্থা করা।

১৩.০২-তালার সীলগালা ঠিক আছে কিনা তা দেখা।

১৩.০৩-সমস্ত গেইট ঠিক আছে কিনা তা দেখা।

১৩.০৪-সমস্ত চাবি ও অন্যান্য জিনিসপত্র ঠিক আছে কিনা তা দেখা।

১৩.০৫-শ্রমিক-কর্মচারীরা কোন কিছু আনলে বা প্রবেশ করালে তা চেক করে ভিতরে প্রবেশ করানো নিশ্চিত করা এবং কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।

১৩.০৬-ফ্যাক্টরীর কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোন কিছু আনলে তা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।

১৩.০৭-ফ্যাক্টরীর শ্রমিক বা কর্মচারী নয় এমন কোন ব্যক্তিকে ফ্যাক্টরীর কোন শ্রমিক বা কর্মচারী ফ্যাক্টরীতে প্রবেশ করাতে চাইলে তাদেরকে বাধা প্রদান করা এবং উভয়কে কর্তৃপক্ষের নিকট সোপর্দ করা।

১৩.০৮-ফ্যাক্টরীর কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোন ব্যক্তিকে ফ্যাক্টরীর ভিতরে দেখলে তাদেরকে বাধা প্রদান করা এবং কর্তৃপক্ষের নিকট সোপর্দ করা।

১৪.০০-গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও টেলিফোন নাম্বার সংগ্রহে রাখাঃ

১৪.০১- যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার, যেমন- ব্যবস্থাপক, পরিচালক, জেনারেল ম্যানেজার, ও এইচ.আর ম্যানেজারসহ প্রমুখ ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, টেলিফোন নাম্বার সম্বলিত রেজিষ্ট্রার সংরক্ষণ করা।

১৪.০২-অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন, যেমন- ওয়াসা, ফায়ার সার্ভিস, গ্যাস, থানা, বিদ্যুৎ অফিস, নিকটস্থ হাসপাতালের টেলিফোন নাম্বার সংগ্রহে রাখা।

১৫.০০-জরুরী বহির্গমন সংক্রান্ত তথ্যঃ

১৫.০১-ফ্যাক্টরী চলাকালীন যাবতীয় বহির্গমন পথ খোলা রাখার ব্যবস্থা করা।

১৫.০২-জরুরী বহির্গমন যাতায়াতের সিঁড়িতে কোন কার্টন, মাল বা অন্য কোন প্রতিবন্ধকতা যেন না থাকে তার ব্যবস্থা করা।

১৬.০০-জরুরী ও নিরাপত্তা বাতিঃ

১৬.০১-ফ্যাক্টরী চলাকালীন সময়ে বহির্গমন নির্দেশিত বাতি জ্বালিয়ে রাখা এবং সার্বক্ষণিক জ্বলছে কিনা খেয়াল রাখা। না জ্বললে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।

১৬.০২-ফ্যাক্টরীর অভ্যন্তরে ও ফ্যাক্টরীর চারপাশে ও সিঁড়িতে রক্ষিত নিরাপত্তা বাতি জ্বালিয়ে রাখা এবং সার্বক্ষণিক জ্বলছে কিনা খেয়াল রাখা। না জ্বললে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।

১৭.০০-পানি ও জলাধারঃ

১৭.০১- ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকা অবস্থায় পানি প্রবাহের প্রধান গেট ভাল্ব গুলো বন্ধ রাখার পদক্ষেপ নেয়া।

১৭.০২-ফ্যাক্টরী চলাকালীন সময়ে ফ্যাক্টরীর যে পাশের কর্মকান্ড বন্ধ আছে সে অংশের পানি প্রবাহের গেট ভাল্ব বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা।

১৭.০৩-জলাধারের ঢাকনা যথাযথভাবে আছে কিনা এবং তাতে কোন প্রকার ধূলাবালি, ময়লা বা কোন কীটপতঙ্গ ইত্যাদি যেন প্রবেশ না করতে পারে সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।

১৭.০৪-জলাধার বা পানি প্রবাহের পাইপ লাইনে কোন প্রকার ক্রুটি বিচ্যুতি থাকলে অথবা কোথাও পানির অপচয় দেখলে তা রোধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।

১৮.০০-নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতাঃ

১৮.০১-এই নীতিমালার প্রতিটি সেকশনের প্রয়োগ ও প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব মূলত সিকিউরিটি সেকশনের। ফ্যাক্টরীর শ্রমিক ও কর্মচারী সহ সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া নিরাপত্তা কর্মীদের একার পক্ষে এই নীতিমালাসমূহ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই সকলকে এই নীতিমালা জানা ও মানার মাধ্যমে নিরাপত্তা কর্মীদের সহযোগিতা করতে হবে।

১৮.০২-নিরাপত্তা কর্মীদের অবগতি ছাড়া কোন পণ্য বা ব্যক্তি ফ্যাক্টরীর ভিতরে প্রবেশ করবে না এবং বের ও হবে না।

১৮.০৩-কোন প্রকার অবৈধ / নিষিদ্ধ জিনিসপত্র ফ্যাক্টরীতে প্রবেশ করানো যাবে না। যদি কোন ব্যক্তি কোন নিষিদ্ধ বস্তু ফ্যাক্টরীতে নিয়ে আসে বা ফ্যাক্টরীর ভিতরে কারো কাছে কোন অবৈধ জিনিস পাওয়া যায়, তাহলে নিরাপত্তা কর্মী সাথে সাথে ফ্যাক্টরীর জেনারেল ম্যানেজার / এইচ.আর ম্যানেজার / এইচ.আর অফিসারকে অবহিত করতে হবে।

১৮.০৪-ফ্যাক্টরীর সীমানার মধ্যে কারো কোন সন্দেহজনক গতিবিধি বা কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হলে সাথে সাথে জেনারেল ম্যানেজার / এইচ.আর ম্যানেজার / এইচ.আর অফিসারকে অবহিত করতে হবে।

১৮.০৫-ফ্যাক্টরীর ভিতরে যে কোন প্রকার নেশাজাতীয় দ্রব্য, যেমন- বিড়ি, সিগারেট ইত্যাদি বা মাদকদ্রব্য, যেমন- ইয়াবা, মদ, ফেন্সিডিল, গাঁজা, সিডাক্সিন, প্যাথেড্রিন ইত্যাদি বা ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য, যেমন- এসিড, বিষ বা  বিস্ফোরক দ্রব্য, যেমন- বোমা, খেলনা বোমা, আতশবাজি ইত্যাদি আনা / ব্যবহার করা / গ্রহণ করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

১৮.০৬-কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত নির্দিষ্ট কাজে ও নির্দিষ্ট এলাকা বাদে ফ্যাক্টরীর ভিতরে কোন প্রকার দাহ্য পদার্থ, যেমন- জ্বালানী তেল, মোমবাতি, দিয়াশলাই ইত্যাদি আনা / ব্যবহার করা  সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

১৮.০৭-নির্দিষ্ট কাজের জন্য কর্তৃপক্ষের সরবরাহকৃত বস্তু ব্যতিত অন্য কোন প্রকার বিপদজনক দ্রব্য, যেমন- ছুরি, কাঁচি, চাকু বা অন্য কোন ধারালো বস্তু আনা যাবে না।

১৮.০৮-শিপমেন্টের খোলা মালামাল যেখানে রাখা হয়, সেখানে অননুমোদিত কোন ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

১৮.০৯-ফ্যাক্টরীরের ভিতরে প্রবেশের সময় ও বের হওয়ার সময় ব্যক্তিগত ব্যবহার্য দ্রব্যাদি, যেমন- হাতব্যাগ, লাঞ্চ ক্যারিয়ার, ব্রিফকেস ইত্যাদি খূলে পরীক্ষর করতে নিরাপত্তাকর্মীকে সহযোগীতা করতে হবে।

১৮.১০-ফ্যাক্টরীতে প্রবেশের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোম্পানী প্রদত্ত আইডি কার্ড বা ভিজিটর কার্ড প্রদশিত অবস্থায় সাথে  রাখতে হবে।

১৮.১১- অননুমোদিত পরিচয়পত্র বা পরিচয়পত্রবিহীন কোন ব্যক্তি যদি ফ্যাক্টরীতে প্রবেশের চেষ্টা করে তাহলে তা প্রতিহত করতে হবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

C-TPAT অডিট কি ? এবং C-TPAT অডিট কি কি এড়িয়া গুলো নিয়ে কাজ করে?

C-TPAT কমপ্লায়েন্স অডিট হলো অডিটররা সংস্থাগুলিকে তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল জুড়ে সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলি মূল্যায়ন এবং উন্নত করতে এবং সুরক্ষা প্রয়োজনীয়তাগুলির সাথে সম্মতি নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সমস্ত শুল্ক-বাণিজ্য অংশীদারিত্বের (C-TPAT বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক প্রয়োজনীয়তা) বিরুদ্ধে সরবরাহ চেইন নিরাপত্তা অডিট করে থাকে।

C-TPAT অডিটররা যে সকল এড়িয়া গুলো নিয়ে কাজ করে তা হলোঃ-

1. Outside Barriers and Physical Security( বাইরের বাধা এবং শারীরিক নিরাপত্তা)।

2. Factory Internal Security (কারখানার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা)।

3. Factory Employee Security(কারখানার কর্মচারী নিরাপত্তা) ।

4. Shipping Dock Security (শিপিং ডক নিরাপত্তা)।

5. Key and Seal Controls (চাবি এবং সীল নিয়ন্ত্রণ)।

6. Security Processes (নিরাপত্তা প্রক্রিয়া)।

7. Container and Merchandise Movement(ধারক এবং পণ্যদ্রব্য আন্দোলন)।

8. Computer Systems Security and Controls(কম্পিউটার সিস্টেম নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ)

C-TPAT এর অডিট স্কোর গুলো কি কি?

C-TPAT-এর ৩ ধরনের অডিট স্কোর রয়েছে। যথাঃ-

1. 0-70 = High risk Priority (উচ্চ ঝুঁকি অগ্রাধিকার)।

2. 71-80 = Medium risk Priority (মাঝারি ঝুঁকি অগ্রাধিকার )।

3. 81-100 = Low risk Priority (কম ঝুঁকি অগ্রাধিকার)।

কিভাবে C-TPAT সার্টিফাইড পাবেন?

সাধারণভাবে, C-TPAT সার্টিফিকেশনের পেতে তিনটি ধাপ রয়েছে। যথাঃ-

1. Risk Assessment.(ঝুঁকি মূল্যায়ন ,C-TPAT প্রার্থী একটি নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন পরিচালনা করে এবং সম্পূর্ণরূপে নথিভুক্ত করে)

2. Application.(আবেদন -তারপর কোম্পানি C-TPAT পোর্টাল সিস্টেমের মাধ্যমে একটি মৌলিক আবেদন জমা দেয়)।

3. সিকিউন্টি প্রোফাইল (Secunty Profile)

৫ পয়েন্ট কন্টেইনার চেক (আনলোডিং এর আগে)

৫ পয়েন্ট কন্টেইনার চেক বলতে সাধারণত শিপিং কন্টেইনারের নিরাপত্তা ও অবস্থা যাচাই করার জন্য একটি পদ্ধতিকে বোঝানো হয়, যা মূলত ৭-পয়েন্ট চেক (7-Point Check) নামে পরিচিত, যেখানে বাইরের দিক, দরজা, দেয়াল (ডান, বাম, সামনের), ছাদ, এবং মেঝে — এই ৭টি প্রধান অংশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়, বিশেষ করে কোনো লুকানো অংশ (hidden compartments) বা টেম্পারিং আছে কিনা, যা পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

৫ পয়েন্ট চেকের মূল বিষয় (৭-পয়েন্ট চেকের উপর ভিত্তি করে)

1. বাইরের দিক ও আন্ডারক্যারেজ (Outside/Undercarriage): কন্টেইনারের বাইরের অংশ, সাপোর্ট বিম (C-beams), চ্যাসিস, এবং নিচের অংশে কোনো ডেন্ট, গর্ত, বা মেরামত আছে কিনা তা দেখা হয়। ফর্কলিফট পকেট পরিষ্কার আছে কিনা, তাও পরীক্ষা করা হয়।

2. দরজা (Doors - Interior/Exterior): লক, হিঞ্জ (কব্জা), এবং লকিং মেকানিজম ভালোভাবে কাজ করছে কিনা, কোনো ক্ষয় বা ভাঙা আছে কিনা, এবং দরজার গ্যাসকেট (gasket) ঠিক আছে কিনা তা দেখা হয়। কোনো নতুন রং বা অস্বাভাবিক চিহ্নের মাধ্যমে টেম্পারিং হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা হয়।

3. ডান ও বাম পাশের দেয়াল (Right & Left Side Walls): দেয়ালের বাইরের ও ভেতরের অংশ পরীক্ষা করা হয়। ট্যাপ করে কোনো ফাঁপা শব্দ (hollow sound) হচ্ছে কিনা, বা কোনো লুকানো অংশ (false panels) আছে কিনা, তা দেখা হয়। মেরামত করা অংশ বাইরে থেকে দৃশ্যমান কিনা, তাও যাচাই করা হয়।

4. সামনের দেয়াল (Front Wall): কন্টেইনারের সামনের অংশ (যেদিকে দরজা থাকে) পরীক্ষা করা হয়। কোনো মেরামত, গর্ত, বা লুকানো Compartment আছে কিনা, তা দেখা হয়। ভেন্ট (ventilation holes) ব্লক হয়ে আছে কিনা, তাও পরীক্ষা করা হয়।

5. মেঝে ও ছাদ (Floor & Ceiling/Roof): ভেতরের মেঝে সমতল কিনা, কোনো ভাঙা বা অস্বাভাবিক মেরামত আছে কিনা, তা দেখা হয়। আলোর পরীক্ষা (light penetration test) করা হয় – দরজা বন্ধ করে ভেতরে আলো প্রবেশ করছে কিনা (যা গর্ত বা গ্যাসকেটের সমস্যা নির্দেশ করে) তা পরীক্ষা করা হয়। ছাদের ভেতরেও কোনো সমস্যা, যেমন গর্ত, আছে কিনা, তা দেখা হয়।

৭ পয়েন্ট কন্টেইনার চেক (লোডিং এর আগে)

৭ পয়েন্ট চেক' বলতে সাধারণত কন্টেইনার নিরাপত্তা পরিদর্শন (Container Security Inspection) বোঝায়, যেখানে কন্টেইনারের সাতটি নির্দিষ্ট অংশ (বাইরে ও নিচের অংশ, দরজা, সামনের দেয়াল, ছাদ, মেঝে, বাম ও ডান সাইড) পরীক্ষা করা হয় কোনো লুকানো অংশ বা ক্ষতি আছে কিনা তা দেখতে, অথবা পোশাক শিল্পের গুণমান নিয়ন্ত্রণের (Quality Control) ক্ষেত্রে কাপড়, রঙ, আনুষাঙ্গিক, কারিগরি দক্ষতা, পরিমাপ, লেবেলিং ও প্যাকিংয়ের ৭টি দিক পরীক্ষা করাকে বোঝায়। এটি একটি পদ্ধতিগত যাচাইকরণ প্রক্রিয়া, যা নিরাপত্তা বা পণ্যের মান নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়।


কন্টেইনার নিরাপত্তার জন্য ৭ পয়েন্ট চেক

(১) বাইরে ও নিচের অংশ (Undercarriage): কোনো অস্বাভাবিক মেরামত, গর্ত বা লুকানো অংশ আছে কিনা তা দেখা।

(২) দরজা (Doors): লক, কব্জা এবং সিল পরীক্ষা করা, কোনো পরিবর্তন বা ক্ষতি আছে কিনা দেখা।

(৩) সামনের দেয়াল (Front Wall): ভেতরের ও বাইরের দিক পরীক্ষা করা, লুকানো অংশ বা জোড়া লাগানো অংশ আছে কিনা দেখা।

(৪) ছাদ (Ceiling/Roof): ভেন্ট এবং ছাদের কাঠামোগত अखंडতা যাচাই করা।

(৫) মেঝে (Floor): ফাটল, দাগ বা লুকানো কম্পার্টমেন্টের জন্য পরীক্ষা করা।

(৬) বাম ও ডান সাইড (Left & Right Sides): Structural beams-এ কোনো মেরামত বা অস্বাভাবিকতা আছে কিনা দেখা।

(৭) লুকানো কম্পার্টমেন্ট (False Compartments): উপরের সব অংশে লুকানো বা নকল কম্পার্টমেন্ট আছে কিনা তা নিশ্চিত করা।

১৮ পয়েন্ট কন্টেইনার চেক (লোডিং এর আগে)

১৮ পয়েন্ট কন্টেইনার চেক বলতে সাধারণত কন্টেইনারের নিরাপত্তা ও অবস্থা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশদ পরিদর্শন প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়, যা C-TPAT (Customs-Trade Partnership Against Terrorism) বা অনুরূপ নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলে, যেখানে কন্টেইনারের ভেতরের ও বাইরের দেওয়াল, সিলিং, মেঝে, দরজা, লকিং সিস্টেম, এবং বাইরের অংশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যেমন — ফ্রন্ট ওয়াল, সিলিং, ফ্লোর, সাইড ওয়াল, ডোর, রুফ, চ্যাসিস ইত্যাদি খুঁটিয়ে দেখা হয়, যাতে চুরি বা টেম্পারিং প্রতিরোধ করা যায় এবং পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

কন্টেইনার নিরাপত্তার জন্য ১৮ পয়েন্ট চেক

 (১) Front Wall

(2) Left Wall

(3) Right Wall

(4) Floor

(5) Celling/Roof

(6) Inside/Out Side Doors

(7) Out Side/Undercarriage

(8) Rear Bumper/Doors

(9) Battery Box

(10) Air Breather

(11) Fuel Tank

(12) Interior Cab Compartments/Sleeper

(13) Faring/Roof

(14) Tool Box/Compartments

(15) Fifth Wheel Atea

(16) Visible Pest/Darty/Eggs etc

(17) Rims

(18) Tires

WRAP, WRAP AUDIT & WRAP নীতিমালা

WRAP কি?

WRAP =WORLD WIDE RESPONSIBLE ACCREDITED PRODUCTION. (বিশ্বব্যাপী দায়িত্বশীল স্বীকৃত উৎপাদন)

WRAP হচ্ছে পোশাক, পাদুকা এবং অন্যান্য সেলাই পণ্য প্রস্তুতকারকদের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম কারখানা ভিত্তিক সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম। ডাব্লুএআরএপি(WRAP) প্রোগ্রামটি 12 টি র‌্যাপ নীতিগুলির সাথে সম্মতির জন্য সুবিধাগুলি প্রত্যায়িত করে যা নিরাপদ, আইনী এবং নৈতিক উৎপাদন প্রক্রিয়ার আশ্বাস দেয়।

WRAP অডিট কি?

একটি WRAP সার্টিফিকেশন অডিট আপনার সম্পূর্ণ উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিদর্শন করবে যাতে আপনি WRAP নীতিমালার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হন এবং আপনার গ্রাহকদের আশ্বাস দেন যে আপনার পণ্যগুলি নৈতিকভাবে উৎপাদিত হয়।

র‌্যাপ কতোটি নীতিমালা নিয়ে গঠিত?

উত্তরঃ র‌্যাপ ১২টি নীতিমালা নিয়ে গঠিত।

WRAP-12 Principles:- (১২ টি নীতিগুলি হলো)ঃ

1. Freedom of Association and Collective Bargaining. (সমিতির স্বাধীনতা এবং যৌথ দরকষাকষি)

2. Compliance with Laws and Workplace Regulations. (আইন এবং কর্মক্ষেত্রের নিয়মাবলী মেনে চলা)

3. Prohibition of Forced Labor. (জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণ)

4. Prohibition of Child Labor. (শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ)

5. Prohibition of Discrimination. (বৈষম্য নিষেধ)

6. Prohibition of Harassment or Abuse. (হয়রানি বা অপব্যবহার নিষিদ্ধ)

7. Compensation and benefits as required by law. (আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ এবং সুবিধা)

8. Hours of Work. (কাজের সময় )

9. Health and Safety. (স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা)

10. Environment. (পরিবেশ)

11. Customs Compliance. (বহি:শুল্ক কমপ্লায়েন্স)

12. Security. (নিরাপত্তা)

WRAP সার্টিফিকেশন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

একটি স্বাধীন, তৃতীয় পক্ষের WRAP সার্টিফিকেশন অডিট প্রতিষ্টানের জন্য একাধিক সুবিধা প্রদান করে। যেমনঃ

১. পোশাক, পাদুকা এবং অন্যান্য সেলাই-পণ্য শ্রমিকদের সাথে ন্যায্য এবং মানবিক আচরণ নিশ্চিত করে।

২. ন্যায্য নিয়োগকর্তা হিসেবে ভোক্তাদের মধ্যে প্রতিষ্টানের খ্যাতি উন্নত করে।

৩. কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ঝুঁকি হ্রাস করে ।

৪. শিল্পকলা ও কর্মচারীদের সম্পৃক্ততা উন্নত করে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ায়।

 WRAP সার্টিফিকেশনের স্তর কয়টি?

WRAP একটি তিন স্তরের প্রোগ্রাম নিয়ে গঠিত, যা 12 টি WRAP নীতিমালার সাথে সম্মতিপূর্ণ ডিগ্রী অনুসারে সুবিধাগুলির জন্য প্রশংসাপত্র বা সার্টিফিকেট প্রদান করে। তা হলোঃ

১. PLATINUM-প্লাটিনাম (মেয়াদ ২ বছর) পরপর তিনটি সার্টিফিকেশন অডিটের জন্য সম্পূর্ণ সম্মতি প্রদর্শন করে ।

২. Gold-স্বর্ণ (মেয়াদ ১ বছর) WRAP এর 12 টি মূলনীতির সাথে সম্পূর্ণ সম্মতি প্রদর্শন করে ।

৩. Silver- রোপা (মেয়াদ ৬ মাস) ছোটখাট সমস্যাগুলির সাথে যথেষ্ট সম্মতি প্রদর্শন ক

 

 লেখক

মোঃ ইজাবুল আলম

চিফ ট্রেনিং অফিসার (CTO)

01534143644 (WhatsApp)

Monday, December 1, 2025

ভূমিকম্প নিরাপত্তায় করণীয়। লেখক মোঃ ইজাবুল আলম

ভূমিকম্প নিরাপত্তায় করণীয়

মোঃ ইজাবুল আলম

ভূমিকাঃ  বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভূমিকম্প একটি আতঙ্কের নাম হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নগর জীবনে ভূমিকম্প ভীত সত্যিই বেশি। ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কিছু অঞ্চল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। কারণ ঢাকার বেশিরভাগ ভবনই ভূমিকম্প নিরোধক নয়। এমতাবস্থায় বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে দুর্যোগ নেমে আসবে।

এছাড়া বিজ্ঞানীরা বহু দিন ধরে বলে আসছে যে, বড় ধরনের ভুমিকম্পের ঝুঁকির মুখে আছে বাংলাদেশ। কবে সেই ভূমিকম্প আঘাত হানবে তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও সতর্কতার বিকল্প নেই।

ভূমিকম্প কী

ভূমিকম্প হচ্ছে ভূমির কম্পন। ভূ অভ্যন্তরে যখন একটি শিলা অন্য একটি শিলার উপরে উঠে আসে তখন ভূমি কম্পন হয়। পৃথিবীপৃষ্ঠের অংশবিশেষের হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন বা আন্দোলনই ভূমিকম্পন। হঠাৎ যদি ঘরের কোনো জিনিস দুলতে শুরু করে—যেমন, দেয়ালঘড়ি, টাঙানো ছবি বা খাটসহ অন্য যেকোন আসবাব—বুঝতে হবে ভূমিকম্প হচ্ছে। সহজ কথায় পৃথিবীর কেঁপে ওঠাই ভূমিকম্প।

সারা পৃথিবীতে বছরে গড়ে ছয় হাজার ভূমিকম্প হয়। এগুলোর বেশিরভাগই মৃদু, যেগুলো আমরা টের পাই না। সাধারণত তিন ধরনের ভূমিকম্প হয়ে থাকে—প্রচণ্ড, মাঝারি ও মৃদু। আবার উৎসের গভীরতা অনুসারে ভূমিকম্পকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়—অগভীর, মধ্যবর্তী ও গভীর ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ভূ-পৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে অগভীর, ৭০ থেকে ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে মধ্যবর্তী এবং ৩০০ কিলোমিটারের নিচে হলে তাকে গভীর ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ভূমিকম্প কেন হয়

ভূ-অভ্যন্তরে স্থিত গ্যাস যখন ভূ-পৃষ্ঠের ফাটল বা আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে তখন সেই গ্যাসের অবস্থানটি ফাঁকা হয়ে পড়ে আর পৃথিবীর উপরের তলের চাপ ওই ফাঁকা স্থানে দেবে গিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে। তখনই ভূ-পৃষ্ঠে প্রবল কম্পনের অনুভব হয় যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত। সাধারণত তিনটি প্রধান কারণে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়ে থাকে—ভূ-পৃষ্ঠের হঠাৎ পরিবর্তন জনিত কারণে, আগ্নেয়গিরি সংঘটিত হওয়ার কারণে ও শিলাচ্যুতি জনিত কারণে।

ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব

ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব সাধারণত কয়েক সেকেন্ড হয়ে থাকে। কিন্তু এই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হয়ে যেতে পারে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। ভূমিকম্পের মাত্রা অনুযায়ী ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহৃত হয় তার নাম রিখটার স্কেল। রিখটার স্কেলে এককের সীমা ১ থেকে ১০ পর্যন্ত। এই স্কেলে মাত্রা ৫-এর বেশি হওয়া মানেই ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা। ভূমিকম্প এক ডিগ্রি বৃদ্ধি পেলে এর মাত্রা ১০ থেকে ৩২ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা—৫ – ৫.৯৯ মাঝারি, ৬ – ৬.৯৯ তীব্র, ৭ – ৭.৯৯ ভয়াবহ এবং ৮-এর উপর অত্যন্ত ভয়াবহ।


ভুমিকম্পের সময় আমাদের করণীয়

বন্যা, জলোচ্ছাস, সুনামী বা আবহওয়ার পূর্বাভাস দেয়ার যন্ত্র বের হলেও অদ্যবধি ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়ার যন্ত্র আবিস্কৃত হয় নি। তবে ভূমিকম্প শুরু হলে তার স্থায়িত্ব কাল নির্ণয়ের রিক্টার স্কেল নামক একটি যন্ত্র আছে।যেহেতু ভূমিকম্পের আগাম তথ্য বা পূর্বাভাস জানার কোনো উপায় নাই এবং ভূমিকম্প কোন দিন কখন শুরু হবে সেটাও জানার কোনো উপায় নাই তাই আমাদেরকে প্রশিক্ষণ গ্রহনের মাধ্যমে সর্বদা সচেতন ও সতর্কাবস্থায় বসবাস করতে হবে।

প্রশিক্ষণে আমরা তিনটি করণীয় সম্পর্কে জানবো। তা হলোঃ

১। ভূমিকম্পের পূর্বে করণীয়।

২। ভূমিকম্পের সময় করণীয়।

৩। ভূমিকম্পের পর করণীয়।

ভূমিকম্পের পূর্বে করণীয়

ভূমিকম্প কখন শুরু হবে, কি হবে না সে চিন্তাভাবনা না করে আমরাঃ-

১। বিপদ চিহ্নিতকরণঃ যে বাড়িতে বা প্রতিষ্ঠানে বসবাস করছি বা কাজ করছি সেখানে বিপদ চিহ্নিত করতে হবে।

২। প্রস্থানের রাস্তা উন্মুক্তকরণঃ বাসা, বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালীন ভূমিকম্প শুরু হলে যাতে দ্রুত বের হওয়া যায় এমন সব দরজা উন্মুক্ত রাখতে হবে।সিঁড়ি বা দরজার সামনে কখনো কোনো মালপত্র রেখে যাতায়াতের রাস্তা সংকীর্ণ বা চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।

৩। উঁচু ও শক্ত আসবাব পত্রঃ রুমের মধ্যে নিরাপদ স্থানে উঁচু ও শক্ত আসবাব পত্র রাখতে হবে। যাতে ভূমিকম্প শুরু হলে এই সব আসবাব পত্রের নীচে বা পার্শ্বে লুকানো যায়।

৪। দূর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনাঃ একটি দূর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এবং পরিকণ্পনাগুলো পরিবার বা অফিস স্টাফদের সাথে আলোচনা করতে হবে।

৫। প্রাথমিক চিকিৎসাঃ ভুমিকম্পের সময় অনেকের হাত, পা বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গের ক্ষয় ক্ষতি হতে পারে। সে জন্য আমাদেরকে পূর্ব থেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

৬। প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংরক্ষণকরণঃ বড় ধরণের ভূমিকম্প হলে বিল্ডিং ধ্বসে পড়তে পারে। সে সময় অনেকে ধ্বংস স্তুপের নীচে আটকা পড়ে। অথবা হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। সে জন্য পূর্ব থেকেই খাবার পানি, প্রাথমিক চিকিৎসার ঔষধ, টর্চ লাইট, টিন জাত খাবার বা শুকনো খাবার, বাঁশি ইত্যাদি মজুত রাখতে হবে।

ভূমিকম্পের সময় করণীয়

(ক)  ভূমিকম্পের সময় ঘরের ভেতরে বা অফিসে থাকলে করণীয়ঃ

১. ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সাথে সাথে মাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে বসে পড়তে হবে, শক্ত-মজবুত কোনো আসবাবের নিচে ঢুকে যেতে হবে এবং সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের দেহের মধ্যে মাথা হলো সবচেয়ে নমনীয় অঙ্গ, আসবাবের আশ্রয় না পেলে হাত দিয়ে মাথা রক্ষা করতে হবে। ধ্বংসস্তুপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মাথা ও গলা হাত দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এ পদ্ধতিকে ড্রপ, কভার এবং হোল্ড অন বলে।




২. নিরাপদ আসবাবপত্র না পেলে ঘরের ভেতরের দিকের দেয়ালের নিচে বসে আশ্রয় নিতে হবে। বাইরের দিকের দেয়াল বিপজ্জনক।

৩. জানালার কাঁচ, আয়না, আলমারি, দেয়ালে ঝুলানো বস্তু থেকে দূরে থাকতে হবে। এগুলো ভেঙে মাথায় পড়তে পারে, তাই সতর্ক থাকতে হবে।

৪. কম্পন না থামা পর্যন্ত যেকোনো শক্ত জিনিস ধরে রাখতে হবে। যদি বিছানায় থাকেন সেখানেই শুয়ে থাকতে হবে। মাথা ও গলা বালিশ দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।

৫. বহুতল ভবনের ওপরের দিকে অবস্থান করলে ঘরের ভেতরে থাকাই ভাল। কারণ, নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর পূর্বেই ভূমিকম্পের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া নামতে নামতেও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

৬. ভূকম্পন থেমে গেলে বের হয়ে আসতে হবে।

৭. নিচে নামতে চাইলে কোনোভাবেই লিফট ব্যবহার করা যাবে না। সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে নামতে হবে। নামার সময় মোবাইল ফোন আর ঘরের চাবিটা সম্ভব হলে হাতে নিতে হবে।

৮। ঘরে হেলমেট  জাতীয় কিছু থাকলে দ্রুত নিজের মাথায় পরতে হবে ও অন্যদের পরতে বলতে হবে।

৯। রাতে ঘুমানোর সময় ভুমিকম্প হলে কোন হুড়াহুড়ি না করে গড়িয়ে মেঝেতে কুন্ডলি পাকিয়ে শুয়ে পড়তে হবে বিছানাকে ঢাল বানিয়ে। খেয়াল রাখতে হবে যেন বিচানার নীচে চলে না যান, বিছানার পাশে আশ্রয় নিতে হবে।

১০। বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়ার সময় সিলিং কোন অবজেক্টের ওপর পড়ে একে গুঁড়িয়ে দেয়, ঠিক তার পাশেই ছোট্ট একটি খালি জায়গা থাকে। একে বলা হয় ‘সেফটি জোন’ বা ‘ট্রায়াঙ্গল অফ লাইফ’। তাই ভূমিকম্পের সময় বড় কোন সোফা বা বড় কোন অবজেক্ট যেটা কম কম্প্রেস করবে- এ রকম কিছুর পাশে আশ্রয় নিলে বাঁচার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

১১। ভূমিকম্পের সময় জানালা বা বারান্দা দিয়ে লাফ দেয়া যাবে না।

১২। বাসা বাড়ি বা অফিস কিংবা কারখানায় থাকলে দ্রুত বৈদ্যুতিক সুইচ ও গ্যাস লাইন বন্ধ করে দিতে হবে।

১৩। টাকা-পয়সা, সোনা-দানা কোন কিছু সংগে নেওয়ার লোভে অযথা সময় নষ্ট করা যাবে না।

 (খ)  অফিস বা বাড়ির বাইরে থাকলে করণীয়:

১. খোলা জায়গা খুঁজে আশ্রয় নিতে হবে। বহুতল ভবনের প্রান্তভাগের নিচে কোনোভাবেই দাঁড়ানো যাবে না। উপর থেকে খণ্ড পড়ে আহত হতে পারেন।

২. লাইট পোস্ট, বিল্ডিং, ভারি গাছ অথবা বৈদ্যুতিক তার ও পোলের নিচে দাঁড়ানো যাবে না।

৩. রাস্তায় ছোটাছুটি করা যাবে না। মাথার উপর কাচের টুকরা, ল্যাম্প পোস্ট অথবা বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

(গ)  চলমান গাড়িতে থাকলে করণীয়ঃ

১. তৎক্ষণাৎ গাড়ি থামিয়ে খোলা জায়গায় পার্ক করে গাড়ির ভেতরেই আশ্রয় নিতে হবে।

২. কখনই ব্রিজ, ফ্লাইওভারে থামা যাবে না।

৩. বহুতল ভবন কিংবা বিপজ্জনক স্থাপনা থেকে দূরে গাড়ি থামাতে হবে।

৪. ভূমিকম্প না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরেই অপেক্ষা করতে হবে।

ভূমিকম্পের পরে করণীয়

১। ভূমিকম্প শেষ হলেও আবারও কম্পন হতে পারে সে জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রায়ই দেখা যায় পরপর কয়েকবার কম্পন হয়। আবার এক ঘণ্টার মধ্যে দুই বারও কম্পন হয়ে যায়। কখনও এক মাসের মধ্যেও ভূমিকম্প হতে পারে। তাই একবার ভূমিকম্প হওয়ার পর আবারও হতে পারে সে ব্যাপারে সাবধান ও সতর্ক থাকতে হবে।

২। যথা সম্ভব শান্ত থাকতে হবে।

৩। উপর থেকে ঝুলন্ত জিনিসপত্র কিছুক্ষণ পরেও পড়তে পারে। তাই নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে।

৪। নিজে আহত কিনা পরীক্ষা করতে হবে, তারপর অপরকে সাহায্য করতে হবে। বাড়ি ঘরের ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। নিরাপদ না হলে সবাইকে নিয়ে বের হয়ে যেতে হবে।

৫। গ্যাসের সামান্যতম গন্ধ পেলে জানালা খুলে বের হয়ে যেতে হবে এবং দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে।

৬। কোথাও বৈদ্যুতিক স্পার্ক চোখে পড়লে মেইন সুইচ বা ফিউজ বন্ধ করে দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বিল্ডিং থেকে সাবধান থাকতে হবে। অগ্নিকাণ্ড হতে পারে।তাই সতর্ক থাকতে হবে।

৭। আহতদের খুঁজে বের করতে হবে।এবং তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। মারাত্মক জখম হলে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৮। অগ্নি, গ্যাস লিক, ক্ষতি গ্রস্ত তার ও পতনশীল বস্তু চেক করতে হবে।

৯। যতক্ষণ পর্যন্ত অফিস বা বাসা বাড়ির নিরাপদ নিশ্চিত না হওয়া যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত কক্ষে প্রবেশ করা যাবে না।

ধ্বংসস্তুপে আটকা পড়লে করণীয়


১. আগুন জ্বালানো যাবে না। বাড়িটিতে গ্যাসের লাইন লিক থাকলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

২. ধুলোবালির মধ্যে পড়লে হাত অথবা রুমাল দিয়ে নাক মুখ ঢেকে নিতে হবে।

৩.ধীরে নড়াচড়া করতে হবে এবং উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকতে হবে।কাছে টর্চ লাইট বা মোবাইল থাকলে ধ্বংসস্তুপের ফাঁক দিয়ে আলো জ্বালিয়ে বাহিরে আলোর সংকেত প্রেরণ করে নিজের অবস্থান জানানোর চেষ্টা করতে হবে।হাতের কাছে বাঁশি থাকলে তা বাজিয়েও নিজের অবস্থান জানানো যেতে পারে। এছাড়া উদ্ধার কাজের সময় নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে পাইপ অথবা দেয়ালে আস্তে আস্তে টোকা দিয়ে শব্দ করা যেতে পারে। চিৎকার না করাটাই শ্রেয়, এতে প্রচুর পরিমাণে ধূলা নিঃশ্বাসের সাথে ঢুকে যেতে পারে।

উপসংহারঃ ভূমিকম্প হলে অনেককেই দিশেহারা হয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এটা মোটেও উচিৎ নয়। কারণ, এই অহেতুক ছোটাছুটি অনেক সময় আরও বেশি বিপদ হয়ে দেখা দেয়। তাই ভূমিকম্পকালে দিশেহারা ছোটাছুটি না করে মাথা ঠান্ডা রেখে নিজেকে বাঁচানোর সঠিক করণীয়গুলো পালন করতে হবে।তিনটি জিনিস মনে রাখতে হবে। ঝুঁকে পড়া, ঢেকে রাখা ও ধরে রাখা।

 

প্রশ্নোত্তর পর্ব

?

ধন্যবাদ

..............................................................

ভূমিকম্প সংক্রান্ত প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর

1. পৃথিবীর সর্বাধিক ভূমিকম্প ও সুনামিপ্রধান দেশ: জাপান

2. বিজ্ঞানের শাখা যা ভূমিকম্প আলোচনা করে: ভূতত্ত্ব (Seismology)

3. ভূমিকম্পের তীব্রতমাপক স্কেল: ম্যাগনিচুড স্কেল (Richter scale)

4. ভূমিকম্প তরঙ্গের তীব্রতা ও গতিবিধির রেখাচিত্র অঙ্কন: সিসমোগ্রাফ (Seismograph)

5. আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্র: প্যাসিফিক সিসমিক নেটওয়ার্ক, যুক্তরাষ্ট্র (Pacific Seismic Network, USA) বা অনেক সময় জাপানের সেন্দাই (Sendai) উল্লেখ করা হয়

6. পৃথিবীতে সংঘটিত ভূমিকম্পের কত শতাংশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় বলয়ে সৃষ্টি হয়: প্রায় 90%

7. কোন ভূমিরূপে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বেশি: সীমানা অঞ্চল বা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল যেমন পর্বতমালা অঞ্চলে

8. মহারাষ্ট্রের কয়নাতে কৃত্রিম ভূমিকম্পের কারণ: জীবাশ্ম ইন্ধন উত্তোলন বা খনিজ অনুসন্ধানের জন্য বিভিন্ন কৃত্রিম পরীক্ষার জন্য (যেমন স্পেক্ট্রাল সীসমিক পরীক্ষা)

9. ভূমিকপ পরিলেখ মন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করা হয়: সিসমোগ্রাফ (Seismometer) দ্বারা

10. ভারতের ভূমিকম্পের দিক থেকে নিরাপদ শহর: চেন্নাই বা শিলিগুড়ি (কম ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায়)

11. আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প সমীক্ষা কেন্দ্র: আন্তর্জাতিক সিসমোলজিক্যাল সেন্টার, নিউইয়র্ক (International Seismological Centre, UK)

12. ভূমিলিখ যন্ত্রের আবিস্কারক: চার্লস রিচটার (Charles Richter)

13. ভূমিকপের ফলে ক্ষয়ক্ষতি সর্বাধিক হয়: জনবহুল ও অপরিকল্পিত নগর এলাকায়

14. ভূমিকপের উৎপত্তিস্থলের ঠিক উপরে ভূপৃষ্ঠে অবস্থিত স্থান: এপিসেন্টার (Epicenter)

15. শব্দ তরঙ্গের ন্যায় গতি: প্রাথমিক তরঙ্গ বা 'P' তরঙ্গের মতো কুশল (Compressional) তরঙ্গ

16. তরল ও কঠিন উভয় মাধ্যমে অভিক্লস (Propagation) করে: প্রাথমিক তরঙ্গ (P-waves)

17. দ্রুততম টুকন্দ্রীয় তরঙ্গ: প্রাথমিক তরঙ্গ (P-wave)

18. প্রাথমিক তরঙ্গ: সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে চলাচলকারী কম্প্রেশনাল তরঙ্গ, যা দ্রুতগতিতে সঞ্চার হয়

19. আলোক তরঙ্গের ন্যায় গতি: প্রাথমিক তরঙ্গের গতি কারণ উভয়ই তরঙ্গগতির দ্রুততম ধরনের

20. পৃষ্ট তরঙ্গ: সেকেন্ডারি তরঙ্গ (S-wave) বা শিয়ার তরঙ্গ যা ভূ-পৃষ্ঠ বরাবর চলে

21. স্বীংসাত্মক ভূশম্মীয় তরঙ্গ: পৃষ্ঠতল তরঙ্গ (Surface waves), বিশেষত রেলে তরঙ্গ (Rayleigh waves)

22. ভূপৃষ্ঠ বরাবর অনুভূমিকভাবে সমকোণে ধাবিত হয়: শিয়ার তরঙ্গ (S-waves)

23. আইসোসিসমন লাইন: সমতাপলাইন, অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট তীব্রতার ভূমিকম্প এরেখা যা একটি মানচিত্রে যুক্ত করা হয়

24. ভূমিকম্পের 1-10 পর্যন্তাত্মক সূচক: রিখটার স্কেল (Richter Scale)

25. প্রাথমিক তরঙ্গ হল: সবচেয়ে দ্রুতগামী কম্প্রেশনাল তরঙ্গ যা ভূ-স্তর মাধ্যমে চলাচল করে।

 


 লেখক

মোঃ ইজাবুল আলম

চিফ ট্রেনিং অফিসার (CTO)

01534143644 (WhatsApp)

C-TPAT প্রশিক্ষণ গাইড - লেখক মোঃ ইজাবুল আলম

C-TPAT প্রশিক্ষণ গাইড লেখক মোঃ ইজাবুল আলম বাংলাদেশের প্রতিটি শিল্প কারখানায় সিটিপ্যাট অনুসারে নিরাপত্তা কর্মীরা যেমন তাদের দায়িত্ব ও কর্...