Friday, December 20, 2024

বেআইনীভাবে চলছে সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো-দেখার কেউ নেই। লেখক মোঃ ইজাবুল আলম

BDC CRIME NEWS24

বেআইনীভাবে চলছে সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো-দেখার কেউ নেই

লেখক মোঃ ইজাবুল আলম

বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্সধারী সিকিউরিটি কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। বর্তমানে প্রায় আটশত সিকিউরিটি কোম্পানি সচল আছে। একটি সিকিউরিটি কোম্পানি খোলা খুবই সহজ। দুই কপি ছবি, একটি ভোটার আইডি কার্ড ও কোন্ নামে খুলবেন সেই নামসহ সরকারি ফি-র অতিরিক্তি কিছু টাকা দিলেই সিটি করপোরেশন  বা পৌরসভা থেকে ৩/৪ দিনের মধ্যে সিকিউরিটি কোম্পানির ট্রেড লাইসেন্স বের করা সম্ভব। সিটি করপোরেশন  বা পৌরসভা  পরবর্তীতে এইসব কোম্পানি নিয়ে তেমন খোঁজ খবর রাখে না। যাদের কোম্পানি সচল থাকে তাদেরকে প্রতি বছর নবায়ন করতে হয় আর এখানেই সিটি করপোরেশন  বা পৌরসভার মোটা অংকের একটা রাজস্ব আদায় হয়। সিটি করপোরেশন  বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেয়ার পর অনেকে জয়েন্ট স্টক (RJSC) থেকে লিমিটেড করে নেয়। এটা করাও খুবই সহজ টাকা হলেই হবে। যাই হোক কোম্পানি গঠিত হলো, ব্যবসাও চলছে কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে এইসব কোম্পানির ৯৫% মালিক বা ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি আইন ১৯৯৪, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ ও বিধিমালা ২০১৫ এবং বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা আইন ২০০৬ ও বিধিমালা ২০০৭ সম্পর্কে কিছুই জানে না। বাংলাদেশের প্রথম সারির কয়েকটি কোম্পানি ব্যতীত বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা আইন ২০০৬ ও বিধিমালা ২০০৭ নামক এই বই দুইটি অন্য কোনো কোম্পানিতে নেই। অধিকাংশ কোম্পানির মালিক সরকারি কোনো আইনকানুন মানে না, নিজের মনগড়া মতো কোম্পানিগুলো চালাচ্ছে।

বেআইনীভাবে কোম্পানিগুলো যেভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে তা নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ

(১) সার্ভিস রুলস প্রনয়ণ না করাঃ

বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা বিধিমালা ২০০৭ এর ৮(২) নং বিধিতে উল্লেখ আছে যে, বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা আইন ২০০৬ এর ১১ নং আইনের ১০ নং ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোম্পানি পরিচালনায় একটি সার্ভিস রুলস প্রনয়ণ করবে। অর্থাৎ সিকিউরিটি গার্ড ও অন্যান্য কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিয়োগ, বেতন ভাতা, ছুটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, সার্ভিস বেনিফিটসহ সকল নিয়মকানুন বা পলিসি উক্ত সার্ভিস রুলস নামক বইয়ে লিপিবদ্ধ থাকবে। যে বইয়ের প্রতিটি পাতায় লাইসেন্স প্রদান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে। উক্ত আইন বা পলিসিগুলো শ্রম আইন অনুসারে হতে হবে।

বিশেষ কিছু কোম্পানি ব্যতিত অন্য কোনো কোম্পানিতে সার্ভিস রুলস প্রনয়ণ নেই। যেহেতু এইসব কোম্পানিগুলো দেখভালের কেউ নেই, তাই প্রথমত যারা সার্ভিস রুলস প্রনয়ণ করেছিল এবং মাঝখানে শত শত আইনের পরিবর্তন হলেও আপডেট অনুমোদিত কোনো সার্ভিস রুলস প্রনয়ণ করা নেই। অন্যান্য কোম্পানিগুলোতে তো সার্ভিস রুলস প্রনয়ণ নেই। তারা যখন যা ইচ্ছে সেটাই আইন বলে চালিয়ে আসছে। অনেকে পরবর্তীতে ধরা পড়ার ভয়ে লিখিত কোনো আদেশও দেয় না।

(২) রেজিস্টার সংরক্ষণ না করাঃ

বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা আইন ২০০৬ এর ৯(৪) নং ধারায় উল্লেখ আছে, নিয়োগকৃত সকল নিরাপত্তা প্রহরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম, ঠিকানা, ছবি ও পূর্ণাঙ্গ জীবন-বৃত্তান্তসংবলিত একটি রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হবে এবং ইহার একটি কপি স্থানীয় থানায় সরবরাহ করতে হবে এবং উক্ত রেজিস্টারে কোনো রদবদল করা সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় অবহিত করতে হবে। সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ কোম্পানিতে গার্ড ভর্তির কোনো রেজিস্টার নেই। নামীয় কোনো তালিকা নেই। কোম্পানি গঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কতোগুলো গার্ড ভর্তি হয়েছে বা চলে গেছে তার কোনো তথ্য প্রমাণ নেই। পোস্ট থেকে গার্ড চলে যাচ্ছে আবার বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক ধরে এনে পোস্টে রাখা ইউনিফরম পরিধান করে ডিউটিতে লাগিয়ে দিচ্ছে, এদের ভর্তির কাগজপত্রগুলোও ঠিকভাবে নেয়া হয় না বা অফিসে প্রেরণ করা হয় না। বেতনের সময় ফিল্ড স্টাফ একটা নামীয় তালিকা দেয় সেই অনুপাতে হাতে হাতে বেতন প্রদান করে থাকে। সংশ্লিষ্ট থানায় অদ্যবধি কোনো নামীয় তালিকা প্রদান করা হয়নি।

(৩) গার্ডের নিকট থেকে অবৈধভাবে ভর্তিবাবদ টাকা গ্রহণ করাঃ

বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা বিধিমালা ২০০৭ এর ৪(১) ও ৫(১) নং এ উল্লেখ আছে, সরকারের পূর্বানুমতি ব্যতীরেকে কোনো সিকিউরিটি গার্ডের নিকট থেকে নিরাপত্তা জামানত ব্যতীত (যা ফেরতযোগ্য) অন্য কোনো অর্থ গ্রহণ করতে পারবে না। যদি অর্থ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে সেই কোম্পানির বিরুদ্ধে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

জামানত হিসেবে সিকিউরেক্স প্রাঃ লিঃ, গ্রুপ ফোর্স, এলিট ফোর্সসহ এরকম কয়েকটি কোম্পানি কিছু করে টাকা নিলেও পরবর্তীতে সেই টাকা ফেরত দেয়। এছাড়া হাজার হাজার যতো সিকিউরিটি কোম্পানি আছে কেউ ভর্তি ফি, কেউ ট্রেনিং ফি, কেউ অ্যাডমিন কস্ট, কেউ ইউনিফরম বাবদ ইত্যাদি নামে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বা  তারও বেশি টাকা নিয়ে থাকে। এই টাকাগুলো কেউ ফেরত দেয় না। তাদের নির্ধারিত সেই টাকা কোনো গার্ড একবারে দিতে না পারলে বেতন থেকে মাসে মাসে কর্তন করে নেয়া হয়। অনেক কোম্পানি টাকা নেয়ার মানি রিসিট দিয়ে থাকে। অথচ সিকিউরিটি আইন অনুসারে এইসব টাকা নেয়া সম্পূর্ণ নিষেধ এবং টাকা নেয়া প্রমানিত হলে সেই কোম্পানির বিরুদ্ধে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু অদ্যবধি সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় এইসব কোম্পানি অসহায় গরিব লোকদের নিকট থেকে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করে আসছে। মাঠ পর্যায়ে গার্ডদের জিজ্ঞেস করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে। এইসব টাকার সরকারি কোনো ভ্যাট ট্যাক্স না দেয়ায় সরকার প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়ে আসছে। 

অধিকাংশ কোম্পানি ইউনিফর্ম বাবদ একবারে হোক বা মাসে মাসে বেতন থেকে কর্তন করে হোক কোনো গার্ড চলে গেলে এবং পোশাক জমা না দিলে সেই গার্ডের শেষ মাসের বেতন থেকে ইউনিফর্ম বাবদ টাকা কর্তন করে। আবার অনেক কোম্পানি শেষ মাসের বেতনই দেয় না।

(৪) সিকিউরিটি গার্ডদের প্রশিক্ষণ প্রদান না করাঃ

বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা আইন ২০০৬ এর ৯(৩) নং ধারায় উল্লেখ আছে যে, প্রত্যেক নিরাপত্তা প্রহরীকে যথাযথ ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে এবং প্রশিক্ষণ প্রদান না করে কোনো নিরাপত্তা প্রহরীকে নিরাপত্তা সেবা প্রদান কাজে নিয়োগ করা যাবে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ কোম্পানির কোনো প্রশিক্ষণ রুম নেই, তাদের কোনো প্যারেড গ্রাউন্ড নেই। নেই কোনো প্রশিক্ষক। প্রশিক্ষণের নেই কোনো প্রশিক্ষণ গাইড বা মডিউল। এদের নেই কোনো ব্লক সিলেবাস, নেই কোনো প্রোগ্রাম। প্রশিক্ষণের বিষয়ে ক্লায়েন্ট জিজ্ঞেস করলে এইসব কোম্পানি মিথ্যে কথা বলে ক্লায়েন্টকে শান্ত্বনা দেয়। এরা বলে গার্ডকে তারা সাত দিন বা চৌদ্দ দিন ট্রেনিং দিয়ে থাকে। ট্রেনিং সেন্টার কোথায় জানতে চাইলে এরা নিজ অফিস থেকে অনেক দূরের কোনো জায়গার কথা বলে সেখানে তাদের ট্রেনিং সেন্টার আছে। আসলে এসব ভুয়া কথা। নতুন কোনো পোস্ট উদ্বোধন হলে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক ধরে এনে ট্রেনিং ছাড়াই পোস্টে দাঁড় করিয়ে দেয়। আবার পূরনো পোস্টগুলোতে এদের এক্সট্রা ইউনিফরম থাকে। এরা বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন ধরে এনে ইউনিফরম পরিধান করে  পোস্টে ডিউটি লাগিয়ে দেয়। এরা চোর, ডাকাত, সন্ত্রাসী নাকি জঙ্গি কোনো যাচাই বাছাই নেই। প্রশিক্ষণ না থাকায় যেমন স্যালুট দিতে পারে না তেমনি এইসব গার্ড পোস্টের জন্যে হুমকিস্বরুপ। প্রশিক্ষণবিহীন এইসব গার্ডকে দিয়ে নিরাপত্তা সেবা প্রদান করায় সেবার মান ভালো না হওয়ায় কিছুদিন পর সেই পোস্ট আবার চলে যায়।

 (৫) নিয়োগ পত্র ও পরিচয় পত্র প্রদান না করাঃ

সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের অন্যতম শর্ত হচ্ছে, সিকিউরিটি গার্ডদের নিয়োগ পত্র ও পরিচয় পত্র প্রদান করা।  বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৫ নং ধারা ও বিধিমালা ২০১৫ এর ১৯(১) নং ধারায় উল্লেখ আছে যে, কোনো মালিক নিয়োগপত্র প্রদান না করে কোনো শ্রমিককে নিয়োগ করতে পারবে না এবং নিয়োজিত প্রত্যেক শ্রমিককে ছবিসহ পরিচয়পত্র প্রদান করতে হবে।

বাংলাদেশের দুই/তিনটি কোম্পানি ব্যতিত বাকি কোনো কোম্পানি গার্ডদের কোনো প্রকার নিয়োগ পত্র প্রদান করে না। তবে কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরিগুলোতে ক্লায়েন্টের চাহিদা মোতাবেক সব কোম্পানিই নিয়োগ পত্র প্রদান করে থাকে আবার সেই কোম্পানিই জেনারেল গার্ডদের নিয়োগ পত্র দেয় না। কোনো কোনো কোম্পানি অফিস স্টাফদের পর্যন্ত নিয়োগ পত্র দেয় না। অনেক কোম্পানি পার্ডদের বেতন ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান না করে তাদের সাথে প্রতারণা করে থাকে। আর নিয়োগ পত্র না থাকায় গার্ডরা তাদের দাবিদাওয়া সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারায় তারা সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।

অনেক কোম্পানি আছে তারা গার্ডদের নিয়োগ পত্রও দেয় না আবার আইডি কার্ডও দেয় না।

সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো এভাবে সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে আসছে।

বিধিমালা ২০১৫ এর ১৯(৫) নং ধারায় উল্লেখ আছে যে, মালিকের নিজ খরচে ছবিসহ পরিচয়পত্র প্রদান করবে। এখানে দেখা যায়, অনেকে আউডি কার্ড দিলেও প্রতি কার্ডবাবদ পঞ্চাশ টাকা/একশত টাকা করে নিয়ে থাকে। অথচ এসব দেখার কেউ নেই।

 (৬) জয়নিং লেটার না দেয়াঃ

অনেক সিকিউরিটি কোম্পানি গার্ডসহ অন্যান্য কর্মকর্তাকে যেমন নিয়োগপত্র প্রদান করে না তেমনি জয়নিং লেটারও প্রদান করে না। এসব আইন বহির্ভুত কর্মকান্ড করার কারণে একজন গার্ড কতো তারিখ থেকে ডিউটি করছে তার সঠিক তথ্য না থাকায় সরকার প্রকৃত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

(৭)  ইউনিফরম ও আইডি কার্ড জমা না নেয়াঃ

বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা আইন ২০০৬ এর ১১(৩) ধারায় উল্লেখ আছে যে, কোনো কারণে কোনো সিকিউরিটি গার্ড চলে গেলে তাদের ইউনিফরম ও আইডি কার্ড জমা প্রদান বাধ্যতামূলক। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ  সিকিউরিটি কোম্পানি থেকে অহরহ গার্ড ইউরিফরম নিয়ে চলে যাচ্ছে সেগুলো ফেরত আনার কোনো উদ্যোগ নেই। তাদের নামে কোনো লেটার ইস্যু করা হয় না।

 (৮) সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের পূর্বে পুলিশ ভেরিফিকেশন করাঃ

সিকিউরিটি গার্ড ও অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগের পূর্বে তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন করা বাধ্যতামূলক। বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা আইন ২০০৬ এর ১১ নং আইনের ৯(২) ধারা ও বিধিমালা ২০০৭ এর ৮(৩) অনুযায়ী  সিকিউরিটি গার্ড ও অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগের পূর্বে তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন করা বাধ্যতামূলক। কমপ্লায়েন্স ও মাল্টিন্যাশনাল যতো কোম্পানি আছে প্রত্যেকেই এগ্রিমেন্ট এর সময় পুলিশ ভেরিফিকেশন এর বিষয়টি জুড়িয়ে দেয়।  প্রথম সারির কয়েকটি কোম্পানি ব্যতিত বাকি হাজার হাজার কোনো সিকিউরিটি কোম্পানি পুলিশ ভেরিফিকেশন করায় না। আবার যারা করায় তারা গার্ড নিয়োগ দেয়ার কয়েক মাস পরে  পুলিশ ভেরিফিকেশন করায়। অথচ আইনে বলা আছে, নিয়োগ দেয়ার পূর্বে পুলিশ ভেরিফিকেশন করাতে হবে। এখানে বুঝতে হবে, নিয়োগের পূর্বে যে তদন্ত করা হয় তার নাম ভেরিফিকেশন আর নিয়োগের পর যেটা করা হয় তার নাম ভেটিং। এখানে কোনটা করা হচ্ছে? সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রত্যেক সিকিউরিটি গার্ডের জন্য সোনালী ব্যাংকে নির্দিষ্ট একটি কোডে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে একশত টাকা জমা দিয়ে সেই ট্রেজারী চালানের মূল কপি ও একটি চিঠিসহ এডিশনাল আইজিপি, এসবি, মালবাগ, বাংলাদেশ পুলিশ এই ঠিকানায় প্রেরণ করতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, সিকিউরিটি গার্ডের জন্য একশত টাকা আর সেই অফিসের অফিস স্টাফ হলে পাঁচ শত টাকার ট্রেজারি চালান করতে হবে।

অনেক সিকিউরিটি কোম্পানি আছে কোনো টাকা খরচ না করে সরাসরি ভেরিফিকেশনের জন্য সেই গার্ডের লোকাল থানায় চিঠি দিয়ে থাকে। লোকাল থানা ইচ্ছে করলে ভেরিফিকেশন করে ইচ্ছে না হলে করে না। কিন্তু কেনো সিকিউরিটি কোম্পানি  এই কাজটি করে ? তারা এ কাজটি এজন্যে করে যে, ক্লায়েন্টকে দেখানোর জন্য। এভাবে সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো সরকারকে রাজস্য ফাঁকি দিয়ে আসছে। নামে মাত্র কয়েকটি কোম্পানি পুলিশ ভেরিফিকেশন করায় তবুও নিয়োগের কয়েক মাস পরে, কয়েক বছর পরে। এই ক্ষেত্রে সরকারি কেউ নিয়ম নীতি মেনে চলছে না।

(৯) প্রধান কার্যালয় ও শাখা অফিসের দৃশ্যমান স্থানে লাইসেন্সের ফটোকপি লটকিয়ে রাখাঃ

বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা আইন ২০০৬ এর ৮(৩) ধারায় উল্লেখ আছে যে, প্রধান কার্যালয় ও শাখা অফিসের সর্বাপেক্ষা দৃশ্যমান স্থানে লাইসেন্সের একটি ফটোকপি লটকিয়ে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে দেয়া যায়, অনেকে রাখে আবার অনেকে রাখে না।

(১০) সার্ভিস বুক প্রদান না করাঃ

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৬(১) ও বিধিমালা ২০১৫ এর ১৯(৭), ২০ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক মালিক তার নিজ খরচে নিযুক্ত প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য একটি সার্ভিস বইয়ের ব্যবস্থা করবেন। মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি সার্ভিস বুক দিয়ে থাকে বাকি কেউ সার্ভিস বুক দেয় না। আবার অনেক কোম্পানি আছে, যারা কয়েকটি সার্ভিস বুক অফিসে বানিয়ে রাখে। কোনে ক্লায়েন্ট অফিস ভিজিট করতে গেলে তারা ঐ নমূনা সার্ভিস বুক বের করে দেখায়। কিন্তুআদৌ গার্ডদেরকে কোনো সার্ভিস বুক দেয় না।

(১১) প্রভিডেন্ট ফান্ড এর টাকা না দেয়াঃ

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২৬৪(১) ধারা অনুযায়ী বেসরকারী খাতের কোনো প্রতিষ্ঠান ইহার শ্রমিকগণের সুবিধার জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ভবিষ্য তহবিল গঠন করতে পারবে। বাংলাদেশে যতো প্রতিষ্ঠিত সিকিউরিটি কোম্পানি আছে সবগুলোতেই গার্ডদের জন্য এই সুবিধা আছে। নিয়ম হলো, মালিক পক্ষ প্রভিডেন্ট ফান্ড এর জন্য গার্ডের বেতন থেকে একশত টাকা করে বা কমবেশি কর্তন করবে আর মালিক পক্ষ সমপরিমান টাকা তার একাউন্টে জমা করবে। এখন গার্ড চলে যাওয়ার সময় উক্ত সমূদয় টাকা তাকে প্রদান করবে। কিন্তু এই নিয়ম প্রথম সারির কয়েকটি কোম্পানি পালন করলেও বাকি হাজার হাজার কোনো কোম্পানি এই নিয়ম পালন করে না। ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানি প্রভিডেন্ট ফান্ড এর কথা বলে প্রত্যেক গার্ডের বেতন থেকে প্রতি মাসে একশত টাকা করে কেটে নেয় কিন্তু এপর্যন্ত কোনো গার্ডকে প্রভিডেন্ট ফান্ড এর টাকা ফেরত দিয়েছে বলে তার কোনো প্রমাণ নেই। উক্ত কোম্পানি প্রভিডেন্ট ফান্ডে মালিক পক্ষ থেকে কোনো টাকাও জমা করে না। এভাবে এই কোম্পানির মতো অনেকেই গরিব অসহায় গার্ডদের টাকা মেরে আত্মসাৎ করে আসছে। যা দেখার কেউ নেই। 

(১২) সার্ভিস বেনিফিট প্রদান না করাঃ

বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬, সংশেধিত আইন-২০১৩ অনুযায়ী চাকুরীর অবসান নীতিমালায় (ধারা-২৬ ও ২৭,) আওতায় একজন শ্রমিক/কর্মচারী স্বেচ্ছায় চাকুরী হতে অবসর গ্রহণ করুক বা মালিক কর্তৃক চাকুরীর অবসান হউক নিম্ন বর্ণিত হারে সার্ভিস বেনিফিট প্রদত্ব হবে।

(১) ধারা-২৬ এর উপধারা (৪) অনুযায়ী মালিক কর্তৃক কোন স্থায়ী শ্রমিকের চাকুরীর অবসান করা হয় সেক্ষেত্রে, মালিক শ্রমিককে তার প্রত্যেক সম্পূর্ণ বৎসরের চাকুরীর জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে সার্ভিস বেনিফিট  প্রদান করবে, ত্রিশ (৩০) দিনের মজুরী, অথবা গ্রাচুইটি (অথার্ৎ কোন শ্র্রমিকের প্রতি পূর্ণ বৎসর চাকুরী অথবা ছয় মাসের অতিরিক্ত সময়ের চাকুরীর জন্য তার সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরী হারে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানে কিংবা একই মালিকের যে কোন প্রতিষ্ঠানে অনধিক ০৮ বৎসরের চাকুরীর ক্ষেত্রে তার সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরী হারে ৩০ দিনের মজুরী অথবা ৮ বৎসরের অধিককাল চাকুরীর ক্ষেত্রে তার সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরী হারে ৪৫ দিনের মজুরী যাহা উক্ত শ্রমিককে তার চাকুরীর অবসানে প্রদেয়, ইহা এই আইনের অধীনে শ্রমিকের বিভিন্ন ভাবে চাকুরীর অবসানজনিত কারনে মালিক কর্তৃক প্রদেয় ক্ষতিপূরন বা নোটিশের পরিবর্তে প্রদেয় মজুরী বা ভাতার অতিরিক্ত হইবে) যদি প্রদেয় হয়, যা অধিক হবে. প্রদান করবেন এবং এই ক্ষতিপূরণ এই আইনের অধীন শ্রমিককে প্রদেয় অন্যান্য সুবিধার অতিরিক্ত হবে।

(২) ধারা-২৭  অনুযায়ী শ্রমিক কর্তৃকঃ কোনো স্থায়ী শ্রমিক মালিককে ষাট দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করে তার চাকুরী হতে ইস্তফা দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে, মালিক উক্ত শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ হিসাবে তার প্রত্যেক সম্পূর্ণ বৎসরের চাকুরীর জন্য,

(ক) যদি চাকুরীর মেয়াদ পাচঁ (০৫) বৎসর বা তার অধিক কিন্তু দশ (১০) বৎসের কম মেয়াদে অবিছিন্ন ভাবে মালিকের অধিনে চাকুরী করে থাকেন তা হলে চৌদ্দ (১৪) দিনের মজুরী; এবং

(খ) যদি চাকুরীর মেয়াদ দশ (১০) বৎসর বা তা অধিক সময় হয় তা হলে ত্রিশ (৩০) দিনের মজুরী অথবা গ্রাচুইটি (অথার্ৎ কোন শ্র্রমিকের প্রতি পূর্ণ বৎসর চাকুরী অথবা ছয় মাসের অতিরিক্ত সময়ের চাকুরীর জন্য তার সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরী হারে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানে কিংবা একই মালিকের যে কোন প্রতিষ্ঠানে অনধিক ০৮ বৎসরের চাকুরীর ক্ষেত্রে তার সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরী হারে ৩০ দিনের মজুরী অথবা ৮ বৎসরের অধিককাল চাকুরীর ক্ষেত্রে তার সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরী হারে ৪৫ দিনের মজুরী যাহা উক্ত শ্রমিককে তার চাকুরীর অবসানে প্রদেয়, ইহা এই আইনের অধীনে শ্রমিকের বিভিন্ন ভাবে চাকুরীর অবসানজনিত কারনে মালিক কর্তৃক প্রদেয় ক্ষতিপূরন বা নোটিশের পরিবর্তে প্রদেয় মজুরী বা ভাতার অতিরিক্ত হইবে) যদি প্রদেয় হয়, যা অধিক হবে প্রদান করবেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাতে গোনা তিন/চারটি সিকিউরিটি কোম্পানি ব্যতিত অন্য কোনো কোম্পানি সার্ভিস বেনিফিট প্রদান করে না। 

ভাটার থানায় অবস্থিত একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সিকিউরিটি কোম্পানি সার্ভিস বেনিফিট দিতে হবে বলে তারা গার্ডের সাথে প্রতারণা করে তিন/চার বছর পর গার্ডকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। পরে পুনরায় ভর্তি করে নতুন ID দেয়। এই কোম্পানিটি একই গার্ডকে তার সার্ভিস জীবনে কয়েকবার এই ঘটনা ঘটায়। যার ফলে সেই গার্ড চাকরি জীবন শেষ করে খালি হাতে বাড়ি ফিরে। এই প্রতারণার সাথে HR ও অপারেশন ডিপার্টমেন্ট ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই কোম্পানিটি গার্ডদের সাথে অনুরূপ প্রতারণা করে শুধু তাই নয় এরা স্টাফদের সাথেও একই প্রতারণা করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অফিসার অভিযোগ করেন, তিনি প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট পেতে পেতে বেতন দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার টাকা। এখন কর্তৃপক্ষ বলছে এতো টাকা দিয়ে তাকে চাকরিতে রাখবে না। হয় ৩০ হাজার টাকায় চাকরি করো নতুবা পদত্যাগ করো, এই ঘোষণা আসার পর সেই অফিসার বাধ্য হয়ে এখন ৩০ হাজার টাকায় চাকরি করছে। এভাবেই কোম্পানিগুলো এমপ্লয়ীদের সাথে অমানবিক, অবিচার করে আসছে।

 (১৩) বেতনসহ কোনো ছুটি প্রদান না করাঃ

মালিক পক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী সিকিউরিটি গার্ড বা শ্রমিকদেরকে বেতনসহ নির্ধারিত ছুটিগুলো প্রদান করতে বাধ্য।

(ক) নৈমিত্তিক ছুটিঃ

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১১৫ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে পূর্ণ মজুরীতে দশ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি পাইবার অধিকারী হবেন।

(খ) অসুস্থতাজনিত ছুটিঃ

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১১৬ (১) ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক প্রত্যেক পঞ্জিকা বৎসরে পূর্ণ মজুরীতে চৌদ্দ দিনের পীড়া ছুটি পাইবার অধিকারী হবেন।

(গ) বেতনসহ বাৎসরিক ছুটি প্রদানঃ

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১১৭(১) ধারা অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো শ্রমিক অবিচ্ছিন্নভাবে এক বৎসর চাকুরী পূর্ণ করেছেন এমন প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিককে পরবর্তী বারো মাস সময়ে তার পূর্ববর্তী বারো মাসের কাজের জন্য প্রতি আঠার দিন কাজের জন্য একদিন ছুটি প্রাপ্য হবে। সেই হিসেবে বছরে বেতনসহ একজন শ্রমিক ২০ দিন ছুটি পাইবার অধিকারী হবে।

(ঘ) উৎসব ছুটিঃ

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১১৮(১) ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিককে প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে এগার দিনের মজুরীসহ উৎসব ছুটি মঞ্জুর করতে হবে।

(ঙ) সাপ্তাহিক ছুটিঃ

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১০৩ ধারা অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো শ্রমিক প্রতি সপ্তাহে কারখানা ও শিল্পের ক্ষেত্রে একদিন এবং দোকান ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেড় দিন ছুটি পাবেন।

শ্রম আইন অনুযায়ী একজন শ্রমিক বা সিকিউরিটি গার্ড উক্ত ছুটিগুলো পাইবার অধিকার রাখে। এবং মালিক পক্ষ দিতে বাধ্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ সিকিউরিটি কোম্পানিতে কোনো লিভ পলিসি নেই। লিভ রেকর্ড রেজিস্টার নেই। লিভ ফরম নেই। তাদের ভর্তি ফরমে লেখা থাকে, তিন মাস/ ছয় মাস শৃংখলার সাথে চাকরীর মেয়াদ হলে কোম্পানি নিয়মানুযায়ী যেকোনো গার্ড ছুটি ভোগ করতে পারবে। ফরমে এই শর্ত থাকলেও  অদ্যবধি কোনো গার্ডকে বেতনসহ ছুটি প্রদান করা হয় না। সাপ্তাহিক কোনো ছুটি নেই, বাৎসরিক ছুটি প্রদান করা হয় না, নৈমত্তিক ছুটি নেই, উৎসব কোনো ছুটি নেই। তথা কোনো প্রকার ছুটি প্রদান করা হয়না।  গার্ড তার নিজের প্রয়োজনে ছুটি যায় কিন্তু সেই কয়দিনের বেতন দেয়া হয়না। তেমনি কোনো উৎসবে বেতনসহ ছুটি প্রদান করা হয় না। কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরিতে গার্ডরা রোটেশন অনুযায়ী সাপ্তাহিক এক দিনের ছুটি ভোগ করে তবুও ক্লায়েন্ট সেই টাকা পে করে বলে। এছাড়া বেতনসহ কাউকে ছুটি দেয়া হয় না। এখানে সকলেই শ্রম আইন লংঘন করে আসছে।

 (১৪) জোড় পূর্বক ওভারটাইম করানো ও নিয়মানুসারে ওভারটাইমের টাকা না দেয়াঃ

যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্ততা কর্মচারী বা শ্রমিক কিংবা সিকিউরিটি গার্ড দৈনিক ০৮ ঘন্টার বেশী শ্রম দিবে না। তবে মূল বেতনের দ্বিগুণ হারে ভাতা প্রদান করলে দৈনিক ১০ ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারবে। এর বেশী নয়।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১০০ ধারা অনুযায়ী কোন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক কোনো প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ দৈনিক আট ঘণ্টার অধিক সময় কাজ করবেন না বা তাকে দিয়ে কাজ করানো যাবে না।

তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১০৮ এর বিধান সাপেক্ষে কোন প্রতিষ্ঠানে উক্তরূপ কোনো শ্রমিক দৈনিক দশ ঘণ্টা পর্যন্ত ও কাজ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১০৮(১) ধারা অনুযায়ী, যে ক্ষেত্রে কোনো শ্রমিক কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো দিন বা সপ্তাহে এই আইনের অধীন নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত সময় কাজ করেন, সে ক্ষেত্রে তিনি অধিকাল কাজের জন্য তার মূল মজুরী ও মহার্ঘভাতা এবং এডহক বা অন্তবর্তী মজুরী, যদি থাকে, এর সাধারণ হারের দ্বিগুণ হারে ভাতা পাবেন।

সাপ্তাহিক কর্মঘন্টাঃ

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১০২(১) ধারা অনুযায়ী কোনো প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক কোনো প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘণ্টার অধিক সময় কাজ করবেন না বা তাকে দিয়ে কাজ করানো যাবে না। (২) ধারা ১০৮ এর বিধান সাপেক্ষে, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক কোনো প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘণ্টার অধিক সময়ও কাজ করতে পারবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো সপ্তাহে উক্তরূপ কোনো শ্রমিকের মোট কর্ম-সময় ষাট ঘণ্টার অধিক হবে না, এবং কোনো বৎসরে উহা গড়ে প্রতি সপ্তাহে ছাপ্পান্ন ঘণ্টার অধিক হবে না।

ঈগল সিকিউরিটিতে সরেজমিনে দেখা যায়, একজন গার্ড প্রতিদিন ১২ ঘন্টা করে ডিউটি করে। সেই হিসেবে সপ্তাহে ৮৪ ঘন্টা ডিউটি করে যা অমানবিক। মাঝে মধ্যে গার্ডকে দিয়ে ডাবল ডিউটিও করানো হয় তথা একজন গার্ড নিজের ১২ ঘন্টা ডিউটি করার পর আবার ডাবল ১২ ঘন্টা ডিউটি করে আবার নিজের ডিউটিতে ফিরে আসতে আরো ১২ ঘন্টা ডিউটি করতে হয় এভাবে একনাগারে ৩৬ ঘন্টা একজন গার্ড ডিউটি করে অনেকে অসুস্থা হয়ে যায়। আর মজার ব্যাপার হলো, ৮ ঘন্টা ডিউটি করার পর অতিরিক্ত ঘন্টার জন্যে কাউকেই মূল বেতনের দ্বিগুন ভাতা প্রদান করা হয় না। এভাবে শ্রম আইনকে তোয়াক্কা না করে গার্ডদের উপর স্টিম রোলার চালানো হচ্ছে।

(১৫) বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট না দেয়াঃ

বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা বিধিমালা ২০০৭ এর ৬(খ) ধারা অনুযায়ী সিকিউরিটি গার্ডদের বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। প্রথম সারির কয়েকটি কোম্পানি ব্যতিত অন্য কোনো কোম্পানিতে গার্ডদের বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি করা হয় না। অথচ ভর্তির সময় মিথ্যে শান্ত্বনা দিয়ে বলা হয় বছরে বছরে বেতন বৃদ্ধি হবে। কিন্তু দেখা যায় এক বছর হওয়ার আগেই বিভিন্ন টালবাহানা করে সেই গার্ডকে চাকরিচ্যূত করা হয়ে থাকে।

(১৬) প্রতারণামূলক কর্মকান্ড ও অসহায় গরিব গার্ডদের বেতন মেরে খাওয়াঃ

সিকিউরিটি কোম্পানিতে যেসব লোক চাকরি করতে আসে তারা সকলেই গ্রাম গঞ্জের অসহায় ও গরিব মানুষ। এরা কখনো চাকরি ছেড়ে চলে গেলে তখন সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো বেতন না দেয়ার বিভিন্ন পলিসি তৈরী করে। তথা একজন গার্ড ১৫ দিন ডিউটি করে চলে গেলে সেই ১৫ দিনের বেতন এরা প্রদান করে না। এরা নিজেরাই শ্রম আইন মানে না তখন বিভিন্ন আইন বের করে।

(১৭) নতুন ইমপ্লয়িদের সাথে প্রতারণা করা (অফিস স্টাফ):

নাম সর্বস্ব অনেক কোম্পানি আছে যাদের দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল নেই। তারা অনেক সময়

স্বনামধন্য বিভিন্ন কোম্পানি থেকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকদের ডেকে এনে উচ্চ বেতন ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা বলে তাদের কোম্পানিতে যোগদান করায়। তারপর অপারেশন পরিচালনার বিভিন্ন  কৌশল/মার্কেটিং এর সকল তথ্য  নিজেরা রপ্ত করে এক দুই মাস পর একটা অজুহাত সৃষ্টি করে বের করে দেয়। এভাবে নাম সর্বস্ব কোম্পানিগুলো মাঝে মধ্যেই বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে আসছে।

(১৮) রাজস্ব ফাঁকি দেয়াঃ

উৎসে কর আইন অনুযায়ী প্রতি মাসে  ২৫ লাখের নীচে বেতন হলে ১০% কর ও সাথে এআইটি ১.৫% দিতে হবে আর ২৫ লাখের উর্দ্ধে বেতন হলে ১২% কর ও সাথে এআইটি ২% দিতে হবে। এখানে প্রতি মাসে কতোজন গার্ডের  বেতন হচ্ছে সেই হিসেব করে ঐ উৎসে কর প্রদান করতে হয়। অনেক কোম্পানির মালিক আছেন যারা উৎসে কর সম্পর্কে কিছুই জানেন না। আবার ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন না দেয়ায় সরকারও এর হিসেব ধরতে পারছে না। যার ফলে সরকার প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। হাতে হাতে বেতন দিলেও বেতন শিটে সিকিউরিটি কোম্পানির মালিক ১০ টাকার রাজস্ব টিকিটও লাগায় না। ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত মোটামুটি নাম করা একটি সিকিউরিটি কোম্পানি আছে যারা প্রতি মাসে প্রত্যেক কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন থেকে দশ টাকা রাজস্ব টিকিটির কথা বলে কেটে নেয় কিন্তু বেতন ব্যাংকের মাধ্যমে দেয় বলে ঐ দশ টাকার রাজস্ব টিকিট বেতন শিটে আর লাগায় না । ফলে প্রতি মাসে এভাবে প্রায় ষাট থেকে সত্তর হাজার টাকা আত্মসাৎ করে আসছে এবং সরকারও হাজার হাজার টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। ঐ কোম্পানি একটা উদাহরণ এরকম শত শত কোম্পানি আছে যারা হাতে হাতে টাকা দেয় সরকারি রাজস্ব ফাকি দিয়ে।

(১৯) আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও ব্যবহার বিধিবিধানঃ

বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা আইন, ২০০৬ এর ১২(১) আইনে উল্লেখ আছে,  এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠানকে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র, অস্ত্র বা উহাতে ব্যবর্হায গুলি/গোলা ও বারুদের জন্য লাইসেন্স প্রদান করা যাইবে না৷

(২) কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ পরিবহন অথবা এ সকল প্রতিষ্ঠানের স্থির দায়িত্ব এর ক্ষেত্রে সংশ্লষ্টি প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ভিত্তিতে মহাপরচিালক, আনসার ও ভিডিপি বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা এই আইনের অধীন প্রণীতব্য বিধি অনুযায়ী সশস্ত্র আনসার নিয়োগ করিতে পারিবেন।

আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা ২০১৬ অনুযায়ী,

(ক) কোনো ব্যক্তি স্বীয় লাইসেন্সে এন্ট্রিকৃত অস্ত্র আত্মরক্ষার নিমিত্ত নিজে বহন/ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অন্যের ভীতি উদ্রেক করতে পারে এরুপ অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।

(খ) আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানের গার্ড ইউনিফরম ছাড়া প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করতে পারবে না।

(গ) আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী কোনো ব্যক্তি নিজ ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা সম্পত্তি রক্ষার জন্য অস্ত্রধারী প্রহরী হিসেবে নিয়োজিত হতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে  তার অস্ত্রের লাইসেন্স তাৎক্ষনিকভাবে বাতিলযোগ্য হবে।

(ঘ) একইভাবে কোনো আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে অন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে অন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সম্পত্তি রক্ষার জন্য অস্ত্রধারী প্রহরী হিসেবে নিয়োজিত করা যাবে না।

(ঙ) প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা আগ্নেয়াস্ত্র সে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে, প্রতিষ্ঠানের মালিক কিংবা কর্মরত কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা ব্যক্তির নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

(চ) যে প্রতিষ্ঠানের নামে  আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু করা হবে সে প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান/অধীনস্থ/সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নিরাপত্তা কিংবা অন্য কারো স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি রক্ষা করার কাজে উক্ত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।

(ছ) আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হলে বা বিলুপ্ত হয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ত্বাধীকারী/নির্বাহী প্রধান নিকটস্থ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিবেন।

(জ) প্রবাসী বাংলাদেশী/বাংলাদেশী দ্বৈত নাগরিককে বিদেশে অবস্থানকালে আবশ্যিকভাবে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় বা সেফ কিপিং লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে জমা রাখতে হবে।

(ঝ) উপরে বর্ণিত যে কোনো শর্ত ভংগের কারণে লাইসেন্স বাতিলযোগ্য হবে।

সরকার আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা যেভাবে বলে দিয়েছেন সেভাবে কোনো সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো চলছে না। তারা আনসারের বদলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সধারী ব্যক্তিকে মাসিক বেতনে নিয়ে অন্য জায়াগায় নিরাপত্তা দিচ্ছে। আবার  দেখা যায়, একজন অন্য জনের বন্দুক ভাড়া নিয়ে নিরাপত্তা দিচ্ছে। অনেকে অন্য জনের বন্দুক এফিডেভিড করে নেয় । এগুলো সব আইন বিরোধী কাজ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর সকলের আগ্নেয়াস্ত্র জমা নিয়ে চেক করতে গিয়ে দেখা যায় অনেকের লাইসেন্স ভুয়া। অথচ এই ভুয়া লাইসেন্স দিয়ে তারা এতো দিন চাকরি করে আসছে। সরকারিভাবে এগুলো দেখভালের কেউ না থাকায় সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো সুযোগ পেয়ে তারাও অবৈধভাবে চলছে।

(২০) চাকরিচ্যূত করার বিধান না মানাঃ

সিকিউরিটি কোম্পানিতে কর্মরত গার্ডদের ছাটাই, ডিসচার্জ বা অবসান কিংবা টার্মিনেশন ইত্যাদি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ২০, ২১, ২২, ২৩ ও ২৪ মোতাবেক কাউকে চাকরিচ্যূত করা হয়না। গার্ডদের ‍শুধু মৌখিক কথায় কোনো সুযোগ সুবিধা না দিয়েই বিদায় করা হয়। গার্ড ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোথায় এর প্রতিকার পাবে সে সম্পর্কে এরা কিছুই জানে না। তাছাড়া এদেরকে নিয়োগ পত্র না দেয়ায় সঠিক প্রতিকারও পায় না। এভাবে সহজ সরল অসহায় গরিব লোকগুলো চোখের জলে বুক ভাসিয়ে বাড়ি চলে যায়।

(২১) গার্ড অনুপস্থিত থাকলে  নোটিশ না করাঃ

বাংলাদেশ শ্রম আইন ৬, ২৭ (৩ক) কোনো শ্রমিক বিনা নোটিশে অথবা বিনা অনুমতিতে ১০ দিনের অধিক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকিলে মালিক উক্ত শ্রমিককে ১০ দিনের সময় প্রদান করিয়া এই সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করিতে এবং চাকুরীতে পুনরায় যোগদানের জন্য নোটিশ প্রদান করিবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান বা চাকুরীতে যোগদান না করিলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে তাহার আত্নপক্ষ সমর্থনের জন্য আরো ৭দিন সময় প্রদান করিবেন। তাহাতেও যদি সংশ্লিষ্ট শ্রমিক চাকুরীতে যোগদান অথবা আত্নপক্ষ সমর্থন না করেন তবে, উক্ত শ্রমিক অনুপস্থিতির দিন হইতে চাকুরী হইতে অব্যহতি গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।

গার্ড অনুপস্থিত থাকলে বাংলাদেশ শ্রম আইন ৬, ২৭ (৩ক) অনুযায়ী কয়েকটি সিকিউরিটি কোম্পানি ব্যতিত বাকি হাজার হাজার কোম্পানি উক্ত আইন অনুযায়ী কেউ নোটিশ করে না। তারাভাবে কেউ চলে গেলে সেই কয়েকদিনের বেতন কোম্পানির থেকে যায় বা সেই এলাকার অপারেশন অফিসার আরেকজন ভর্তি করে তার নামে অনুপস্থিত গার্ডটির ডিউটিগুলো টাইম শিটে তুলে দিয়ে আত্মসাৎ করে থাকে।

(২২) চাকরি থেকে চলে গেলে বকেয়া বেতন প্রদান না করাঃ

অনেক সিকিউরিটি গার্ড বাড়ির বিশেষ প্রয়োজনে ছুটি চাইলে দেয়া হয় না। অনেকে চলে গেলেও ফিরে এসে দেখে তার স্থলে অন্য কেউ ডিউটি করছে। তাকে হয়তো কম বেতনের পোস্টে দেয়া হয়। তথা কেউ চলে গেলে তার সেই কয়দিনের বেতন দেয়া হয় না। অনেকে বেতনের পরই চলে যায় তাকেও সেই কয়দিনের বেতন দেয়া হয়না।

(২৩) ডাক্তারী পরীক্ষা না করেই নিয়োগ প্রদানঃ

বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ অনুযায়ী, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রদান করা প্রত্যয়ন অনুযায়ী গার্ডদের চাকরিতে নিয়োগ দিতে হয়। দুই/তিনটি কোম্পানি ব্যতীত অন্য কোনো কোম্পানিতে বয়স নিরুপন ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করার কোনো ডাক্তার নেই। যাদের কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরি আছে সেখানে ঐ দুইটি প্রত্যায়ন পত্র দেখাতে হয়। যেহেতু ডাক্তার নেই তাই এইচআর ডিপার্টমেন্ট নিজেই ডাক্তার সেজে নকল সাইন দিয়ে প্রত্যায়ন পত্র তৈরী করে তাদেরকে দিয়ে থাকে। এখানে পুরোটাই হযবরল। এসব বিষয়ে ক্লায়েন্ট এর দিক থেকে বা বহিরাগত অডিট কোনো যাচাই বাছাই করে না বলে সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো সেই সুযোগটা নিয়ে থাকে।

(২৪) মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান না করাঃ

বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস বিধি ১৯৭ তে মাতৃত্বকালিন ছুটি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে এ ছুটি একাধারে ৬ মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। আবার নতুন যোগদানকারীদের ক্ষেত্রে শিশুর জন্মের পরও এ ছুটি নেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আসুন বিএসআর মূল বিধিতে প্রসূতিকালীন ছুটি সম্পর্কে কি বিধান রয়েছে তা জেনে নিই।

মূল বিধি Rule-197.-(1) Where a female Government servant applies for maternity leave, the authority mentioned in rule 149 or, as the case may be, rule 150 shall grant such leave for a period of four months from the date of commencement of the leave or her confinement for the purpose of delivery, whichever is carliar.

(1A) Maternity leave under this rule shall not be admissible more than twice during the tenure of service of a female Government servant.

(IB) The maternity leave granted under this rule shall not be debited against the leave account of the female Government servant and she shall be entitled to receive full pay for the leave period at the rate she was drawing at the time of taking such leave.

বঙ্গানুবাদ

বিশ্লেষণঃ (৩) এই প্রকার ছুটি ছুটি হিসাব” এর জমা ছুটি হইতে বাদ যায় না। এবং ছুটির প্রাপ্যতা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এই প্রকার ছুটি কর্মকাল হিসাবে গণ্য হয়।

বিধি-১৯৭। (১) কোন মহিলা কর্মচারী প্রসূতি ছুটির জন্য আবেদন করিলে, প্রযােজ্য ক্ষেত্রে, বিধি ১৪৯ অথবা বিধি-১৫০ তে বর্ণিত কর্তৃপক্ষ ছুটি আরম্ভের তারিখ অথবা সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে আতুর ঘরে আবদ্ধ হওয়ার তারিখ, ইহার মধ্যে যাহা পূর্বে ঘটিবে, ঐ তারিখ হইতে ৬ (ছয়) মাসের ছুটি মঞ্জুর করিবেন।

(১এ) এই বিধির অধীনে প্রসূতি ছুটি একজন মহিলা কর্মচারী সমগ্র চাকরিজীবনে ২ (দুই) বারের অধিক পাইবেন না।

(১বি) এই বিধির অধীন মহ্রকৃত প্রসূতি ছুটি মহিলা কর্মচারীর “ছুটি হিসাব” এ জমাকৃত ছুটি হইতে বাদ যাইবে না এবং ছুটিতে যাওয়ার প্রাক্কালে উত্তোলিত বেতনের হারে পূর্ণ বেতন পাইবেন।

(২) মেডিকেল সার্টিফিকেট সহকারে আবেদন করা হইলে বিধি ১৮৪ এর (বি) অনুচ্ছেদে বর্ণিত সীমা সাপেক্ষে গড় বেতনে ছুটিসহ অন্য যে কোন প্রকার ছুটি প্রসূতি ছুটির সহিত সংযুক্তভাবে প্রদান করা যাইবে। নােটঃ বিলুপ্ত। (এস, আর, ও নং ৮৪/নথি নং ০৭.০০.০০০০.১৭১.০৮. ০০১,১২/ আইন/২০১২, তারিখঃ ১ এপ্রিল, ২০১২।

কোনো সিকিউরিটি কোম্পানি বেতনসহ কোনো লেডি গার্ডকে মাতৃত্বকালীন ছয় মাসের  ছুটি দিয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। দেখা যায় মাতৃত্বকালীন ছুটি নিলে ফিরে এসে দেখে তার চাকরি  নেই।

(২৫) চাকরি করতে এসে লেডি গার্ড যৌন হেনস্থার শিকারঃ

সিকিউরিটি কোম্পানিতে যেসব মেয়েরা  চাকরি করতে আসে তাদের অধিকাংশ মেয়েরা স্বামী পরিত্যাক্তা, না হয় বিধাবা, না হয় প্রেমে ছ্যাকা খাওয়া অথবা অর্থনৈতিকভাবে অসহায় গরিব। এইসব মেয়েদের অনেকেই দেখতে খুব সুন্দরী। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কোম্পানির মালিক অথবা কোনো ডাইরেক্টর বা ম্যানেজার তাদের প্রতি কুদৃষ্টি দিয়ে বেশি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে বা ভালো আরও সুযোগ সুবিধথা দেয়ার কথা বলে সতীত্ব নষ্ট করছে। এসব কোম্পানিতে মেয়েরা সম্পূর্ণ অসহায়। একদিকে কোম্পানির ম্যানেজমেন্টকে সন্তুষ্ট রাখতে হয় অন্য দিকে গ্রাহকের চাহিদাও পূরণ করতে হয়। অনেকে নিজের মান সম্মান বজায় রাখতে চাকরি ছেড়ে চলে যায়। কাউকে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করলে বা বিশেষ কৌশলে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাধ্য করলে অসহায় মেয়েরা কার নিকট বিচার দিবে সে জায়গা খুজে পায় না। ঢাকাস্থ বিশেষ একটি সিকিউৃরিটি কোম্পানির মালিক যার প্রথম উদ্দেশ্য ছিলো একটি কোম্পানি গড়ে তুলে  মেয়েদেরকে চাকরি দিয়ে তাদেরকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করবে এবং তিনি সেকাজে একশত ভাগ সাকসেসফুল। তিনি প্লান করে সেই রকম একটি অফিস নিয়েছেন যেখানে সেই মালিকের নিকট যেতে পাচটি গেট ডিঙিয়ে যেতে হয়। তার আশেপাশে সব সময় সাত/আট জন সুন্দরী মেয়ে থাকে। যেদিন যাকে টার্গেট করবে তাকে বিকেলে বেশি কাজ দিয়ে ব্যস্ত রাখে। এভাবে অফিস ছুটি হলেও ঐ মেয়ে কাজের চাপে আটকা পড়ে যায়। এরপর নিরব নিস্তব্ধ অফিসে মালিক ইচ্ছেমতো তার চাহিদা পূরণ করে। শুধু তাই না এই অফিস ছাড়াও মেয়েদেরকে  ব্যবহার করার জন্য অন্যত্র আলাদা একটি অফিস নেয়া আছে। যেদিন অফিসে লোক জনের ভীড় থাকে সেদিন যেকোনা একটাকে বাছাই করে অফিসের কাজ করার কথা বলে সেখানে নিয়ে মনের সুখ মিটায়। নতুন কাউকে চাকরি দিলে সে টেকসই হবে কিনা তাকে পরীক্ষা করার জন্য  সাইট ভিজিট করার কথা বলে কখনো কক্সবাজার আবার কখনো কুয়াকাট উড়াল দেয়। হোটেলে ওঠার পর চাহিদা মিটাতে তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে, এতে মেয়েটির সম্মতি থাকলে তার প্রমোশন হয় আর জোড়াজুড়ি করে কাজ করতে না দিলে মালিক  রাগান্বিত হয়ে অফিসে ফিরে একটা বাহানা বের করে চাকরিচ্যূত করে  থাকে। এভাবে হাজার হাজার মেয়ের সর্বনাশ করে আসছে সেই সিকিউরিটি কোম্পানির মালিক। এরকম আরও অনেক আছে।

(২৬) NOC প্রদান না করাঃ

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা (৩১) অনুযায়ী সাময়িক ও বদলী শ্রমিক ব্যতীত, অন্য কোন শ্রমিক তাহার ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত, অপসারণ, অবসর গ্রহণ বা চাকুরীর অবসানের সময় মালিকের নিকট হইতে চাকুরী সংক্রান্ত একটি প্রত্যয়নপত্র পাইবার অধিকারী হইবেন৷

বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ এর ধারা (৩১) মোতাবেক চাকরি অবসান বা সমাপ্তির ক্ষেত্রে শ্রমিকের আবেদনের ১৫(পনের) দিনের মধ্যে তাহাকে ফরম-১৩ অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিতে হইবে।

কিন্তু দেখা যায়, সিকিউরিটি কোম্পানিতে যেসব গার্ড  চাকরি করে তাদের কাউকে এ পর্যন্ত চাকুরী সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে এমন কোনো প্রমান নেই। এমনকি অফিস স্টাফদেরও এই প্রত্যায়নপত্র দিতে চায় না। অনেকে এইচআর এর সাথে ভাইবন্দী করে এই প্রত্যায়ন পত্র নিয়ে থাকে। 

(২৭) ক্ষতিপূরণ না দেয়া: সিকিউরিটি গার্ড তার দায়িত্ব পালন অবস্থায় আহত বা নিহত হলে ১/২টি সিকিউরটি কোম্পানি ছাড়া অন্য কোনো সিকিউরিটি কোম্পানিকে শ্রম আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে দেখা যায় না। এমনকি আহত হয়ে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হলে তাকে দেখতেও যায় না। চিকিৎসা বাবদ কোনো খরচও বহন করে না। এক অমানবিক পরিস্থিতি  বিরাজ করছে এসব কোম্পানিতে।

সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো দেখভালের জন্য নেই কোনো সরকারি মনিটরিং

বাংলাদেশে প্রায় আটশত সিকিউরিটি কোম্পানি সচল আছে। সরেজমিনে দেখা গেছে এইসব কোম্পানির ৯৫% মালিক বা ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি আইন ১৯৯৪, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ ও বিধিমালা ২০১৫ এবং বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা আইন ২০০৬ ও বিধিমালা ২০০৭ সম্পর্কে কিছুই জানে না। বাংলাদেশের প্রথম সারির কয়েকটি কোম্পানি ব্যতীত বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা আইন ২০০৬ ও বিধিমালা ২০০৭ নামক এই বই দুইটি অন্য কোনো কোম্পানিতে নেই। অধিকাংশ কোম্পানির মালিক সরকারি কোনো আইনকানুন মানে না, নিজের মনগড়া মতো কোম্পানিগুলো চালাচ্ছে। সিকিউরিটি কোম্পানিগুলোর যেসব সমস্যা তা আলোচনা করা হয়েছে। এইসব কোম্পানি কীভাবে চলছে বা কীভাবে প্রতারণা করছে কিংবা সরকারি ভ্যাট ট্যাক্স সঠিকভাবে দিচ্ছে কিনা তা দেখভালের জন্য সরকারি কোনো লোক নেই। কেউ সমস্যায় পড়ে থানায় গেলে সেই সময় কোনো পুলিশ এলে তার পকেট ভারি করলেই সব ঠান্ডা। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের কাউকে কোনোদিন ভিজিট করতে দেখা যায় না। অনেক সময় বড় কোম্পানিগুলোতে রাজস্ব বিভাগ থেকে লোক আসে শুধু তাদের ভ্যাট ট্যাক্স নিয়ে কথা বলতে। শ্রমিকদের বিষয়ে কেউ খোজ খবর রাখে না।

কোম্পানি ভিজিটের সময় ক্লায়েন্টদের করণীয়

মাল্টিন্যাশনাল  বা বড় ধরণের কোনো কোম্পানি গার্ডিং সার্ভিস নেয়ার পূর্বে সেবা প্রদানকারী সিকিউরিটি কোম্পানি ভিজিট করে থাকে। তারা তাদের ফরমেট অনুযায়ী কিছু কিছু বিষয় যাচাই বাছাই করে। কিন্তু কেউই কোম্পানি আইন ১৯৯৪, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ ও বিধিমালা ২০১৫ এবং বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা আইন ২০০৬ ও বিধিমালা ২০০৭ অনুযায়ী সিকিউরিটি কোম্পানিটি চলছে কিনা এবং আইন অনুসারে গার্ডদের সুযোগ সুবিধা বা বেতন ভাতা সঠিক সময়ে সঠিকভাবে দিচ্ছে কিনা তার কোনো খোজ খবর নেয় না। টনক নড়ে তখনই যখন পোস্ট থেকে ব্যাপকহারে গার্ড চলে যায়, সেবার মান খারাপ হতে থাকে। এজন্যে গার্ড নেয়ার পূর্বে যে বিষয়গুলো দেখা প্রয়োজন,

(ক) গার্ড ভর্তি ফরম পূর্বের ও বর্তমানের  চেক করে দেখতে হবে আইন বহির্ভুত কোনো শর্ত জুড়ে দিয়েছে কিনা? জামানত (যা ফেরত যোগ্য ) ব্যতীত  ভর্তিবাবদ অন্য কোনো টাকা নেয় কিনা? ছুটি ও কর্ম ঘন্টা উল্লেখ আছে কিনা? বেতনসহ ছুটি প্রদান করে কিনা? ছুটি রেকর্ড ফাইল চেক করতে হবে। অনগ্রাউন্ডে গার্ডদের চেক করতে হবে।

(খ) ট্রেনিং করানো হয় কিনা? সেটা কতো দিনের? ট্রেনিং প্রোগ্রাম আছে কিনা? ট্রেনিং মডিউল বই আছে কিনা? আপনার ফ্যাক্টরির চাহিদা মোতাবেক ট্রেনিং দেয় কিনা? ট্রেনিং ইনস্ট্রাক্টর আছে কিনা? কতো জন? চেক করতে হবে। ট্রেনিং গ্রাউন্ড আছে কিনা? ট্রেনিং রুম আছে কিনা? সেটা আদৌ ট্রেনিং রুম কিনা? চেক করতে হবে। গার্ডের ব্যারাক আছে কিনা? সেটা স্বাস্থ্য সম্মত কিনা? পাসিং আউট সিস্টেমটা কি? ট্রেনিং এর পর কিভাবে মূল্যায়ণ করা হয় পূর্বের সহ চেক করতে হবে।

(গ) বেতনভাতা সঠিক সময়ে দেয় কিনা? বেতন থেকে টাকা কর্তন করে কিনা?

(ঘ) ভ্যাট ট্যাক্স, আয়কর সহ অন্যান্য ট্যাক্স দেয় কিনা চেক করতে হবে।

(ঙ) কতোগুলো জনবল আছে বেতন রেজিস্টারসহ চেক করতে হবে। কতোগুলো পোস্ট আছে সেগুলোতে সেবার মান কেমন যাচাই করতে হবে।

(চ) সরকারি যেসব ডকুমেন্টস থাকার কথা সেগুলো আপডেট আছে কিনা যাচাই করা।

(ছ) একটা অফিস কাঠামো অনুযায়ী সেকশন অনুসারে পর্যাপ্ত অফিস স্টাফ আছে কিনা যাচাই করা।

(জ) অফিস স্টাফদের সিকিউরিটি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে কিনা তা যাচাই করা।

(ঝ) এছাড়া ক্লায়েন্ট এর অন্যান্য পয়েন্ট অনুসারে যেসব যাচাই করার কথা তা পূংখানুরুপে যাচাই করা।

অধিকাংশ ক্লায়েন্ট উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে চুক্তি বদ্ধ হওয়া

গ্রাহক ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পূর্বে ক্লায়েন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ভিজিট করে সব কিছূ যাচাই করে দেখার কথা কিন্তু অধিকাংশ গ্রাহক সেই ভিজিট করে না। বর্তমান সময়ে পোস্ট কেনা বেচা করা হয়। গ্রাহকের এডমিন বা এইচআর কোনো কোম্পানিকে ডেকে নিয়ে তার সাথে এককালীন বা মাসিক উৎকোচ গ্রহনের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। যার ফলে গ্রাহকের পক্ষ থেকে সিকিউরিটি কোম্পানির অফিস ভিজিট করার প্রয়োজন হয় না। উৎকোচ দিয়ে পোস্ট নেয়ার প্রবনতা এখন প্রায় ছোট বড় সকল সিকিউরিটি কোম্পানিই জড়িত। উৎকোচ প্রদানের কারণে গার্ডিং সার্ভিস ভালো হয় না।

অধিকাংশ সিকিউরিটি কোম্পানিগুলোর প্রতারণা ও তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

ব্যাঙয়ের ছাতার মতো গড়ে ওঠা নামসর্বস্ব অধিকাংশ সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো চাকরি দেয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা নিয়ে প্রতারণা করে আসছে। এইসব সিকিউরিটি কোম্পানিগুলোর নিজেস্ব কোনো পোস্ট নেই। এরা বিভিন্ন চাটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে বেশি বেতন দেয়ার কথা বলে গ্রামাঞ্চলের সহজ সরল ছেলেদেরকে ডেকে এনে মোটা অংকের টাকা নিয়ে অন্য কোম্পানিতে বিক্রি করে দয়। এইসব দালাল কোম্পানিগুলো থেকে গার্ড নেয়ার জন্য পূর্ব থেকেই বড় কোম্পানিগুলো যোগাযোগ রাখে। দালাল কোম্পানিগুলোর  আবার জেলা বা বিভাগ ভিত্তিক এজেন্ট আছে যারা লোক সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রেরণ করে থাকে। অথচ বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা আইন, ২০০৬, ৮(১) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি তাহার লাইসেন্সের অধীন প্রদেয় নিরাপত্তা সেবা প্রদানের জন্য অন্য কোন ব্যক্তিকে এজন্টে হিসেবে নিয়োগ করিতে পারিবে না।

বাংলাদেশে এরকম কয়েকশত দালাল কোম্পানি আছে। যারা সরাসরি প্রতারণার সাথে জড়িত।

বিগত ৫ নভেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার রাতে র্যাব-১১ এর একটি দল গুলশান থানাধীন শাহাজাদপুর এলাকায় ‘সূর্যবিডি সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড” অফিসে অভিযান চালিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে ‘প্রতারক চক্রের” দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে।

এই সংঘবদ্ধ ‘প্রতারক চক্র’ দীর্ঘদিন ধরে পত্রিকা, লিফলেট ও অনলাইনে লোভনীয় বেতনে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে আসছে।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে আরও বলা হয়, প্রতারক চক্রের হোতা হলেন নিরঞ্জন সরকার এবং তিনি কথিত সূর্যবিডি সিকিউরিটি সার্ভিস লি. কোম্পানির এমডি। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের আকৃষ্ট করেন।

এখানে উদাহরণ স্বরুপ একটি মাত্র ঘটনা উল্লেখ করা হলো। এরকম শত শত ঘটনা আছে।       

 সিকিউরিটি গার্ডদের কোনো সমিতি বা সংগঠন না থাকা

বাংলাদেশের  প্রতিটি সেক্টরে কর্মকর্তা কর্মচারী ও শ্রমিকদের সংগঠন বা সমিতি থাকলেও এই একটি মাত্র সম্ভাবনাময় খাত যেখানে সিকিউরিটি গার্ডদের কোনো সংগঠন বা সমিতি নেই। সিকিউরিটি গার্ডদের সংগঠন বা সমিতি না থাকায় মালিক পক্ষ তাদের সুবিধার্তে যখন তখন মৌখিকভাবে আইন বানায় আর বদলায়। দুই তিনটি কোম্পানি ব্যতীত অন্য কোনো কোম্পানিতে আপডেট সার্ভিস রুলস প্রনয়ণ নেই। আবার থাকলেও সেই অনুসারে কেউ চলে না। যেহেতু এইসব কোম্পানি সরকারিভাবে দেখভালের কেউ নেই তাই অসহায় গরিব লোকদের যে  যেভাবে পারে সেভাবেই মালিক পক্ষ রক্ত চুষে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে। আবার এইসব কোম্পানিতে যে বেশি চালাক তাকে মিথ্যে অযুহাতে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে থাকে। মালিক পক্ষের চোখ রাঙানী দেখে কোনো গার্ডের সাহস হয় না তারা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ করবে বা কোনো একটি সংগঠন করবে। শ্রম আইন অনুসারে সিকিউরিটি গার্ডদের একটা সংগঠন থাকা আবশ্যক।  সিকিউরেক্স প্রাঃ লিঃ এ এরকম একটা সংগঠন ছিলো । সেই সংগঠনের সভাপতি ও সেক্রেটারী চাকরি ছেড়ে চলে গেলে পরবর্তীতে সেই সংগঠনের হাল ধরার মতো কেউ না থাকায় সংগঠনটি  নষ্ট হয়ে যায়।

বর্তমানে গার্ড সংকটে ভুগছে কোম্পানিগুলো

উনিশশত আটাশি সালে সিকিউরেক্স প্রাঃ লিঃ প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কোম্পানিটি এক সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ক্যাম্পেইন করে গার্ড সংগ্রহ করতো। উপস্থিত হাজার হাজার লোকদের মধ্য থেকে তারা যোগ্যতা সম্পন্ন লোক সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে আসতো। এখন সেই দিন আর নেই। ব্যাঙয়ের ছাতার মতো হাজার হাজার সিকিউরিটি কোম্পানি গড়ে ওঠায় আর সেই সব কোম্পানিতে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সহজ সরল লোকগুলো চাকরি করতে এসে প্রতারিত হওয়ায় আর এই খবর প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ায় লোকজন সিকিউরিটি কোম্পানিকে আর কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না। একদিকে দ্রব্য মূল্যের উর্দ্ধগতি অন্য দিকে স্বল্প বেতনে কেউ চাকরি করতে চায় না। অধিকাংশ কোম্পানি পনেরো তারিখের পর আবার অনেকে বিশ তারিখেরে পর বেতন দেয়া শুরু করে । অনেক কোম্পানি এক মাসের বেতন হাতে রেখে পরের মাসে বেতন দেয়্। এদিকে বাসা ভাড়া, বাকির দোকান ও বাড়ির সমস্য সমাধান করতে না পারায় বেশিরভাগ গার্ড বেতন পেয়েই চলে যায়। বাকি দিনগুলোর বেতন সেইসব কোম্পানিগুলো আর  পরিশোধ করে না। তবে এটা আবার সেইসব কোম্পানিগুলোর আয়ের একটা উৎস। দেখা যায়, রাগান্বিত হয়ে যেসব গার্ড চলে যায় তাদেরই কয়েক লক্ষ টাকা কোম্পানির থেকে যায়। এছাড়া ফ্যাক্টরিগুলোতে শ্রমিকদের বেতন ভাতা বাড়ানোর কারণে সবাই ফ্যাক্টরির দিকে ঝুকে পড়ছে। প্রতারিত হওয়া ও দ্রব্য মূল্যের উর্দ্ধগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো বেতন প্রদান না করায় বর্তমানে গার্ড সংকটে ভুগছে সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো।  তবে প্রথম সারির কিছু কোম্পানি সরকারি নিয়ম নীতির মাধ্যমে গার্ডদের মূল্যায়ণ করছে বলে সেগুলো এখনো মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে। বর্তমানে দালাল আর টাকার বিনিময়ে অনেক কোম্পানি গার্ড সংগ্রহ করে থাকে। কিন্তু টাকায় কেনা এই গার্ডগুলো বেশি দিন চাকরি করে না।

সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো বেকারত্ব দূরীকরণে সম্ভাবনাময় একটি প্লাট ফরম

বিগত ০৬ মে ২০২৪ তারিখে প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেশে বেকারের সংখ্যা ২৫ লাখ ৯০ হাজার, বেড়েছে পুরুষ বেকার। ২০২৩ সাল শেষে গড় বেকারের সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ৭০ হাজার। এর মানে গত বছরের তুলনায় এখন দেশে বেকারের সংখ্যা বেশি।

বিবিএসের হিসাব অনুসারে, ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকেও ২৫ লাখ ৯০ হাজার বেকার ছিল। সেই হিসাবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বেকারের সংখ্যা বাড়েনি। বর্তমানে বেকারের হার ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা ২০২৩ সালের গড় বেকারের হারের চেয়ে কিছুটা বেশি। ২০২৩ সালের গড় বেকারের হার ছিল ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এদিকে পুরুষ বেকারের সংখ্যা বেড়েছে, নারী বেকার কমেছে। বিবিএস হিসাব অনুসারে, গত মার্চ মাস শেষে পুরুষ বেকারের সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ ৪০ হাজার। ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে (মার্চ-জানুয়ারি) সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ ১০ হাজার। অন্যদিকে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ হাজার নারী বেকার কমেছে। এখন নারী বেকারের সংখ্যা ৮ লাখ ৫০ হাজার।

বিবিএস বলছে, শ্রমশক্তিতে এখন ৭ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার নারী-পুরুষ আছেন। তাঁদের মধ্যে ৭ কোটি ১১ লাখ ৬০ হাজার লোক কর্মে নিয়োজিত। বাকিরা বেকার।

এ ছাড়া শ্রমশক্তির বাইরে বিশাল জনগোষ্ঠী আছে। তারা কর্মে নিয়োজিত নয়, আবার বেকার হিসেবেও বিবেচিত নয়। এমন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬০ হাজার। তাঁরা মূলত সাধারণ ছাত্র, অসুস্থ ব্যক্তি, বয়স্ক নারী-পুরুষ, কাজ করতে অক্ষম ব্যক্তি, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং কর্মে নিয়োজিত নন বা নিয়োজিত হতে অনিচ্ছুক গৃহিণী।

আরেক হিসেব মতে প্রতি বছর ছয় লক্ষ শিক্ষিত বেকার বের হয়। এতো বিশাল সংখ্যক বেকারের বেকারত্ব দূরীকরণে সরকারের তেমন কোনো খাত নেই। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ‍যদি না থাকতো তাহলে কী হতো একবার ভেবে দেখুন।

বাংলাদেশে আটশত এর অধিক সিকিউরিটি কোম্পানি আছে যেখানে প্রায় তিন লক্ষ লোক চাকরি করে তারা জীবিকা নির্বাহ করছে। অধিকাংশ কোম্পানিগুলো আইন কানুন মেনে না চললেও এইসব কোম্পানি বেকারত্ব দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। এখানে চাকরি করতে তেমন শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা লাগে না। একটা ভোটার আইডি কার্ড, একটা শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টফিকেট  (যদিও বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা বিধিমালা  দুই হাজার সাত  এর আট/এক এ বলা হয়েছে , বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা  ন্যূনতম নবম শ্রেণি – শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন সনদসহ  হতে হবে। কিন্তু এই বিধি কেউ মেনে চলছে না। দেখা যায়, সর্বত্র ইট পাশ আবার কেউ পঞ্চম শ্রেণি পাশও নেয়, ক্ষেত্র বিশেষে এসএসসি পাশ নেয়।), আর একটা নাগরিকত্ব সনদ হলেই তার চাকরি হয়ে যায়। ক্লায়েন্টের চাহিদা মোতাবেক বয়স ও উচ্চতা একটা ফ্যাক্ট থেকে যায়। এছাড়া কম উচচতা ও বয়স্ক সবই চলে। এক কথায় বলতে গেলে যেমন তেমন লোক হলেই এসব কোম্পানিতে চাকরি হয়ে যায়।

যেহেতু সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো বেকারত্ব দূরীকরণে একটা মূখ্য ভূমিকা পালন করছে তাই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, সম্ভাবনাময় এই খাতের দিকে একটু নজর দিন। সরকারি আইনগুলো মেনে চলতে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে কোম্পানিগুলোকে সচল রাখা সম্ভব। এজন্যে চাই নিয়মিত সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা। যারা আইন কানুন মেনে চলে না, প্রতারণা করা যাদের স্বভাব তাদেরকে শাস্তি ও লাইসেন্স বাতিল করার মাধ্যমে অন্যদেরকে স্বচ্ছতায় আনতে পারলে এই খাতটি বেকারত্ব দূরীকরণে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভুমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

বাংলাদেশে যতগুলো সিকিউরিটি কোম্পানি আছে তার মধ্যে, Securex Private Ltd. AB Securitas Bangladesh Limited (ABS), G4s, Elite Force, Aiegis, Millenium Certis অন্যতম। 


Written By

Md. Izabul Alam

Consultant & Specialist (Security, Training & Investigation)

And Editor (BDC CRIME NEWS24)

01716508708

izabulalam@gmail.com

Saturday, August 24, 2024

সিকিউরিটি সুপারভাইজার ও সিকিউরিটি ইনচার্জ এর দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী। লেখক মোঃ ইজাবুল আলম

 

সিকিউরিটি সুপারভাইজার ও সিকিউরিটি ইনচার্জ এর দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী

 


একজন নিরাপত্তা প্রহরী বা সিকিউরিটি সুপারভাইজার বা সিকিউরিটি ইনচার্জ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় তথা একটি পোস্টের জান মাল ও তথ্যকে সর্বদা সতর্ক ও জাগ্রত অবস্থায় শত্রুর কবল থেকে সংরক্ষণ করার নামই হচ্ছে সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা। নিরাপত্তামূলক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিকে সিকিউরিটি গার্ড বা নিরাপত্তা প্রহরী বা সিকিউরিটি সুপারভাইজার বা সিকিউরিটি ইনচার্জ বলা হয়। বাংলাদেশ সরকারের আইন শৃংখলারক্ষাকারী বাহিনী যেমন, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন দেশ ও জাতির জান ,মাল ও তথ্যকে যেমন হেফাজত করে তেমনি বিভিন্ন বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা সংস্থার নিরাপত্তা কর্মীরাও জান, মাল ও তথ্যের হেফাজত করে থাকে। নিরাপত্তা বাহিনী সরকারি বা বেসরকারি যাই হোক প্রত্যেকের একই উদ্দেশ্য, আর তাহলো ব্যক্তি, বস্তু ও তথ্যের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। সুতরাং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দিক থেকে একজন সিকিউরিটি গার্ড বা নিরাপত্তা প্রহরী বা সিকিউরিটি সুপারভাইজার বা সিকিউরিটি ইনচার্জ এর গুরুত্ব কম নয়। সাম্প্রতিক বিশ্বে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে জঙ্গি হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা, শ্রমিক আন্দোলন, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি সংঘটিত হওয়ার পর থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা আরো জোড়দার করা হয়েছে। সর্বত্র নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তাই নিরাপত্তামূলক কাজে নিয়োজিত সিকিউরিটি গার্ড বা সিকিউরিটি সুপারভাইজার বা সিকিউরিটি ইনচার্জ  এর দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী আর বাসা বাড়ির দাড়োয়ান বা ম্যানেজার বা কেয়ারটেকার এর দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী এক হতে পারে না। এবি সিকিউরিটাস বাংলাদেশ লিমিটেড তাদেরকেই নিরাপত্তা কর্মী বা সিকিউরিটি সুপারভাইজার বা সিকিউরিটি ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দেয় যাদের মধ্যে সতর্কতা, সততা, বিচক্ষনতা, বুদ্ধিমত্তা, শরীরিকভাবে উপযুক্ততা, ভালোভাবে যোগাযোগের দক্ষতা এবং ক্লায়েন্ট বা মালিক পক্ষের চাহিদাগুলো সম্পূর্ণ করার সক্ষমতার গুণাবলী আছে। উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই শেষে তাদেরকে ১৪ দিনের প্রশিক্ষণ ক্লাসে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়। এ ছাড়া সময়ে সময়ে বিভিন্ন পোস্টে গিয়ে রিফ্রেসার ট্রেনিং বা অন জব ট্রেনিং এর মাধ্যমে ক্লায়েন্টের নির্দেশনা মোতাবেক সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হয। একজন সিকিউরিটি গার্ড বা সিকিউরিটি সুপারভাইজার বা সিকিউরিটি ইনচার্জ শুধু ইউনিফরম পরিধান করে তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকলেই তার দায়িত্ব পালন শেষ হয় না। তাকে সতর্ক ও সাবধানতার সাথে তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যবেক্ষণ বা নজরদারির মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হয়, যাতে কোনো দুষ্কৃতিকারী বা কোনো অপরাধী তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সিকিউরিটি গার্ড বা সিকিউরিটি সুপারভাইজার বা সিকিউরিটি ইনচার্জ  নজর ফাঁকি দিয়ে প্রবেশ করে জান, মাল ও তথ্যের কোনো ক্ষতি সাধন না করে। মূলত একজন সিকিউরিটি গার্ড বা সিকিউরিটি সুপারভাইজার বা সিকিউরিটি ইনচার্জ এর সার্বিক কর্মকান্ড হবে গোয়েন্দা ভিত্তিক কার্যক্রম। আর এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে তাকে দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে প্রশিক্ষিত হতে হবে।

সিকিউরিটি সুপারভাইজার ও সিকিউরিটি ইনচার্জগণকে যেসব বিষয়ের উপর সম্মক ধারণা, দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়

(১) এবি সিকিউরিটাস বাংলাদেশ লিঃ এই কোম্পানি সম্পর্কে সম্মক ধারণা থাকতে হবে।

(২) মাদার কোম্পানি Abans সম্পর্কে জানা থাকতে হবে।

(৩) সিকিউরিটি গার্ডদের দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী সম্পর্কে জানতে হবে।

(৪) সিকিউরিটি গার্ড ভর্তির নিয়মাবলী সম্পর্কে জানতে হবে।

(৫) ক্লায়েন্টের চাহিদাগুলো পূরণের সক্ষমতা থাকতে হবে।

(৬) ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী সিকিউরিটি গার্ডদের ট্রেনিং দেয়ার ব্যবস্থাকরণ ও ট্রেনিং দেয়ার দক্ষতা অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।         

(৭) জরুরী পরিস্থিতিতে কী করণীয় তা পূর্ব থেকেই জানা থাকতে হবে।

(৮) টাচ মোবাইল ব্যবহার সম্পর্কে জানা থাকতে হবে।

(৯) সোসাল মিডিয়া সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে ও সময়ের সাথে নিজেকে আপগ্রেড  করতে হবে।

(১০) দায়িত্বপূর্ণ এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্মক ধারণা থাকতে হবে।

(১১) নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী সম্পর্কে দক্ষ ও অভিজ্ঞ হতে হবে।

(১২) গার্ডদের নেতৃত্ব ও আদেশদানে পারদর্শী হতে হবে।

(১৩) নিরাপত্তা কর্মীদের সাথে সমন্বয় করার সক্ষমতা থাকতে হবে।

(১৪) যেকোনো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।

(১৫) শারীরিকভাবে ফিটনেস ও স্মার্ট হতে হবে। 

(১৬) আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলার সাহসী মনোভাব থাকতে হবে। তথা  স্থানীয় পুলিশ/র‌্যাব এদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

(১৭) সিকিউরিটি সুপারভাইজার ও ইনচার্জকে স্যালুট, সাবধান ও আরামে দাঁড়ানোর নিয়ম সঠিকভাবে জানা থাকতে হবে।  

(১৮) স্পষ্ট ভাষায় কথা বলার অভ্যাস থাকতে হবে।

(১৯) অন্যদের চেয়ে চালাক চতুর হতে হবে।

(২০) নিজের মধ্যে আমিত্বভাব দূর করতে হবে।

(২১) ডিউটি চলাকালীন নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

একজন আদর্শ সুপারভাইজার ও ইনচার্জ কেমন হওয়া উচিত

(১) সৎ ও চরিত্রবান। (২) সু-শৃঙ্খল ও ন্যায়পরায়ণ। (৩) বিচক্ষণ। (৪) বুদ্ধি দীপ্ত। (৫) উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা। (৬) অভিভাবকত্ত। (৭) দায়িত্ব জ্ঞানসম্পন্ন। (৮) জবাবদিহিতামূলক। (৯) মার্জিত ও রুচিবোধ সম্পন্ন। (১০) অধীনস্থদের  যত্ন নেয়া। (১১) তাদের পারিবারিক সমস্যা আগ্রহ সহকারে শুনে সান্ত্বনা দেয়া ও সমাধানের পথ দেখিয়ে দেয়া। (১২) কেউ অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। (১৩) ক্লায়েন্ট ও এবিএস এর মধ্যে সমন্বয়ক হিসাবে কাজ করার যোগ্যতা থাকা।

একজন আদর্শ সুপারভাইজার ও ইনচার্জ যে কাজগুলো করবে না

১। নৈতিকতা বিসর্জন দিতে হয় এমন কাজ।

২। শৃংক্ষলা ভংগ হয় এমন কাজ।

৩। কোম্পানীর সুনাম ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ।

৪। প্রচলিত আইন কানুন ভঙ্গ হয় এমন কাজ।

৫। ক্লায়েন্টের অর্থ সম্পদের ক্ষতি হয় এমন কাজ।

৬। কোনো তথ্য গোপন করা।

৭। নিজের হাতে আইন তুলে নেয়া।

৮। অনুমান ও আন্দাজ নির্ভর কোনো কাজ করা।

৯। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া।

১০। পক্ষপাতিত্ব বা গার্ডদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করা।

১১। উশকানিমূলক/বিদ্রোহীমূলক কোনো কাজ করা।     

১২। পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কাজ ।

সিকিউরিটি সুপারভাইজার

একজন সুপারভাইজার কোম্পানীর প্রতিনিধি হিসাবে পোস্টে দায়িত্ব পালন করে থাকে, একই সাথে পোস্টে কর্তব্যরত সকল প্রহরীর অভিভাবক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করতে হয়। অধিকন্ত একজন সুপারভাইজার প্রতিনিয়ত ক্লায়েন্টের সাথে প্রত্যক্ষ্যভাবে জড়িত থাকে বিধায় ক্লায়েন্ট ও এবিএস কোম্পানীর মধ্যে সমন্বয়ক হিসাবে একজন সুপারভাইজারকে কাজ করতে হয়। 

সিকিউরিটি সুপারভাইজার বলতে কি বোঝায়?

সুপারভাইজার এর অর্থ তত্ত্বাবধায়ক। সিকিউরিটি সুপারভাইজার হলেন এমন একজন পেশাদার কর্মী, যিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সম্পদ এবং জনবলের সুরক্ষায় নিয়োজিত নিরাপত্তা প্রহরী বা গার্ডদের কাজের তদারকি, নির্দেশনা প্রদান ও শিডিউল পরিচালনা করেন। তিনি নিরাপত্তা টিম ও প্রশাসনের মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে নিরাপত্তা প্রোটোকল নিশ্চিত করেন।

সিকিউরিটি সুপারভাইজারের বিশেষ দায়িত্বাবলী

১. সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা।

২. ব্যবহৃত সকল গেট পাস যাচাই করা।

৩. সকল গার্ডদের নিয়ন্ত্রণ করা।

৪. সিকিউরিটি গার্ড তাদের কাজ সঠিকভাবে পালন করছে কিনা তা পর্যবেক্ষন করা।

৫.  নিয়মিত গার্ড Recruiting করার ব্যবস্থা করা।

৬. প্রতিদিনের কাজের রেকর্ড প্রস্তুত করা।

৭. সিকিউরিটি ইনচার্জকে প্রতিদিনের কাজের রিপোর্ট প্রদান করা।

৮. গ্রাহকের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা।

৯. শ্রমিক কর্মচারী ইন আউট হওয়ার সময় মনিটরিং করা।

১০. গার্ড নির্দিষ্ট সময় পর পর টহলে যাচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করা।

১১. কারখানার চাবি সংরক্ষণ করা।

১২. কারখানায় নিয়োজি সুপারভাইজার সিটিপ্যাট অনুয়ায়ী দায়িত্ব সম্পন্ন করা।

সিকিউরিটি ইনচার্জ

যিনি সিকিউরিটি প্রধান হিসেবে একটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের তার অধীনস্থ নিরাপত্তা প্রহরীর মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করে থাকেন, তার অধীনস্থদের তত্ত্বাবধান ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন এবং প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা বা যন্ত্রপাতির দেখভাল করেন তাকে ইনচার্জ বলে।

একজন সিকিউরিটি ইনচর্জের কী কী দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

(১) অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শেখার ক্ষমতা থাকতে হবে।

(২) শক্তিশালী যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে।

(৩) সম্পর্ক স্থাপনের দক্ষতা থাকতে হবে।

(৪) বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের দক্ষতা থাকতে হবে।

(৫) মানুষের আচরণ বোঝা ও সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে।

(৬) অধীনস্থদের প্রশিক্ষণ দেয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।

(৭) গতানুগতিক চিন্তার  বাইরে চিন্তা করার মতো বিচক্ষণতা হতে হবে।

সিকিউরিটি ইনচার্জ এর বিশেষ দায়িত্বাবলী

(১) কোম্পানির সকল রকম নিরাপত্তা এবং রক্ষনাবেক্ষণ তত্ত্বাবধায়নের জন্য একজন  সিকিউরিটি ইনচার্জ কোম্পানির কাছে দায়বদ্ধ।

(২) এক জন সিকিউরিটি ইনচার্জ হিসেবে সার্বিক নিরাপওা দায়িত্ব পালন করা। নিরাপওা কর্মীরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে কিনা তা মনিটরিং করা।

(৩) ফ্যাক্টরীর প্রবেশ বাহির থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্ব পূর্ণ স্থানে ২৪ ঘন্টা নিরাপওা ব্যবস্থা জোরদার নিশ্চিত করা।

(৪) নিরাপত্তা কর্মীদের ইউনির্ফম সঠিকভাবে পরিধান করে ডিউটি করছে কিনা তা যাচাই করা এবং তাদেরকে তাদের দায়িত্ব  ও কর্তব্য বুঝিয়ে দেওয়া। মেইন গেইটে অনাকংঙ্খিত প্রবেশ বন্ধ করা তথা বিভিন্ন আগুন্তুক এর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ কল্পে দর্শনার্থী রেজিষ্টার সংরক্ষণ করা।

(৫) বিভিন্ন সময় ফ্যাক্টরী থেকে মালামাল  বের হওয়ার সময় প্রয়োজনীয় গেইট পাশ চালান চেক ও নথিভুক্ত সঠকভাবে হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা।

(৬) কোনো নিরাপত্তা কর্মী শৃঙ্খলা বহির্ভুত কাজে লিপ্ত হলে ফ্যাক্টরীর আইন অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করা এবং ফ্যাক্টরীর কর্তৃপক্ষের/গ্রাহকের নির্দেশনা মোতাবেক তাদের প্রহরা দেওয়ার স্থান পরিবর্তন করা।

(৭) কেবল মাত্র অনুমোদিত ব্যক্তিবর্গকে চিহ্নিত করার মাধ্যমে ফ্যাক্টরীতে ঢ়ুকতে দেওয়া ।

(৮) গ্রাহকের কোনো অভিযোগ থাকলে তা মনোযোগ সহকারে শোনা এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা।

(৯) সিকিউরিটি গার্ড  সঠিকভাবে ডিউটিতে আসে কিনা তা মনিটরিং করা।

(১০) এবিএসবি হেড অফিসের রিক্রুটমেন্ট লিংক সকলকে অবহিত করা ও রিক্রুটমেন্টের ব্যবস্থা করা।

(১১) এবিএসবি হেড অফিস এবং ক্লায়েন্ট এর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশাবলী ফিল্ড লেভেলে যথাযথভাবে পালন নিশ্চিত করা।

(১২) এবিএসবি এর বানিজ্যিক ব্যবসা প্রসারে সকলকে ফেসবুক, হোয়াটসএপ, লিংক্ডইনসহ সকল সোসাল মিডিয়ায় অংশ গ্রহণ করা। এইসব লিংকে যেসব পোস্ট করা হয় তা নিজ নিজ অবস্থান থেকে শেয়ার করা। এছাড়া অধীনস্থ সকল স্টাফ ও সহকর্মীদের সাথে এবিএসবি ওয়েব পেজ, ফেসবুকসহ সকল মিডিয়া কানেকশন এর মাধ্যমে এবিএসবিকে প্রচার করা।

(১৩) গ্রাহকের সাথে প্রতিদিন যোগাযোগ করা ও কোনো সমস্যা থাকলে তা জরুরী ভিত্তিতে সমাধান করা এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখা।

(১৪) কারখানায় নিয়োজিত ইনচার্জ সিটিপ্যাট অনুয়ায়ী দায়িত্ব সম্পন্ন করা।

(১৫) প্রতিষ্ঠানের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, নিরাপত্তা তত্ত্বাবধান, পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণ করা।

(১৬) অধীনস্থদের যথাযথ আদেশ দেয়া।

(১৭) সমস্যার মোকাবেলা করা ও সমস্যার সমাধান করার জন্য দলগতভাবে কাজ করা।

(১৮) সম্পত্তি দেখাশোনা করা।

(১৯) অধীনস্থ কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের কৌশল-মিশন,স্বীকৃতি এবং কোচিং ও সংশোধনমূলক অনুশীলনগুলো বাস্তবায়ন করা।

পোস্ট সুপারভাইজার ও পোস্ট ইনচার্জ এর সাধারণ নির্দেশাবলী

পোস্ট ইনচার্জ ও পোস্ট সুপারভাইজার এর কাজের পরিধি:

পোস্ট ইনচার্জ ও পোস্ট সুপারভাইজার এর কাজ বা দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী প্রায় একই। পোস্ট ইনচার্জ একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিষয়ক সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন আর পোস্ট সুপারভাইজার একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজনে মিলে খন্ড খন্ড দায়িত্ব পালন করেন। আবার যেখানে পোস্ট ইনচার্জ থাকেন না সেখানে একজন সুপারভাইজার থাকলে তিনিই ঐ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিষয়ক সার্বিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাই ঊভয়কেই ঊভয়ের দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী সম্পর্কে অবগত থাকতে হয়।

ডিউটি রোস্টারে বর্ণিত গার্ডদের পোস্ট অর্ডার মোতাবেক তাদের দায়িত¦ ও কর্তব্য তদারকির মাধ্যমে গুনগত মানসম্পন্ন সার্ভিস প্রদানে গ্রাহককে প্রত্যাশিত সেবা প্রদান নিশ্চিত  করা। পোস্ট ইনচার্জ ও পোস্ট সুপারভাইজারগণ সরাসরি গ্রাহক এবং ফিল্ড সুপারভাইজার (ঋঝঠ) বা এরিয়া ম্যানেজার বা জোন কমান্ডার এর নিকট তাদের কাজের জন্য রিপোর্ট করবে। ক্ষেত্র বিশেষে তারা সরাসরি অপারেশন ম্যানেজার (হেড অফিস) কিংবা অপারশেন ডাইরেক্টর (হেড অফিস) এর নিকট তাদের কাজের জন্যে রিপোর্ট করতে পারবে। পোস্ট ইনচার্জ ও পোস্ট সুপারভাইজার এর নির্দিষ্ট কোনো গার্ড পোস্ট থাকবে না। তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী হবে পেট্রোলিং বা টহল ভিত্তিক। টহল দুই প্রকার। যথা: গতিশীল টহল ও স্থিতিশীল টহল। একটি পোস্টে কয়েকটি গার্ড পোস্ট থাকতে পারে। সেখানে পোস্ট ইনচার্জ ও পোস্ট সুপারভাইজার একটু পর পর সব গার্ড পোস্ট ঘুরে ঘুরে তদারকী করে দেখবেন যে, তার অধীনস্থ গার্ডরা সঠিকভাবে চোখ কান খোলা রেখে অতি সতর্কতার সহিত দায়িত্ব পালন করছে কিনা। আর এটাই হচ্ছে গতিশীল টহল। যেখানে একটি গার্ড পোস্ট থাকবে সেখানে পোস্ট ইনচার্জ বা পোস্ট সুপারভাইজার ক্লায়েন্টের নির্দেশনা মোতাবেক পোস্টের আনুসঙ্গিক কাজের পাশাপাশি চোখ কান খোলা রেখে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পুরো এলাকা তদারকী করে নিশ্চিত থাকবেন যে, তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকা তার অধীনস্থ গার্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত কিংবা নিরাপত্তা বেষ্টিত। এভাবে দায়িত্ব পালন করার নাম হচ্ছে স্থিতিশীল টহল। পোস্ট সুপারভাইজার বা পোস্ট ইনচার্জের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে অধীনস্থ গার্ডদের নিকট থেকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী সঠিকভাবে আদায় করে নেয়া।

পোস্ট ইনচার্জ ও পোস্ট সুপারভাইজার এর সাধারণ দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী

(১) পোস্ট ইনচার্জ ও পোস্ট সুপারভাইজার একটি পোস্টের একজন অভিভাবক। তিনি হবেন একজন মডেল, যাকে অনুসরণ করে তার অধীনস্থ গার্ডরা চলবেন। সে জন্যে তিনি সঠিক ভাবে কোম্পানি কর্তৃক প্রদেয় ইউনিফরমের প্রতিটি অংশ (যেমন: শার্ট, প্যান্ট, মোজা, বুট, বেল্ট, ক্যাপ,আইডি কার্ড ইত্যাদি)  পরিধান করে ডিউটি শুরুর ১৫ মিনিট পূর্বে কর্তব্য স্থানে প্রতিনিয়ত উপস্থিত হবেন। তিনি কখনো পোস্টে দেরী করে আসবেন না এবং ডিউটি শেষ হওয়ার পূর্বেই কর্তব্য স্থান ত্যাগ করবেন না।

(২) পোস্ট ইনচার্জ বা পোস্ট সুপারভাইজার পোস্টে উপস্থিত হয়ে পোস্টের সব কিছু ঠিক আছে কিনা তা তদারকী করে নিশ্চিত হবেন এবং পূর্বের পোস্ট সুপারভাইজারের নিকট থেকে সব কিছু সঠিকভাবে বুঝে নিয়ে রেজিস্টারে স্বাক্ষর করবেন।

(৩)  কর্তব্যরত গার্ডদের ডিউটি শুরুর পূর্বেই ইউনিফরমের অন্যান্য অংশ যেমন: শার্ট, প্যান্ট, মোজা, বুট, বেল্ট, ক্যাপ,আইডি কার্ড  ইত্যাদি সঠিকভাবে আছে কিনা তা চেক করবেন। চেক করার সময় গার্ড এর হেয়ার কাট, সেভিং, বুট পালিশ, আইডি কার্ড সামনে ঝুলানো, ইস্ত্রি করা শার্ট-প্যান্ট এবং পোশাক-পরিচ্ছদ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন সঠিকভাবে আছে কিনা তা লক্ষ্য করবেন। পোস্ট ইনচার্জ বা পোস্ট সুপারভাইজার তার দায়িত্ব পালনের শুরুতে উল্লেখিত চেকগুলো করে নিশ্চিত হবেন যে, তার অধীস্থ গার্ডরা স্মার্ট এবং দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত।

(৪) প্রতি দিন গার্ডদের টার্ন আউট অর্থাৎ সালাম প্রদর্শন, সাবধান হওয়া ইত্যাদি ভালভাবে চেক করে নিশ্চিত হতে হবে যে, কোনো ভিজিটর বা অতিথি এলে তার অধীনস্থ গার্ড সাবধান হয়ে ভালভাবে একটা স্যালুট প্রদর্শন করতে পারবে। কোনো অতিথি বা কোম্পানির কোনো অফিসারকে গার্ড যদি সাবধান হয়ে স্যালুট প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয় বা সঠিকভাবে দিতে না পারে তার দায় দায়িত্ব পোস্ট ইনচার্জ বা পোস্ট সুপারভাইজার এর উপর বর্তাবে। সে জন্যে প্রতি দিনই গার্ডদেরকে স্যালুট প্রদর্শনের বিষয়টি ডেমো হিসাবে দেখাতে হবে।

(৫) পোস্ট ইনচার্জ বা পোস্ট সুপারভাইজারগণ প্রতিদিন নিশ্চিত করবেন যে,

(ক) তার অধীনস্থ গার্ড সঠিক সময়ে কোম্পানির নির্ধারিত পোশাক পরিধান করে কর্তব্য স্থানে উপস্থিত আছে।

(খ) গার্ডদের ডিউটি শুরুর পূর্বে সকল গার্ডকে সতর্ক ও সাবধানতার সহিত  ডিউটি করা এবং বিরাজমান নিরাপত্তার বিষয়ে ব্রিফ করা এছাড়া পোস্ট অর্ডার মোতাবেক গার্ডদের দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী বুঝে দেয়া।

(গ) প্রতি শিফ্টের ডিউটি শেষে পরবর্তী শিফটে পোস্ট সুপারভাইজারকে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া।

(ঘ) একইভাবে তিন শিফটের পোস্ট সুপারভাইজারগণ তাদের মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ এবং হস্তান্তর সম্পন্ন করা।

(ঙ) যেকোনো দূর্যোগ শুরু হলে সিকিউরিটি গার্ড তার কর্তব্য স্থান ত্যাগ করে অন্য কোথাও চলে গেছে কিনা তা নিশ্চিত করা। ঝড় তুফান শুরু হলে পূর্বেই আকাশের অবস্থা দেখে প্রতিটি পোস্টে ছাতা, গামবুট দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। দূর্যোগ মুহূর্তে সুপারভাইজারদের সার্বক্ষণিক তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় তৎপর থাকতে হবে।

(৬) সাপ্তাহিক গার্ড ডিউটি রোস্টার ভালভাবে বোঝা এবং রোস্টার মনিটর করা। গার্ডদের ওভার টাইম (ও টি) ডিউটি, ছুটির বিষয়ে তদারকি করা এবং প্রয়োজনে পোস্ট ইনচার্জ/ফিল্ড সুপারভাইজার এরিয়া ম্যানেজার/জোন কমান্ডার এর পরামর্শে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া।

(৭) অধীনস্থ গার্ডদের ডিউটি হাজিরা শিফট অনুসারে (এ, বি, সি ) কঠোরভাবে (১০০%) সংরক্ষণ করা এবং সেই অনুসারে গ্রাহককে সকল গার্ড ডিউটির উপস্থিতি শিফট অনুযায়ী প্রদান করা। মনে রাখতে হবে তিন শিফটের পোস্টে সকাল ০৬০০ থেকে ১৪০০ ঘটিকা এ  শিফট, ১৪০০ থেকে ২২০০ ঘচিকা বি শিফ্ট, ২২০০ থেকে ভোর ০৬০০ পর্যন্ত সি শিফ্ট হয়। সাধারনত: সাত দিন বা পনেরো দিন বা এক মাস পর পর এক জন গার্ডের শিফট পরিবর্তন হয়। কোন্ গার্ড কোন শিফটে ডিউটি করছে তা সঠিকভাবে হাজিরা রেজিস্টারে লিখতে হবে এবং সঠিক তথ্য ফিল্ড সুপারভাইজারকে সময় মতো জানাতে হবে। মনে রাখতে হবে কোনো গার্ডের একটা হাজিরা বা ডিউটি মিস হলে আর বেতন কম পেলে আপনাকে দোষারুপ করবে।

(৮) প্রতিটি গার্ড হাজিরা রেজিস্টারে সাক্ষর করেছে কিনা পোস্ট ইনচার্জ বা সুপারভাইজারগণ প্রতি দিন গার্ড হাজিরা রেজিস্টার সরেজমিনে চেক করে নিশ্চিত হবেন।

(৯)  পোস্টে কর্তব্যরত গার্ডদের কোম্পানির বিধি মোতাবেক ছুটির পরিকল্পনা এবং ছুটি করা । এই ক্ষেত্রে ছুটি অনুমোদনের পূর্বে ফিল্ড সুপারভাইজার বা এরিয়া ম্যানেজারকে অবশ্যাই অবগত করতে হবে।

(১০) একজন পোস্ট ইনচার্জ বা পোস্ট সুপারভাইজারকে পোস্ট অর্ডার, গার্ডদের দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী, রেজিস্টার মেইনটেইন, এ্যাকসেস কন্ট্রোল বা প্রবেশাধীকার নিয়ন্ত্রন, ভিজিটর ম্যানেজমেন্ট বা অতিথি ব্যবস্থাপনা, ফার্স্ট এইড ও পারসোনাল হাইজিন, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর, ভেহিকেল আন্ডার সার্চিং মিরর, আর্চওয়ে গেট, লাগেজ স্ক্যানার, সন্দেহজনক প্যাকেজ বা পারসেল বা মেইল বা চিঠি সনাক্ত করণ পদ্ধতি, কর্মচারী শিষ্টাচার, বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও মোকাবেলা করার পদ্ধতি, অগ্নি নিরাপত্তা ও অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রের ব্যবহার, প্যাট্রোলিং ডিউটি, ট্রাফিক কন্ট্রোলিং, সন্দেহজনক ব্যক্তি চেনার উপায়, জরুরী অবস্থায় করণীয় ইত্যাদি সম্পর্কে সম্মক জ্ঞান বা ধারণা থাকতে হবে এবং অধীনস্থ গার্ডদের উল্লেখিত বিষয়ে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে জানার বিষয়ে কারো কোনো ঘাটতি থাকলে নিজের ও গার্ডদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে  এবিএস  ট্রেনিং স্কুলকে সহায়তা করতে হবে।

(১১) পোস্টে নতুন কোনো গার্ড পোস্টিং করা হলে বা গার্ড পোস্টিং এর জন্য আবেদন করা হলে পূর্ব থেকেই তার থাকা ও খাবারের বিষয়টি ফিল্ড সুপারভাইজার/এররিয়া ম্যানেজার/জোন কমান্ডার এর সাথে পরামর্শক্রমে নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখবেন, ৬০% গার্ড পোস্ট ছেড়ে চলে যায় শুধু মাত্র তার থাকা ও খাবারের বিষয়টি নিশ্চিত না করার জন্যে।

(১২) পোস্ট থেকে কোনো গার্ড চাকরি ছেড়ে চলে যেতে চাইলে তাকে এক মাস পূর্বে হেড অফিসে পদ ত্যাগ পত্র জমা দেয়ার কথা বলতে হবে। কোনো গার্ড পোস্ট থেকে চলে গেলে তার ইউনিফরমের সকল আইটেম স্টোরে জমা নিশ্চিত করতে হবে।

(১৩) কোনো কারনে পোস্ট খালি হলে ফিল্ড সুপারভাইজার/এররিয়া ম্যানেজার/জোন কমান্ডার এর সাথে পরামর্শক্রমে নতুন গার্ড ট্রেনিং স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন গার্ড ভর্তির জন্য নিজ থেকে মিডিয়া বা সোর্স তৈরী করার সক্ষমতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

(১৪) কর্তব্যরত পোস্টে যদি কোন পোস্ট ইনচার্জ থাকে এবং  উক্ত ইনচার্জ কোনো কারণে ডিউটিতে অনুপস্থিত হয় সে ক্ষেত্রে ইনচার্জের কাজ করার জন্য পোস্ট সুপারভাইজারকে সর্বদা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে ।

(১৫) সুপারভাইজারগণ নিশ্চিত করবে যাতে পোস্ট অর্ডারের বিষয় বস্তু হয় সুস্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত যা গ্রাহকের প্রত্যাশার প্রতিফলন এবং নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট। পোস্ট অর্ডারে গ্রাহকের দেওয়া কোন নতুন বিষয় বস্তু যোগ করতে হলে ফিল্ড সুপারভাইজার বা এরিয়া ম্যানেজারকে অবগত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে ।

(১৬) গ্রাহকের বিশেষ জরুরী অবস্থায় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনে পোস্টের মালিকানাধীন সিকিউরিটি ম্যানেজার/ প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে আলোচনার মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পরিকল্পনায় সহযোগিতা করতে হবে। এই ক্ষেত্রে ফিল্ড সুপারভাইজারকে অবগত করে উক্ত পরিকল্পনায় সংযুক্ত করার জন্য কার্যকরি ব্যবস্থা নিতে হবে।

(১৭) সুপারভাইজারগন জরুরী অবস্থায় সাহায্যের জন্য অবশ্যই প্রয়োজন অনুসারে পুলিশ, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিসেস এর সাথে যোগাযোগ করবেন এবং ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের মোবাইল বা টি.এ্যান্ড.টির নাম্বার গার্ড রুম/পোস্টে ভালভাবে সংরক্ষণ করবেন। অর্থাৎ রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে রাখবেন এবং নিজের মোবাইলেও সেভ করে রাখবেন।

(১৮) সুপারভাইজারগন পোস্টে প্রাথমিক চিকিৎসার বক্স, ফায়ার এক্সটিংগুইসারসহ তল্লাশীমূলক কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে আছে কিনা তদারকি করবেন প্রয়োজনে ক্লায়েন্ট কর্তৃক নিয়োজিত সিকিউরিটি ম্যানেজার বা দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসারের সাথে যোগাযোগ করবেন।

(১৯) সুপারভাইজারগণ পোস্টে প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার রেজিস্টার সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করে পোস্টে সংরক্ষণ করবেন যদি এই দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গার্ডদের না দেওয়া হয়। যে সকল পোস্টে গার্ডরা নিজেই পোস্টে প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার রেজিস্টার সংরক্ষণ করে সেখানে প্রতি নিয়ত ভালভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে গার্ডরা সঠিকভাবে কাজটা সম্পন্ন করে।

(২০) সুপারভাইজারগণ নিশ্চিত করবে যাতে গার্ডরা সঠিক এবং কার্যকরভাবে তাদের উপর অর্পিত তল্লাশি কাজ সম্পন্ন করে। প্রয়োজনে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর/আর্চওয়ে গেট ব্যবহার করার নির্দেশ দিতে হবে। গাড়ী তল্লাশীর ক্ষেত্রে আন্ডার ভেহিক্যাল সার্চ মিরর ব্যবহারের নির্দেশ দিতে হবে। গার্ড এসব ইকুইপমেন্টের ব্যবহার না জানলে তাদেরকে শিখিয়ে দিতে হবে। সে জন্য পূর্ব থেকেই সুপারভাইজার এই সব বিষয়ে ট্রেনিং স্কুলে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।

(২১) কোনো বিদেশী ভিজিটর বা অতিথি এলে তাদের সাথে ইংরেজিতে কথোপকথন করার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অধীনস্থ গার্ডদেরকেও এতদ বিষয়ে কমপক্ষে ১০টি ইংরেজি বাক্য মুখস্থ করাতে হবে ও ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যস্ত করে গড়ে তুলতে হবে।

(২২) সুপারভাইজারগণ প্রয়োজন অনুসারে গার্ড-এর অবস্থান, ডিউটির মান এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে তদারকির জন্য প্রতি নিয়ত তার দায়িত্বপুর্ণ এলাকায় পায়ে হেঁটে টহল দিবেন। বিশেষ করে রাতে ডিউটি চলাকালীন অতি সতর্ককতা ও সাবধনতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রতিটি গার্ড ডিউটি পোস্টে প্রতি আধা ঘন্টা বা এক ঘন্টা পর পর টহল দিয়ে দেখতে হবে যে, গার্ড ডিউটি পোস্ট ছেড়ে কোথাও গেছে কিনা অথবা ঘুমিয়ে পড়েছে কিনা।

(২৩) সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, কোনো গার্ড বা অন্য কেহ ক্লায়েন্টের কোনো পতিত জিনিস পত্র বা অন্য কিছু যেনো চুরি করে না নিয়ে যায়।

(২৪) যে সব পোস্ট সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা সুরক্ষিত সেখানে সকলেই অতি সতর্কতার সহিত দায়িত্ব পালন করবেন। সকলকে সিসিটিভি ক্যামেরার গুরুত্ব বুঝিয়ে বলতে হবে যে, পোস্টে কেহ অপকর্ম বা অসামাজিক কাজ করলে বা কোনো কিছু চুরি করে নিয়ে গেলে তা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়বে।

(২৫) পোস্টে গার্ডের সংখ্যা বেশী হলে এবং প্রশিক্ষণের কোনো ঘাটতি থাকলে প্রয়োজনে অন জব ট্রেনিং বা রিফ্রেসার ট্রেনিং এর ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ট্রেনিং স্কুলকে অবগত করানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন।

(২৬) গার্ডের সাথে সুসর্ম্পক বজায় রাখতে হব। কোন গার্ডকে অযথা হয়রানী বা শাস্তি দেয়া যাবে না। কেহ কোন অপরাধ করলে তা র্উদ্ধত্বন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। নিজের মধ্যে কোন কিছু লুকিয়ে রাখা বা গোপন করে রাখা যাবে না।

(২৭) রাজনৈতিক সহিংসতায় আমাদের করণীয়:

(ক) পোস্টের সামনে হঠাৎ রাজনৈতিক সহিংসতা শুরু হলে সাথে সাথে কারখানার সকল গেট তালাবদ্ধ করতে হবে।

(খ) সিকিউরিটি গার্ড ভিতরে থেকে সেফ জোনে থেকে ডিউটি পালন করবে।

(গ) দেয়াল টপকে কাউকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না।

(ঘ) কোনো সিকিউরিটি গার্ড পোস্ট ফাঁকা রেখে অন্য কোথাও যাবে না।

(ঙ) রাতে এক সাথে দুইজন আধা ঘণ্টা পর পর টহল ডিউটি করবে, এসময় লাঠি, বাঁশি, ছাতা, গামবুট etc সাথে থাকবে।

(চ) চতুর্দিকে সার্বক্ষণিক চোখ, কান খোলা রেখে সর্বদা জাগ্রত থেকে অতি সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করবে।

(ছ) গোলাগুলি বা ইঁট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে কেউ উঁকি মেরে বাহিরে তাকাবে না।

(জ) পরিস্থিতির আপডেট একটু পর পর কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

(ঝ) কারখানায় কেউ যেনো ভাঙচুর বা আগুন লাগাতে না পারে সে জন্যে পোস্টের চতুর্দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

(ঞ) পরিস্থিতি বেশী খারাপ হলে বাহিরে যাওয়া যাবে না এবং কর্তৃপক্ষকে বলে পোস্টেই রান্নার ব্যবস্থা করতে হবে।

(২৮) গার্ড চলে যাওয়ার কারণসমূহ চিহ্নিত করে তা ফিল্ড সুপারভাইজারের সাথে পরামর্শক্রমে সমাধান করতে হবে।

(২৯) গার্ড চলে যাওয়ার কারণসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো:

(ক) গার্ডের সাথে দুর্ব্যবহার করা ও তাদের সাথে আন্তরিক না হওয়া।

(খ) সময় মতো ছুটি না দেয়া।

(গ) মেসে থাকা খাওয়ার সমস্যার সমাধান না করা।

(ঘ) DD/OT এর টাকা সঠিকভাবে না দেয়া।

(ঙ) গার্ডের দায়েরকৃত কোনো অভিযোগের দ্রুত ও কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা না নেয়া।

(চ) নানা অজুহাতে বেতন কর্তন করা।

(ছ) বেশী বেতন দেয়ার কথা বলে এনে কম বেতনের পোস্টে ডিউটি দেয়া।

(জ) সময় মতো বেতন না দেয়া ও মাসিক চাঁদা নেয়া।

(ঝ) DD/OT দেয়ার ক্ষেত্রে Partiality করা।

(ঞ) অতিরিক্ত ডিউটি করানো এবং অসুস্থ হলে খোঁজ খবর না নেয়া।

(চ) সামান্য অপরাধে শাস্তির পরিমান বেশী দেয়া।

(ছ) কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য (যেমন, বেতন কম পাওয়া, ছুটি না দেয়া, বেতন না পাওয়া ইত্যাদি বিষয়ে) হেড অফিসে এলে দৈনন্দিন দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা না নেয়া।

(জ) খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করা।

(ঝ) সুবিধাজনক পোস্টে বদলী না করা।

২৮) পোস্টে কোন ঘটনা যা নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট তা রিপোর্ট করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে এরিয়া ম্যানেজার/সেন্ট্রি কন্ট্রোল রুমকে জানানো ।

২৯) একজন আদর্শ পোস্ট ইনচার্জ বা পোস্ট সুপারভাইজার যে কাজগুলি করবে না:-

ক)  নৈতিকতা বিসর্জন দিতে হয় এমন কাজ।

খ)  শৃংখলা ভংগ হয় এমন কাজ।

গ)  কোম্পানির সুনাম ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ।

ঘ)  কোম্পানির অথবা ক্লায়েন্টের প্রচলিত আইনকানুন ভঙ্গ হয় এমন কাজ।

ঙ) ক্লায়েন্টের সম্পদের ক্ষতি হয় এমন কাজ।

চ) কোন তথ্য গোপন করা।

ছ) নিজের হাতে আইন তুলে  নেয়া।

জ) অনুমাণ ও আন্দাজ নির্ভর কোন কাজ করা।

ঝ) অন্যায় ও অনৈতিকতাকে প্রশ্রয় দেয়া।

ঞ) পক্ষপাতিত্ব করা।

ট) উস্কানি বা বিদ্রোহীমূলক কোনো কাজ করা।       

ঠ) পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কাজ করা।

ড) অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত হওয়া।

ঢ) ঘুষ, দুর্নীতি, পাচারকারী, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী ও মাদকের সাথে জড়িত হওয়া।

ণ) কারো সাথে মাস্তানী করা।

উপসংহার: পোস্ট ইনচার্জ ও পোস্ট সুপারভাইজারগণই হচ্ছেন কোম্পানির মূল বাস্তবায়নকারী। তাদের উপরই মূলত নির্ভর করে পোস্ট টিকে থাকা আর না থাকা। একজন আদর্শবান পোস্ট ইনচার্জ বা পোস্ট সুপারভাইজার তার উপর অর্পিত দায়িত্বাবলী সঠিকভাবে পালন করলে ক্লায়েন্ট যেমন সন্তুষ্ট থাকবে তেমনি কোম্পানির সুনাম বৃদ্ধি পাবে।

 

 

প্রশ্নোত্তর পর্ব

 

?

 

ধন্যবাদ

 

লেখক

মোঃ ইজাবুল আলম

চিফ ট্রেনিং অফিসার

বাংলাদেশ  সিকিউরিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (BSTI)

BCS সহ সরকারি বেসরকারি যেকোনো চাকরি পরীক্ষায় ১০০% প্রশ্ন কমন পেতে BBC এর উপর ক্লিক করুন 

BBC

কারখানা বন্ধ ও খোলার সময় নিরাপত্তা কর্মীদের করণীয় -লেখকঃ মোঃ ইজাবুল আলম

কারখানা বন্ধ ও খোলার সময় নিরাপত্তা কর্মীদের করণীয় লেখকঃ মোঃ ইজাবুল আলম ফ্যাক্টরি বা কারখানা বন্ধ (Closing) ও খোলার (Opening) সময় নিরাপত্...