Thursday, March 25, 2021

কন্ট্রোল রুম সুপারভাইজারের দায়িত্ব ও কর্তব্য। লেখক মোঃ ইজাবুল আলম

 

কন্ট্রোল রুম সুপারভাইজারের দায়িত্ব ও কর্তব্য

 বিগত ২৯ অক্টোবর ২০২০ তারিখে প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত, বাংলাদেশে সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ হয়েছে ২০১৭ সালে। সেই জরিপ অনুযায়ী, দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ৬ কোটি ৩৫ লাখ। আর তাদের মধ্যে কাজ করেন ৬ কোটি ৮ লাখ নারী-পুরুষ। দুই সংখ্যার মধ্যে বিয়োগ দিলেই পাওয়া যায় বেকারের সংখ্যা। আর সেটি হলো ২৭ লাখ। আর শতাংশ হিসাবে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

যতই অবিশ্বাস্য লাগুক, বেকারত্বের হারের এই পরিসংখ্যানই ব্যবহার করে যেতে হবে। অথচ কোভিড-১৯–এর কারণে অর্থনীতি বিপর্যস্ত। গত মার্চের শেষ দিক থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর অর্থনীতি কার্যত অচল হয়ে গেলে বহু মানুষ কাজ হারান। অর্থনীতি আবার সচল হলেও অনেকেই কাজ ফিরে পাননি। তারপরেও সরকারি হিসাবে বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখই থাকবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আবার যখন শ্রমশক্তি জরিপ করবে, তখনই জানা যাবে নতুন তথ্য।

সরকারি হিসেব যাই বলুক না কেনো বাস্তবে বেকারের সংখ্যা অনেক অনেকগুণ বেশী। প্রতি বছর বেকারের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৬ লক্ষ। সেই অনুপাতে সরকারি চাকরি তো হয়ই না বর্তমানে কোম্পানিগুলোতেও চাকরি মিলে না। শুধু তারাই টিকে আছে বা থাকবে যারা কারিগড়ি শিক্ষায় শিক্ষিত ও বাস্তবধর্মী অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোক। আপনি যে কোম্পানিতেই ভাইভা দিতে যান না কেনো প্রথমেই জিজ্ঞেস করবে কাজের অভিজ্ঞতা আছে কিনা। তাছাড়া এখন সিভি সর্ট করার সময়ই প্রথমে দেখে নেয় সেই কাজের অভিজ্ঞতা লিখেছ কিনা। যাই হোক চাকরিই যদি না হয় অভিজ্ঞা আসবে কোথা থেকে?

আমি এখানে একটি সিকিউরিটি কোম্পানিতে নিয়োজিত কন্ট্রোল রুম সুপারভাইজারের দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী নিয়ে আলোচনা করেছি। বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানিতে এই পদে লোক নিয়োগের জন্যে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। এই পদে চাকরি করতে চাইলেও তাকে পূর্ব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হতে হবে। যেহেতু আপনার কোথাও চাকরি হয়নি তাই এই পদে চাকরি করতে চাইলে পূর্ব থেকে একটা আইডিয়া নিয়ে রাখতে হবে। আপনি নিজেই  নিজেকে অভিজ্ঞ বানাতে পারবেন।

প্রথমত- আপনাকে কম্পিউটারে দক্ষ হতে হবে।

দ্বিতীয়ত- আপনাকে সিসিটিভি মনিটরিং সিস্টেম জানতে হবে।

তৃতীয়ত- আপনাকে ডিভাইস এর মাধ্যমে ট্রাকিং সিস্টেম জানতে হবে।

চতুর্থ- আপনাকে প্রতিবেদন সাজিয়ে লেখার কৌশল জানতে হবে।

পঞ্চম- আপনাকে ধৈর্য্যশীল হতে হবে।

এখানে একটি সিকিউরিটি কোম্পানির কন্ট্রোল রুম সুপারভাইজারের দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী আলোচনা করা হয়েছে। এগুলো অনুসরন করতে পারেন।

কন্ট্রোল রুম সুপারভাইজারের দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহঃ

১। কন্ট্রোল রুম সুপারভাইজারগণ তাদের সাপ্তাহিক রোস্টার মোতাবেক ডিউটি করবেন। দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়া কোনো ডিউটি পরিবর্তন করা যাবে না।

২। ডিউটি শুরুর কমপক্ষে ১৫ মিনিটি পূর্বে কন্ট্রোল রুমে উপস্থিত হয়ে পূর্বের সুপারভাইজারের নিকট থেকে পরবর্তী কোনো কার্যক্রম কিংবা নির্দেশনা থাকলে এবং যাবতীয় ইকুইপমেন্ট বা মালামাল বুঝে নিয়ে রেজিস্টারে স্বাক্ষর করবেন।

৩। অপারেসন্স এর নিয়ন্ত্রনে যে সমস্ত সিকিউরিটি আইটেম আছে সেগুলি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবেন এবং মাসে একবার সেগুলি সচল আছে কিনা তা চেক করে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করবেন। আইটেমগুলি চালু অবস্থায় না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে তা মেরামতের ব্যবস্থা করবেন। কন্ট্রোল রুম এ বর্ণিত আইটেমগুলো ডিউটি গ্রহণ/হস্তান্তর এর সময় রিলিভারের নিকট থেকে বুঝে নিবেন।

৪। প্রতি দিন বিকাল ১৬০০ ঘটিকার সময় ঢাকা শহর ও ঢাকা শহরের বাহিরের সকল জোনাল ইনচার্জ বা এরিয়া ম্যানেজার বা ফিল্ড সুপারভাইজারের নিকট হতে নিম্ন লিখিত তথ্যসমূহ মোবাইল ফোন বা ল্যান্ড ফোনের মাধ্যমে সংগ্রহ করে সাথে সাথে আপডেট রিপোর্ট দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন।

ক। কোনো সিকিউরিটি গার্ড বা পোস্ট সুপারভাইজার বা গানম্যান অনুপস্থিত আছে কিনা।

খ। অনুপস্থিত সিকিউরিটি গার্ড বা পোস্ট সুপারভাইজার বা গানম্যান এর স্থলে রিপ্লেসমেন্ট প্রদান করা হয়েছে কিনা।

গ। কারো ডিউটি ২৪ ঘন্টা হয়েছে কিনা।

ঘ। কারো ডিউটি ২৪ ঘন্টা হলে উক্ত ব্যক্তি, গার্ড নম্বর ও ডিউটি পোস্টের নাম।

ঙ। বর্তমান ডিউটি পোস্ট বন্ধ হয়েছে কিনা।

চ। কোনো নতুন পোস্টে ডিউটি শুরু হয়েছে কিনা।

ছ। কারো ইউনিফর্মের কোনো সমস্যা আছে কিনা।

জ। শৃংখলাজনিত কোনো বিষয়াদি।

ঝ। নতুন গার্ড ভর্তি হয়েছে কিনা।

ঞ। কোনো সিকিউরিটি গার্ড বা পোস্ট সুপারভাইজার বা গানম্যান অব্যাহতি গ্রহণ করেছে কিনা।

ট। পোস্টে কোনো প্রশিক্ষণের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা।

৫। প্রতি দিন সকাল ০৯০০ ও সন্ধ্যা ১৯০০ ঘটিকার সময় ঢাকা শহর ও ঢাকা শহরের বাহিরের সকল জোনাল ইনচার্জ বা এরিয়া ম্যানেজার বা ফিল্ড সুপারভাইজারের নিকট হতে নিম্ন লিখিত তথ্যসমূহ মোবাইল ফোন বা ল্যান্ড ফোনের মাধ্যমে সংগ্রহ করে সাথে সাথে আপডেট রিপোর্ট ম্যানেজার (অপস) কে অবহিত করতে হবে।

ক। কোনো INCIDENT ঘটেছে কিনা।

খ। ক্লায়েন্ট কর্তৃক কোনো অভিযোগ করা হয়েছে কিনা এবং অভিযোগ থাকলে সমাধানের জন্য কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে কিনা।

গ। কোনো ডিউটি পোস্ট খালি ছিল কিনা।

ঘ। কোনো সিকিউরিটি গার্ড এর এক নাগারে ২৪ ঘন্টা ডিউটি ছিল কিনা।

ঙ। গুরুত্বপূর্ণ পোস্টসমূহে গার্ড/সুপারভাইজার ঠিক মতো উপস্থিত ছিল কিনা কিংবা কোনো সমস্যা ছিল বা আছে কিনা।

চ। আইন শৃংখলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য নেয়া।

ছ। ফিল্ড সুপারভাইজার কর্তৃক কতো জন ক্লায়েন্ট ভিজিট করা হয়েছে।

জ। কতোজন প্রত্যাশিত (Prospective) ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

ঝ। কতোজন সিকিউরিটি গার্ড ছুটিতে আছে, পোস্ট বা জোন ওয়াইজ হিসাব নেয়্।া

ঞ। কতোজন সিকিউরিটি গার্ড অনুপস্থিত আছে।

ট। কোনো নতুন পোস্ট ওপেন হয়েছে কিনা।

ঠ। কোনো পোস্ট ক্লোজ হয়েছে কিনা।

ড। কোনো সিকিউরিটি গার্ড চাকরি হতে ইস্তফা দিয়েছে কিনা।

ণ। শৃংখলাজনিত কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে কিনা।

ত। স্পেশাল ডিউটি পোস্টসমূহে কোনো সমস্যা আছে কিনা।

৬। ফিল্ড সুপারভাইজারগণ ২৪ ঘন্টা বিভিন্ন ডিউটি পোস্টে সিকিউরিটি গার্ডদের ডিউটি পরিদর্শন করে থাকেন। উক্ত ফিল্ড সুপারভাইজারগণ কর্তৃক গুরুতর কোনো রিপোর্ট সম্পর্কে কন্ট্রেল রুমকে অবহিত করলে তা সাথে সাথে ম্যানেজ্রা (অপস) কে অবহিত করবেন এবং অকারেন্স বুকে লিখে রাখবেন। জরুরী না হলে তা অকারেন্স বুকে লিখে পরের দিন সকালে দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসারকে অবহিত করবেন।

৭। প্রধান কার্যালয়ের সমস্ত গাড়ি এবং অফিসের প্রতিটি রুমের চাবি কন্ট্রোল রুমে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবেন। অফিস ছুটির পর সকল রুম সঠিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হবেন।

৮।  কোম্পানির অপারেশন অফিসের নিয়ন্ত্রণের সকল গাড়ির সঠিক অবস্থান সম্পর্কে সব সময় অবহিত থাকবেন। গাড়ি পার্কিং এর সময় সংশ্লিষ্ট ড্রাইভারের নিকট থেকে সম্পূর্ণ পরিস্কার অবস্থায় গাড়ি বুঝে নিবেন। সমস্যা থাকলে সাথে সাথে অকারেন্স বুকে লিখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। গাড়ির জ্বালানী (তেল/গ্যাস) ঠিক আছে কিনা তা চেক করে নিবেন।

৯। গাড়িতে রাখা জিনিস পত্র যেমন: গামছা, বালতি, জ্যাক, বাড়তি টায়ারসহ সকল জিনিস পত্র ঠিক আছে কিনা, গ্রহণকারী তা বুঝে নিবেন।

১০। গাড়ির লগ বুক ঠিক মতো পূরণ করা আছে কিনা তা চেক করে নিবেন।

১১। গাড়ি হস্তান্তরকারী ও গ্রহণকারী কন্ট্রোল রুমে রক্ষিত রেজিস্টারে তারিখ ও সময় উল্লেখ পূর্বক স্বাক্ষর করবেন। গাড়ির কোনো অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হলে তা রেজিস্টারে উল্লেখ করবেন।

১২। ডিউটি চলা অবস্থায় (২৪ ঘন্টা) যেকোনো সময় পোস্ট থেকে গার্ড বা পোস্ট সুপারভাইজার বা ফিল্ড সুপারভাইজার বা এরিয়া ম্যানেজার বা সম্মানত গ্রাহক/ক্লায়েন্ট যে কোনো তথ্য বা অভিযোগ প্রদান করলে তা অকারেন্স বুকে লিখে পরের দিন দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাবেন।

১৩। গার্ড ভর্তির বিষয়ে কেহ ফোন করলে গার্ড ভর্তির নিয়মাবলী তাকে ধৈর্য্য সহকারে বুঝিয়ে বলবেন এবং রিক্রুটিং অফিসারের মোবাইল নম্বর দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করবেন।

১৪। নতুন কোনো ক্লায়েন্ট গার্ড নেয়ার জন্য ফোন করলে সেলস এ্যান্ড মার্কেটিং এর মোবাইল নম্বর দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানাবেন।

১৫। কন্ট্রোল রুমের সুপারভাইজারগণ অফিসের ভিতর ও বাহিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। বিশেষ করে অফিস ছুটির পর ও বন্ধের দিনগুলোতে অফিসের চতুর্দিকে নজরদারী বাড়ানোসহ সতর্কতা ও সাবধনতা অবলম্বন করতে হবে।

১৬। দায়িত্ব চলাকালীন সব সময় মোবাইল ফোন সুপারভাইজার তার সঙ্গে রাখবেন। কিংবা মোবাইল এর নিকটে থাকবেন।

১৭। কন্ট্রোল রুমে বাংলাদেশের সকল থানা, সকল ফায়ার সার্ভিস, র‌্যাবের সকল সেক্টর, জেলা ভিত্তিক সরকারি হাসপাতাল/বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক এর মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ থাকবে। বিশেষ প্রয়োজনে সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে ফোন করে বিষয়টি অবগত করবেন।

১৮। কোম্পানিতে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ পোস্ট অনুযায়ী সকল গার্ড/সুপারভাইজার এর নাম ও মোবাইল নম্বর রেজিস্টারে সংরক্ষিত থাকবে।

১৯। কোনো এলাকা  বা জোন থেকে এক নাগারে তিন দিন কোনো তথ্য না এলে সুপারভাইজার  নিজেই ফোন করে খোঁজ খবর নিবেন।

২০। এরিয়া ম্যানেজার , ফিল্ড সুপারভাইজার ও পোস্ট সুপারভাইজার তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে কিনা তা মনিটরিং করবেন।

২১। যে কোনো তথ্য সঠিকভাবে জেনে নিয়ে কিংবা নিশ্চিত হয়ে রিপোর্টিং হিসেবে উপস্থাপন করবেন। কারো বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক কিংবা হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে কোনো কাজ করবেন না।

ডেভেলপমেন্ট অব কন্ট্রোল রুম সুপারভাইজারগণের কর্তব্য পালনের তালিকাঃ

সকাল ০৬০০ হতে ০৭০০ ঘটিকা-

১। কোনো ডিউটি পোস্ট ফাঁকা আছে কিনা খোঁজ খবর নিবেন। ফাঁকা থাকলে সুপারভাইজারদের সাথে কথা বলে পূরণ করবেন।

২। সকল ফিল্ড সুপারভাইজারদের সাথে কথা বলবেন।

সকাল ০৮০০ ঘটিকা-

১। দায়িত্ব গ্রহণ।

২। পূর্বের অসমাপ্ত কোনো কাজ থাকলে তা জেনে নিবেন।

৩। কন্ট্রোল রুমে রক্ষিত সিকিউরিটি আইটেমসমূহ বুঝে নিবেন।

৪। অফিসের চাবি রেজিস্টারে লিপি বদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে হস্তান্তর।

৫। গাড়ির চাবি রেজিস্টারে লিপি বদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট ড্রাইভারকে হস্তান্তর।

সকাল ০৯০০ ঘটিকা-

এরিয়া ম্যানেজার বা ফিল্ড সুপারভাইজারের নিকট থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়ের উপর তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন।

ক। কোনো INCIDENT ঘটেছে কিনা।

খ। ক্লায়েন্ট কর্তৃক কোনো অভিযোগ করা হয়েছে কিনা এবং অভিযোগ থাকলে সমাধানের জন্য কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে কিনা।

গ। কোনো ডিউটি পোস্ট খালি ছিল কিনা।

ঘ। কোনো সিকিউরিটি গার্ড এর এক নাগারে ২৪ ঘন্টা ডিউটি ছিল কিনা।

ঙ। গুরুত্বপূর্ণ কিছু পোস্ট যেমন, ইন্ডিয়া ভিসা সেন্টার, বাংলা লিংক টাওয়ার ও এটিএম বুথ ( অপারেশন বিভাগ থেকে তালিকা নিতে হবে) এ গার্ড/সুপারভাইজার ঠিক মতো উপস্থিত ছিল কিনা কিংবা কোনো সমস্যা ছিল বা আছে কিনা।

চ। আইন শৃংখলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য নেয়া।

ছ। ফিল্ড সুপারভাইজার কর্তৃক কতো জন ক্লায়েন্ট ভিজিট করা হয়েছে।

জ। কতোজন প্রত্যাশিত (Prospective) ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

ঝ। কতোজন সিকিউরিটি গার্ড ছুটিতে আছে, পোস্ট বা জোন ওয়াইজ হিসাব নেয়্।া

ঞ। কতোজন সিকিউরিটি গার্ড অনুপস্থিত আছে।

ট। কোনো নতুন পোস্ট ওপেন হয়েছে কিনা।

ঠ। কোনো পোস্ট ক্লোজ হয়েছে কিনা।

ড। কোনো সিকিউরিটি গার্ড চাকরি হতে ইস্তফা দিয়েছে কিনা।

ণ। শৃংখলাজনিত কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে কিনা।

ত। স্পেশাল ডিউটি পোস্টসমূহে কোনো সমস্যা আছে কিনা।

বিকেল ১৬০০ ঘটিকা-

প্রতি দিন বিকাল ১৬০০ ঘটিকার সময় ঢাকা শহর ও ঢাকা শহরের বাহিরের সকল জোনাল ইনচার্জ বা এরিয়া ম্যানেজার বা ফিল্ড সুপারভাইজারের নিকট হতে নিম্ন লিখিত তথ্যসমূহ মোবাইল ফোন বা ল্যান্ড ফোনের মাধ্যমে সংগ্রহ করে সাথে সাথে আপডেট রিপোর্ট দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন।

ক। কোনো সিকিউরিটি গার্ড বা পোস্ট সুপারভাইজার বা গানম্যান অনুপস্থিত আছে কিনা।

খ। অনুপস্থিত সিকিউরিটি গার্ড বা পোস্ট সুপারভাইজার বা গানম্যান এর স্থলে রিপ্লেসমেন্ট প্রদান করা হয়েছে কিনা।

গ। কারো ডিউটি ২৪ ঘন্টা হয়েছে কিনা।

ঘ। কারো ডিউটি ২৪ ঘন্টা হলে উক্ত ব্যক্তি, গার্ড নম্বর ও ডিউটি পোস্টের নাম।

ঙ। বর্তমান ডিউটি পোস্ট বন্ধ হয়েছে কিনা।

চ। কোনো নতুন পোস্টে ডিউটি শুরু হয়েছে কিনা।

ছ। কারো ইউনিফর্মের কোনো সমস্যা আছে কিনা।

জ। শৃংখলাজনিত কোনো বিষয়াদি।

ঝ। নতুন গার্ড ভর্তি হয়েছে কিনা।

ঞ। কোনো সিকিউরিটি গার্ড বা পোস্ট সুপারভাইজার বা গানম্যান অব্যাহতি গ্রহণ করেছে কিনা।

ট। পোস্টে কোনো প্রশিক্ষণের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা।

বিকেল ১৯০০ ঘটিকা-

১। এরিয়া ম্যানেজার বা ফিল্ড সুপারভাইজারগনের নিকট হতে সকাল ০৯০০ ঘটিকার মতো তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন।

রাত ২৩০০ ঘটিকা-

১। এরিয়া ম্যানেজার বা ফিল্ড সুপারভাইজারগনের সাথে যোগাযোগ করা।

 যে সকল কাজ দিনের যে কোনো সময় করার প্রয়োজনঃ

১। ভিজিটরকে গাইড করা।

২। প্রতি শিফটের  ফিল্ড সুপারভাইজারদের সাথে যোগাযোগ করা।

৩। কোনো গাড়ি বাহিরে গেলে (ক্যাশ ক্যারিংসহ ) তার অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া।

৪। অকারেন্স বুকে প্রয়োজনীয় তথ্য লিপি বদ্ধ করা।

৫। অফিস বিল্ডিং এর ভিতরে সিকিউরিটি নিশ্চি করা।

৬। ফিল্ড সুপারভাইজারদের কাজে সহায়তা করা।

৭। অফিসিয়াল চিঠি পত্র বিলি করা।

রাত্রি ২২০০ হতে ০৬০০ ঘটিকা পর্যন্ত-

১। নাইট ইন্সপেকশন কর্মকর্তার খোঁজ খবর নেয়া।

২। সকল গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে ফোন করে খোঁজ খবর নেয়া ।

(সমাপ্ত)

Written By

Md. Izabul Alam

Consultant & Specialist (Security, Training & Investigation)

Author of Many Security Books.

GENERAL DIRECTOR,

PIS-PRIVATE INVESTIGATION SERVICES.

PRINCIPAL,

(BCTI) BANGLADESH CSE TRAINING INSTITUTE.

PRINCIPAL,

BOU- BANGLADESH ONLINE UNIVERSITY (সাধারণ জ্ঞানের তথ্য ভান্ডার).

PRINCIPAL,

PGDHRM TRAINING INSTITUTE (PTI).

Director,

BBC -Bangladesh BCS Coaching.

Principal,

(BSTI) Bangladesh Security Training Institute.

যোগাযোগের ঠিকানাঃ

Md. Izabul Alam

General Director and Consultant-

(Security, Investigation and Training)

Private Investigation Services (PIS)

Gulshan-2, Dhaka.

০১৭১৬৫০৮৭০৮

Email- izabulalam@consultant.com

 

সহজে সরকারি চাকরি পেতে এবং যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ১০০% প্রশ্নোত্তর কমন পেতে এর উপর ক্লিক করুন।

BBC

Thursday, October 15, 2020

এটিএম বুথে (ATM BOOTH) কর্তব্যরত গার্ডদের দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী। লেখক মোঃ ইজাবুল আলম

এটিএম বুথে কর্তব্যরত গার্ডদের দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী

ATM মেশিন পরিচিতি ও কার্যপ্রণালী

প্রাথমিক আলোচনাঃ

 আজকাল সবকিছুই আধুনিক হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আধুনিক হয়ে গিয়েছে ব্যাংকিং ব্যবস্থাও। আগের মতো এখন আর টাকা তোলার জন্য ঘন্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। প্রায় সব ব্যাংকেরই রয়েছে এটিএম (ATM) ব্যবস্থা। নির্ধারিত কার্ড এটিএম মেশিনে প্রবেশ করিয়ে টাকার অংক বলে দিলেই বের হয়ে আসে প্রয়োজনীয় টাকা। কমবেশী আমরা সবাই এই এটিএম মেশিনের সাথে পরিচিত, কিন্তু এটা আসলে কাজ করে কিভাবে?

এটিএম (ATM)-এর পুরো নাম হল Automated Teller Machine। এছাড়াও এটি অনেক দেশে Automated Banking Machine, Cash Machine, Cashpoint, Cashline প্রভৃতি নামেও পরিচিত।

ব্যাংক সাধারণত ১০.০০ টা থেকে ৪.০০ টা পর্যন্তই খোলা থাকে, অর্থাৎ লেনদেনের কাজ এই সময়ের ভেতরেই সারতে হবে। কিন্তু হঠাৎ করে যদি কারও রাত ১০.০০ টায় কিংবা অন্য এমন সময়ে টাকার দরকার পড়ে যখন ব্যাংক খোলা নেই, তখন কি হবে? এই অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই ১৯৬১ সালে নিউ ইয়র্ক শহরের City Bank of New York-এ প্রথম এটিএম মেশিন স্থাপিত হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ তখনও প্রযুক্তির ওপর এতটা নির্ভরশীল না থাকায় খুব কম মানুষই এই এটিএম মেশিন ব্যবহার করেছেন। তাই কয়েক মাস পরেই বন্ধ করে দেয়া হয় এটিএম ব্যবস্থা।

এরপর ১৯৬৭ সালে লন্ডন শহরের Barclays Bank-এ আবার স্থাপন করা হয় এটিএম মেশিন। এরপর থেকে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পেতে থাকে এই প্রযুক্তি। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই টাকার মেশিনকে। ইউরোপ ও আমেরিকাতে এটিএম মেশিন অনেক আগে থেকেই চালু থাকলেও বাংলাদেশে এটিএম ব্যবস্থা চালু হয়েছে খুব বেশী দিন হয়নি। কিন্তু তবুও এই অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এটিএম ব্যবস্থা এবং এখন প্রায় সব ব্যাংকেই রয়েছে এটিএম সুবিধা।

এটিএম সুবিধা ভোগ করার জন্য ব্যাংক তার ক্লায়েন্টদের একটি বিশেষ কার্ড দিয়ে থাকে। ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, এটিএম কার্ড প্রভৃতি কার্ড দিয়ে এটিএম সুবিধা নেয়া যায়। এটিএম মেশিনগুলো Interbank Network-এর সাহায্যে নির্ধারিত ব্যাংকের সাথে যুক্ত থাকে। যার ফলে এটিএম কার্ড প্রবেশ করালে ক্লায়েন্টের একাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য সহজেই চলে আসে এটিএম মেশিনে। প্রত্যেক ক্লায়েন্টের কাছে তাঁর জন্য নির্ধারিত বিশেষ একটি PIN নম্বর থাকে। কার্ড প্রবেশ করানোর পর এটিএম মেশিনে সেই নম্বরটি টাইপ করতে হয়। এই ব্যবস্থার কারণে কারও কার্ড হারিয়ে গেলে অন্য কেউ সেই কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলতে পারবে না। কারণ PIN নম্বর প্রবেশ না করালে এটিএম মেশিন থেকে কোনও টাকা তোলা যাবে না। সঠিক PIN নম্বর প্রবেশ করানোর পর প্রয়োজনীয় টাকার অংক টাইপ করতে হয়। ঐ পরিমাণ টাকা যদি ক্লায়েন্টের একাউন্টে থাকে, তাহলে এটিএম মেশিন মুহূর্তেই ৫০০ বা ১০০০ টাকার নোটে ঐ অংকের টাকা বের করে দেয়।

 একটি এটিএম মেশিন সাধারণত নিম্নোক্ত অংশগুলো নিয়ে তৈরি হয়ঃ

CPU- এটিএম মেশিনের মূল তথ্য সংগ্রহকারী অংশ

Magnetic Card Reader- এর সাহায্যে প্রবেশকৃত কার্ডটি ক্লায়েন্টের জন্য নির্ধারিত সঠিক কার্ড কিনা, তা নির্ণয় করা হয়।

PIN PAD- অনেকটা ক্যালকুলেটরের কি-প্যাডের মতো দেখতে PIN Pad-এ টাইপ করে PIN নম্বর দিতে হয়।

Display- তথ্য প্রদর্শন করার জন্য মনিটর।

Function Key Buttons- মনিটরের পাশে স্থাপিত কিছু বাটন যেগুলোতে চাপ দিয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিভিন্ন অপশন বেছে নেয়া যায়।

Record Printer- লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণের জন্য এর সাহায্যে ক্লায়েন্টকে লেনদেনের তথ্যসম্বলিত কাগজ দেয়া হয়।

Vault- এটিএম মেশিনের যে সংরক্ষিত অংশে টাকা রাখা হয়।

এছাড়া বেশ কিছু সেন্সর ও ইনডিকেটর থাকে যা ক্লায়েন্টকে এটিএম ব্যবস্থা বুঝতে সাহায্য করে।

এ টি এম বুথে কর্তব্যরত গার্ডদের দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী

(১) ডিউটি শুরুর ১৫ মিনিট পূর্বে নিরাপত্তা প্রহরীকে কোম্পানির নির্ধারিত ইউনিফরম (যেমন: শার্ট, প্যান্ট, বুট, ক্যাপ, বেল্ট, আইডি কার্ড ইত্যাদি) পরিধান করে পোস্টে উপস্থিত হতে হবে এবং পূর্বের দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরীর নিকট হতে দায়িত্ব সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল রেজিস্টার এবং অন্যান্য দ্রব্যাদি বুঝে নিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে হবে। নতুন কোন ধরনের আদেশ অথবা যন্ত্রাংশ (স্কিমিং মেশিন/সিসি টিভি ক্যামেরা) বসানো কিংবা সংযোজন হয়েছে কিনা তা বুঝে নিতে হবে।

(২) নিরাপত্তা প্রহরী তার ডিউটি চলাকালীন সময়ে এটিএম বুথের সামনে দায়িত্ব পালন করবে। এটিএম বুথের ভিতরে বসে থাকা, আড্ডা মারা, ঘুমানো এবং কোন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ হতে বিরত থাকতে হবে। 

(৩) নিরাপত্তা প্রহরী সর্বদা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ইউনিফর্ম পরিধান করবে এবং কোম্পানী কর্তৃক প্রদানকৃত আইডি কার্ড ব্যবহার করবে যেনো তা সকলের সামনে দৃশ্যমান হয় ।

(৪) সম্মানিত গ্রাহক যখন এটিএম এর ভিতরে প্রবেশ করবেন তখন দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরী অবশ্যই সম্মানিত গ্রাহককে সম্মানের সহিত সালাম প্রদান করবে।

(৫) যদি কোনো বিদেশী নাগরিক এটিএম বুথে প্রবেশ করেন , সে ক্ষেত্রে দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরী ০৫ (পাঁচ) মিনিট পরে উক্ত গ্রাহক কি করছেন তাহা বাহির থেকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, যদি কোনো গ্রাহক ০৫ (পাঁচ) মিনিট এর বেশি সময় নেন, সেক্ষেত্রে দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরী বিনয়ের সহিত উক্ত সম্মানিত গ্রাহককে জিজ্ঞেস করবেন যে, স্যার আপনার কোনো সহযোগিতা লাগবে কি ?

(৬) দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরী কোন ধরনের অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন- ব্যক্তিগত পোশাক/ইউনিফর্ম, কাঁথা, বালিশ, বুট ইত্যাদি এটিএম বুথের ভিতরে রাখতে পারবে না।  অনেক গার্ড রাতে এটিএম বুথের ভিতরে বিছানা পত্র বিছিয়ে ঘুমিয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে, এটিএম বুথের ভিতরে ও বাহিরে কোনোক্রমেই ঘুমানো যাবে না।

সাম্প্রতিক অনেক ঘটনা যেমন দুর্বৃত্তরা হঠাৎ এটিএম বুথে প্রবেশ করে গার্ডকে হাত পা বেঁধে বা অনেক সময় হত্যা করে ভোল্ট ভেঙ্গে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বেশীর ভাগ ঘটনা ঘটেছে গার্ড যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল। এ জন্যে রাত্রীকালীন ডিউটিরত অবস্থায় সর্বদা চোখ কান খোলা রেখে ও অতি সতর্কতার সহিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হবে।


 (৭) এটিএম বুথের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করতে আসা কর্মকর্তা/টেকনিশিয়ানদের  নাম, পদবী, মোবাইল নম্বর, প্রতিষ্ঠানের নাম ও স্বাক্ষরসহ সকল ধরনের তথ্যাদি সংরক্ষিত রেজিস্টার বইয়ে লিপিবদ্ধ করবে/করাবে এবং কার্যকালীন সময়ে নিরাপত্তা প্রহরী এটিএম বুথের ভিতরে অবশ্যই অবস্থান করবে।  সে সময়ে তাদের হাতের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে তারা গোপনীয় কোনো ডিভাইস এটিএম বুথের ভিতরে সংযোজন করে কিনা।

(৮) দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরী কোন অবস্থাতেই একাধিক গ্রাহককে একসঙ্গে এটিএম বুথের ভিতরে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখবে।

(৯) পরবর্তী নিরাপত্তা প্রহরী ডিউটিতে না আসা পর্যন্ত কোনক্রমেই দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরী তার ডিউটি পোস্ট ছেড়ে চলে যেতে পারবে না।

(১০) সম্মানিত গ্রাহক এটিএম বুথে প্রবেশের সময় হেলমেট অথবা কাপড়, মাফলার বা অন্য কোনো কিছু দিয়ে চোখ মুখ ঢাকা অবস্থায় প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। এ ধরণের কিছু পরিলক্ষিত হলে দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরী বিনয়ের সহিত সম্মানিত গ্রাহককে তা খুলে এটিএম বুথ এর ভিতরে প্রবেশ করার জন্য অনুরোধ করবে। 

(১১) গ্রাহক যখন লেনদেন করবেন তখন সিকিউরিটি গার্ড গ্রাহকের সামনে থাকবে না ।

(১২) কোন গ্রাহক যদি লেনদেনের অধিক সময় (৫ মিনিটের বেশি) গ্রহণ করে তখন সিকিউরিটি গার্ড গ্রাহকের অনুমতি নিয়ে বুথের ভিতরে প্রবেশ করবে এবং কোনো যন্ত্রাংশ বা ডিভাইস সংযোজন করেছে বা করছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করবে।

(১৩) সম্মানিত গ্রাহক এটিএম বুথ হতে টাকা উত্তোলন শেষে বাহির হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্তব্যরত নিরাপত্তা প্রহরী বুথের ভিতরে প্রবেশ করবে এবং এটিএম মেশিনে সন্দেহজনক কোন ধরনের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস সংযোজন করেছেন কিনা তা পর্যবেক্ষণ করে সুনিশ্চিত করবে। 

(১৪) দায়িত্বরত ফিল্ড/এরিয়া সুপারভাইজারগণ সশরীরে প্রতি এক ঘন্টা পর পর সংশ্লিষ্ট এটিএম বুথ পরিদর্শন করবেন অথবা নিরাপত্তা প্রহরীকে ফোন কলের মাধ্যমে  ডিউটি সুনিশ্চিত করবেন।

(১৫) ডিউটি চলাকালীন সিকিউরিটি গার্ড কোন ব্যক্তির সাথে দীর্ঘ সময় কথা বলবে না।

(১৬) কর্তব্যরত সিকিউরিটি গার্ড সকল প্রয়োজনীয়  জরুরী মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করবে ।

(১৭) সিকিউরিটি গার্ড একই সময়ে দুইটি এসি চালাবে না। যেকোনো একটি চালাবে। তবে দুই ঘন্টা পর পর এসি পরিবর্তন করে চালাবে ।

(১৮) রাত্রীকালীন জন শূণ্য অবস্থায় এটিএম বুথের মধ্যে কোনো অসামাজিক কাজে লিপ্ত হওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, এটিএম বুথের ভিতর ও বাহিরে সার্বক্ষণিক সিসি টিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সব কিছু মনিটরিং করা হচ্ছে। এখানে যা কিছু হচ্ছে সবই ভিডিও হিসেবে কেন্দ্রিয় মনিটরিং রুমে রক্ষিত কম্পিউটারে  তা সেভ হয়ে থাকছে।

(১৯) কোনো ক্রমেই কোনো  গার্ড এটিএম বুথ ছেড়ে বাহিরে যাবে না। পোস্ট ভিজিট করতে গেলে দেখা যায়, এটিএম বুথের নিকট গার্ডকে পাওয়া যায় না। অনেক সময় দেখা যায়, গার্ড পান , বিড়ি, সিগারেট বা চা পান করতে এটিএম বুথ ছেড়ে অনেক দূরে চলে যায়। ডিউটি চলাকালীন এরুপ কার্যকলাপ করা যাবে না। কোনো ক্রমেই এটিএম বুথের সামনে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানা যাবে না, কখনো সিগারেট টেনে এটিএম বুথের ভিতরে প্রবেশ করবে না। তাই ডিউটি চলাকালীন পান, বিড়ি, সিগারেট টানা থেকে বিরত থাকতে হবে।

(২০) কর্তব্যরত অবস্থায় সিকিউরিটি গার্ড এটিএম বুথ এর ভিতরে অথবা বাহিরে পান -বিড়ি -সিগারেট, ঝাল-মুড়ি ইত্যাদি বিক্রি করতে পারবে না বা অন্য যে কোনো ব্যবসা বা কাজে নিজেকে লিপ্ত রাখতে পারবে না।

(২১)  এটিএম বুথের সামনে অথবা ভিতরে কাউকে আড্ডা দিতে দেয়া যাবে না এবং গার্ড নিজেও কারো সাথে আড্ডা দিবে না, কারো সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়বে না, কারো সাথে খোশ গল্পে মত্ত হবে না।

(২২) গ্রাহক কোনো অর্থ বা এটিএম কার্ড ফেলে গেলে সম্মানের সহিত তাকে ফেরত দিতে হবে ।

(২৩) কোনো গ্রাহক কোনো  বকশিস দিতে চাইলে তা গ্রহণ করা যাবে না। বিভিন্ন পর্ব যেমন ইদউল ফিতর, ইদউল আজহা ও পূজার সময় সম্মানিত গ্রাহক টাকা উত্তোলন করে বের হলে অনেক নিরাপত্তা প্রহরী নিজ থেকে বকশিস চেয়ে থাকে। সম্মানিত গ্রাহক এর সাথে এরুপ ব্যবহার করা যাবে না। অনেক সময় এটিএম বুথ সংশ্লিষ্ট বা ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এটিএম বুথে টাকা উত্তোলন করে বরে হলে তাদেরকে চিনতে না পারায় অনেক গার্ড বকশিস চেয়ে থাকে। তাদের সাথে এরুপ আচরন করায় উক্ত কর্মকর্তা গার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে থাকে।

(২৪) স্থানীয় থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও RAB এর মোবাইল নম্বর নিজের মোবাইলে এবং রেজিস্টারে লিখে রাখতে হবে। বিশেষ প্রয়োজনে ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে।

(২৫)  এটিএম বুথের গোপনীয় কোনো  তথ্য বাহিরে প্রকাশ করা যাবে না।

(২৬) কর্তব্যরত গার্ড সার্বক্ষণিক এটিএম এর  ভিতর ও বাহিরের স্থান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবে।

(২৭)  কর্তব্যরত গার্ড এটিএম বুথের ভিতরে মোবাইল চার্জ দিতে পারবে না। মোবাইল চার্জার বুথের ভিতরে রাখতে পারবে না। বুথের ভিতরে মোবাইল চার্জ দেয়া কিংবা বুথের ভিতরে মোবাইল চার্জার রাখা দন্ডনীয় অপরাধ। মোবাইল বা ক্যামেরা দিয়ে বুথের ভিতরের কোনো ছবি তোলা বা ভিডিও করা যাবে না। অন্য কাউকেও করতে দেয়া যাবে না।

(২৮) কর্তব্যরত গার্ড করোনাকালীন কোনো ক্রমেই সম্মানিত গ্রাহককে এটিএম বুথ এর হাতল ধরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না।  সেক্ষেত্রে গার্ড নিজেেএটিএম বুথ এর হাতল ধরে গেইট খুলে সম্মানিত গ্রাহককে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। 

(২৯) করোনাকালীন সম্মানিত গ্রাহক এটিএম বুথ এ প্রবেশ করে টাকা উত্তোলন শেষে বাহির হওয়ার পর কর্তব্যরত গার্ড ভিতরে প্রবেশ করবে এবং রক্ষিত জীবাণুনাশক দিয়ে এটিএম মেশিনের কিপ্যাড জীবানুমুক্ত করবে।

(৩০) করোনাকালীন  সম্মানিত গ্রাহক এটিএম বুথ এর ভিতরে প্রবেশ করার সময়ে কর্তব্যরত গার্ড সম্মানিত গ্রাহককে বিনয়ের সহিত মুখের মাস্ক খুলে টাকা উত্তোলনের জন্যে অনুরোধ করবে। 

(৩১) সাপ্তাহিক ছুটি ও অন্যান্য সরকারি ছুটি বা বন্ধের দিনগুলোতে সকল ব্যাংক ও অফিস আদালত বন্ধ থাকার কারণে কর্তব্যরত গার্ড আরো অধিক সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনোক্রমেই এটিএম বুথ ছেড়ে এদিক ওদিক যাওয়া যাবে না।

(৩২) সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এর কর্মকর্তাগণ এটিএম মেশিন এ টাকা লোড করার জন্যে এটিএম এর ভিতরে প্রবেশ করলে দায়িত্বরত গার্ড বাহির থেকে এটিএম বুথ এর শাটার ৪/৩ নামিয়ে দিয়ে উক্ত এটিএম বুথ এর সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে।

(৩৩) ফাঁকা সময়ে এটিএম বুথের সামনে দিয়ে কেহ মোটর সাইকেল বা কোনো মাইক্রোবাস কিংবা দলবদ্ধ কোনো চক্র অযথা ঘুরাফেরা করতে দেখলে তা সন্দেহের আওতায় আনতে হবে এবং বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

এটিএম কার্ড ব্যবহারে যেসব সতর্কতা মেনে চলা উচিত

বর্তমান এই প্রযুক্তি নির্ভর যুগে আমরা প্রায় সবাই এটিএম কার্ড ব্যবহার করি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতে বাংলাদেশেও এটিএম কার্ডের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়। পাশাপাশি কার্ডের গোপন পিন চুরি করে সেখান থেকে তথ্য হাতিয়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটছে অহরহ। তাই এটিএম কার্ড ব্যবহারে আমাদের অবশ্যই কিছু সতর্কতা মেনে চলা উচিত।

(১) অনেকেই এটিএম বুথ থেকে তাড়াতাড়ি কাজ মিটিয়ে বেরিয়ে যান। এটিএম বুথে ট্রানজাকশন হয়ে যাওয়ার পর সবসময় ক্যানসেল বাটন প্রেস করে ট্রানজাকশন শেষ করা উচিত। এর মাধ্যমে আপনি একটা বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকবেন যে, অন্য কেউ আপনার অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করতে পারবে না।

(২) মেশিনের ডিসপ্লেতে অনেক সময় নকল ফ্রন্ট কভার যুক্ত করে রাখে প্রতারকরা। অনেকের পক্ষে তা ধরা সম্ভব হয় না। ফ্রন্ট কভারে ভুল বার্তা দিয়ে গ্রাহকদের পিন এবং টাকা চুরি করে থাকে প্রতারক চক্র। তাই এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত।

(৩) এটিএম বুথের কার্ড স্লটটি কিছুটা ফাঁপা অথবা ঠিক অবস্থানে আছে কিনা তা পরীক্ষা করে নিন। অনেক সময় আসল কার্ড স্লটের ওপরে বিকল্প কার্ড রিডার স্লট যুক্ত করে ডেবিট কার্ডের যাবতীয় তথ্য চুরি করা হয়। অনেক সময় কার্ড স্লটে ‘লেবানিজ লুপ’ থাকে। লেবানিজ লুপ হল হুলসমেত ছোট্ট প্লাস্টিক ডিভাইস যা কার্ডটিকে মেশিনে আটকে রাখে।

(৪) এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার সময় আপনি নিশ্চয়ই একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছেন যে, অনেকেই এটিএম মেশিনের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। এর কারণ, তারা আপনার আঙ্গুলের চলাচল লক্ষ্য করেন। আপনি কী পাসওয়ার্ড দিচ্ছেন, তা আপনার আঙ্গুলের চলাচলের মাধ্যমে জেনে নেয়ার চেষ্টা করেন। তাই ভুল করেও এই ভুলটা করবেন না। পাসওয়ার্ড দেয়ার সময় সবসময় আপনার শরীর দিয়ে মেশিনটি আড়াল করে রাখবেন।

(৫) অনেকসময় আসল কিপ্যাডের ওপরে ভুয়া কিপ্যাড লাগানো থাকে। টাচ করার সময় যদি কিপ্যাড স্পঞ্জের মতো বা ঢিলেঢালা মনে হয় তবে পিন দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

(৬) দু’একদিন অন্তর অন্তর মিনি স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স চেক করা উচিত। এর মাধ্যমে আপনার একটা ধারণা থাকবে যে, কত টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে আছে, আর কত টাকা আপনি তুলেছেন। তাছাড়া, কখনও যদি আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার অজ্ঞাতে টাকা তোলা হয়ে থাকে তার ট্রানজাকশন আপনি জানতে পারবেন।

(৭) মেশিনে অনেক সময় ক্ষুদ্র ক্যামেরা লুকিয়ে রাখা হয়। আবার এটিএম বুথের ছাদেও ক্যামেরা লুকিয়ে রাখা হয়। ক্যামেরার সাহায্যে সহজে পিন চুরি করা যায়। তাই এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত।

মনে রাখতে হবে এক জন আদর্শ নিরাপত্তা প্রহরীর মূল দায়িত্ব¡ হচ্ছে, জান, মাল ও তথ্যের নিরাপত্তার জন্য সর্বদা, সতর্ক ও জাগ্রত থাকা।   

Security বা নিরাপত্তা কাকে বলে? একজন আদর্শ নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী কি? তা জানতে SECURITY এর উপর ক্লিক করুন। (SECURITY)

 Written By

Md. Izabul Alam

Consultant & Specialist (Security, Training & Investigation)

Author of Many Security Books.

GENERAL DIRECTOR,

PIS-PRIVATE INVESTIGATION SERVICES.

PRINCIPAL,

(BCTI) BANGLADESH CSE TRAINING INSTITUTE.

PRINCIPAL,

BOU- BANGLADESH ONLINE UNIVERSITY (সাধারণ জ্ঞানের তথ্য ভান্ডার).

PRINCIPAL,

PGDHRM TRAINING INSTITUTE (PTI).

Director,

BBC -Bangladesh BCS Coaching.

Principal,

(BSTI) Bangladesh Security Training Institute.

 

Contact me if necessary-

Md. Izabul Alam

Gulshan-2 , Dhaka

01716508708

izabulalam@consultant.com

কারখানা বন্ধ ও খোলার সময় নিরাপত্তা কর্মীদের করণীয় -লেখকঃ মোঃ ইজাবুল আলম

কারখানা বন্ধ ও খোলার সময় নিরাপত্তা কর্মীদের করণীয় লেখকঃ মোঃ ইজাবুল আলম ফ্যাক্টরি বা কারখানা বন্ধ (Closing) ও খোলার (Opening) সময় নিরাপত্...